আগরতলা: ক্যুইন প্রজাতির আনারসের পর কিউ প্রজাতির আনারসও এবার বিদেশে পাড়ি দিলো৷ এক বছর আগে ক্যইন প্রজাতির আনারস বিদেশে রপ্তানি শুরু হয়েছিলো৷ সোমবার রাজ্যের উন্নতমানের কিউ প্রজাতির আনারস মধ্যপ্রাচ্যের দুবাইতে রপ্তানির আনুষ্ঠানিক সূচনা হলো ত্রিপুরায়৷ মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব ঊনকোটি জেলার কুমারঘাট মোটরস্ট্যাণ্ডে আজ সকালে এই অনুষ্ঠানের সূচনা করেন৷

প্রথম পর্যায়ে ১৭ মেট্রিকটন কিউ প্রজাতির আনারস দুবাইয়ে রপ্তানি হচ্ছে৷ সাথে ৪,০০০ সুগন্ধী লেবুও দুবাইয়ে রপ্তানি হচ্ছে৷ ঊনকোটি জেলার দারচই, চিনিবাগান, দেওড়াছড়া, বেতছড়া ও ধলাই জেলার নালকাটার আনারস উৎপাদকদের আনারস আজ বিদেশে রপ্তানি হয়েছে৷ ত্রিপুরা সরকারের উদ্যান ও ভূমি সংরক্ষণ দপ্তর এবং নতুন দিল্লির এপিডার উদ্যোগে কিউ প্রজাতির আনারস বিদেশে রপ্তানির এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়৷ সরকারের এই উদ্যোগের ফলে এখন স্থানীয় আনারস ও লেবু চাষীরা উৎসাহিত৷ তারা বাড়তি আয়ের পথ খুঁজে পেলেন৷

 

দুবাইয়ে আনারস রপ্তানি অনুষ্ঠানের ফ্ল্যাগ অফ করে মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব বলেন, দেশ ও রাজ্যের অর্থনীতির বুনিয়াদ তৈরি হয় কৃষকের হাত ধরে৷ দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিজীর নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় সরকার ২০২২ সালের মধ্যে কৃষকের আয় দ্বিগুণ করার পরিকল্পনা নিয়েছে৷ রাজ্য সরকারও সেই লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে৷ সেই লক্ষ্যেই রাজ্য সরকার কৃষকদের উৎপাদিত পণ্য বিশেষ করে আনারস এবং অন্যান্য ফল ও সব্জি বিদেশে এবং বহির্রাজ্যে রপ্তানির উদ্যোগ নিয়েছে৷ এতে কৃষকদের রোজগার যেমন বৃদ্ধি পাবে তেমনি কৃষকরা রোজগারের আশায় উৎসাহিত হবেন৷

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এই রাজ্যে বর্তমানে ১৭০০ হেক্টর জমিতে আনারস চাষ হচ্ছে৷ রাজ্যে এবার ১ লক্ষ ২০ হাজারের মেট্রিকটনেরও বেশি ক্যুইন ও কিউ প্রজাতির আনারস উৎপাদিত হয়েছে৷ আগামী দেড়, দুই বছরের মধ্যে রাজ্য সরকার আনারসের উৎপাদন ৩ লক্ষ মেট্রিকটনে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে৷ এজন্য রাজ্যের প্রতিটি ব্লকে আনারস চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে৷ তিনি আরও বলেন, রাজ্যে আনারস উৎপাদনে জড়িত বেশিরভাগ কৃষকই হচ্ছেন জনজাতি সম্পদায়ের৷ তাই সরকার আনারস চাষে জনজাতি সম্পদায়ের কৃষকদের আরও বেশি করে উৎসাহিত করার পরিকল্পনা নিয়েছে৷

অনুষ্ঠানের সূচনার পর মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আজ এখান থেকে ১৭ মেট্রিকটন কিউ প্রজাতির আনারস বিদেশে রপ্তানি হলো৷ সাথে সুুগন্ধী লেবুও রপ্তানি হচ্ছে৷ রপ্তানিকারক সংস্থার মাধ্যমেও এখন পর্যন্ত ৫৪০ মেট্রিকটন ক্যইন ও কিউ প্রজাতির আনারস বহির্রাজ্যে রপ্তানি হয়েছে৷ রাজ্যের কৃষকদের উৎপাদিত পণ্য বিদেশে ও বহির্রাজ্যে রপ্তানির সরকারের এই উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে৷

তিনি বলেন, নতুন সরকার ক্ষমতায় এসেই কৃষকদের কল্যাণে বহু কর্মসূচি নিয়েছে৷ বর্তমান সরকারের উদ্যোগেই রাজ্যে প্রথমবারের মতো ভারতীয় খাদ্য নিগমের মাধ্যমে নূ্যনতম সহায়ক মূল্য ১৭.৫০ টাকা কেজি করে কৃষকদের উৎপাদিত ধান ক্রয় করার এক ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত রূপায়িত হয়৷ এই কর্মসূচিতে রাজ্যের কৃষকদের কাছ থেকে ১০ হাজার ৪০০ মেট্রিক টন ধান কেনা হয়েছিলো৷ এবছরও রাজ্যে খাদ্য দপ্তরের মাধ্যমে কৃষকদের কাছ থেকে ধান কেনার প্রক্রিয়া অব্যাহত আছে৷ মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্যের পূর্বতন সরকার কৃষক কল্যাণে এ সমস্ত কোনও পদক্ষেপই নেয়নি৷