আগরতলা: রাস্তার উপর পড়ে আছেন শিক্ষক। কেউ মার খেয়ে কাতরাচ্ছেন। কোথাও অচৈতন্য শিক্ষিকাকে নিয়ে হাসপাতালের পথে বাকিরা। এক জায়গায় পুলিশি মারে জখম শিক্ষিকার আর্তনাদ, কেন এভাবে মারলেন। চাকরি দিন না হলে বাচ্চা সঙ্গে নিয়ে আমি আত্মহত্যা করব।

অভিযোগ কর্মচ্যুত এই শিক্ষিকার সন্তানকেও পুলিশ পিটিয়েছে। সে মায়ের সঙ্গে ছিল ১০৩২৩ ধর্না মঞ্চে। শিক্ষিকার আর্তনাদ আগরতলার রাজপথ থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়েছে।

পরিস্থিতি রীতিমতো উত্তপ্ত আগরতলায়। কর্মচ্যুত ১০৩২৩ শিক্ষক শিক্ষিকার আন্দোলন মঞ্চ বুধবার সকালে ভেঙে দেয় পুলিশ। এর পরেই শিক্ষক শিক্ষিকারা ঘেরাও করেন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেবের বাসভবন। তাঁদের দাবি, বাড়ি বাড়ি চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে রাজ্যে ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি আইপিএফটি জোটের সরকার। কেন তারা প্রতিশ্রুতি রাখছেনা।

গত ৫১ দিন ধরে চাকরি অথবা বিকল্প কর্ম সংস্থান চেয়ে কর্মচ্যুত ১০৩২৩ জন শিক্ষক শিক্ষিকাদের আন্দোলন চলেছে। শান্তিপূর্ণ ধর্না আন্দোলনে অংশ নিয়ে ইতিমধ্যেই ৮৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এদের কয়েকজন আত্মঘাতী হয়েছেন। সর্বশেষ ২৫ জানুয়ারি এক বৃদ্ধ কর্মচ্যুত শিক্ষকের হৃদরোগে মৃত্যুর পর তাঁর দেহ নিয়ে শিক্ষা দফতরে অভিযান ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়ায়। উত্তেজিত আন্দোলনকারীদের কয়েকজন শিক্ষা দফতরে ঢুকে পড়ায় নিরাপত্তা রক্ষীরা কোনওরকমে সামাল দেন।

সাধারণতন্ত্র দিবসের রাতে মশাল মিছিল করে মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেব ও বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ দেখান শিক্ষক শিক্ষিকারা। বুধবার ভোর থেকে সম্পূর্ণ পরিবেশ অশান্ত। প্রথমে পুলিশ গিয়ে আন্দোলনকারীদের অবস্থান মঞ্চ ভেঙে দেয়।

এর পর শিক্ষক শিক্ষিকাদের মিছিল ঘেরাও করে মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবন। পুলিশ শুরু করে লাঠিচার্জ।আনা হয় জলকামান। লাঠি চার্জ ঘিরেই প্রবল বিতর্কে মুখ্যমন্ত্রী ও বিজেপি।

অভিযোগ, পুলিশ রীতিমতো উন্মত্ত আচরণ করেছে। রাস্তায় ফেলে শিক্ষিকাদের মারধর করা হয়। বেশ কয়েকজন জখম। তাদের চিকিৎসা চলছে। পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে হাতাহাতি হয়। কয়েকজন পুলিশের হাত থেকে বন্দুক কেড়ে নিতে যান।

অন্যদিকে বিরাট পুলিশ বাহিনি তাড়া করে শিক্ষক শিক্ষিকাদের। শুরু হয় লাঠি পেটা। বেশ কয়েকজন শিক্ষককে ঘিরে রাস্তায় ফেলে শুরু হয় মার। বিক্ষেভকারীদের অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রী ‘একনায়ক ভূমিকা’ নিয়েছেন, এ কেমন সরকার?

তাঁদের অভিযোগ, বিজেপি আইপিএফটি জোট সরকার নির্বাচনের আগে বাড়ি বাড়ি চাকরির প্রস্তাব দেয়। সেই দাবি মানা হয়নি। সম্প্রতি এক শিক্ষক আত্মঘাতী হওয়ার পর অভাবের জ্বালায় তাঁর স্ত্রী সহমরণ করতে গিয়েছিলেন। হৃদয় বিদারক এই ঘটনার জেরে গোটা দেশ নড়ে গিয়েছে আগেই। তারপরেই এক শিক্ষিকা নিজে বিষ খেয়ে সন্তানদের বিষ খাওয়ান। লাগাতার শিক্ষক শিক্ষিকার মৃত্যু মিছিল চলছে ত্রিপুরায়।

রাজ্যে বিগত বাম সরকারের আমলে চাকরি পেরেছিলেন এই ১০৩২৩ জন শিক্ষক শিক্ষিকা। তবে আদালত বলে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ত্রুটি আছে। বাম সরকার জানায় বিকল্প কর্মসংস্থান করা হচ্ছে। তবে সরকার পরিবর্তন হয়। বিজেপি আইপিএফটি জোট ক্ষমতায় আসে বাড়ি বাড়ি চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে। কিন্তু এই ১০৩২৩ শিক্ষক শিক্ষিকার চাকরি বা বিকল্প কর্মসংস্থান করা হয়নি। বিকল্প রোজগারের দাবিতে গত বছর থেকে ধর্না আন্দোলন চালাচ্ছেন তাঁরা।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.

করোনা পরিস্থিতির জন্য থিয়েটার জগতের অবস্থা কঠিন। আগামীর জন্য পরিকল্পনাটাই বা কী? জানাবেন মাসুম রেজা ও তূর্ণা দাশ।