আগরতলা: করোনাভাইরাস মোকাবিলায় চিকিৎসা পরিকাঠামো ও স্বাস্থ্য খাতে ত্রিপুরার বিরোধী দল সিপিআইএম বিধায়করা ২৫ লক্ষ টাকার তহবিল দিতে চান। কিন্তু বিজেপি পরিচালিত সরকার নীরব। এই অভিযোগ উঠতে শুরু করল। সিপিআইএম ত্রিপুরা রাজ্য কমিটির ফেসবুক পেজে দলের মুখ্য সচেতক তপন চক্রবর্তীর স্বাক্ষরিত একটি চিঠি প্রকাশ করা হয়েছে।

চিঠিতে বিরোধী ১৬ জন বাম বিধায়ক তাঁদের ২৫ লক্ষ টাকার তহবিল রাজ্য সরকারকে দিতে চান বলে জানানো হয়েছে। চিঠিতে আরও লেখা আছে বিরোধী দলনেতার নির্দেশে (প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার) গত ২৪ মার্চ তপনবাবু দেখা করেন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেবের সঙ্গে। মুখ্যমন্ত্রী সব শুনে বিষয়টি দ্রুত দেখবেন বলে জানান। অভিযোগ, আটচল্লিশ ঘণ্টা কেটে গেলেও করোনাভাইরাস মেকাবিলায় তহবিলের বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী কিছুই জানাননি।

চিঠিতে বলা হয়েছে, বিধায়ক এলাকা উন্নয়ন তহবিল থেকে এই অর্থ প্রদান করবেন বিরোধী বাম বিধায়করা। এই ২৫ লক্ষ টাকা দ্রুত সরকার গ্রহণ করুক। বাম বিধায়কদের তরফে এই চিঠি ঘিরে তোলপাড় ত্রিপুরা সহ উত্তর পূর্বের রাজনৈতিক মহল। আগেই পশ্চিমবঙ্গের বিরোধী বাম বিধায়করা তাঁদের রাজ্যে করোনা মোকাবিলায় ৩ কোটি ২০ লক্ষ টাকা দিয়েছেন। বাম শাসিত কেরল সরকার করোনা মোকাবিলায় বিপুল পরিকাঠামো রূপায়ণ করেছে, আর্থিক প্যাকেজ ঘোষণা হয়েছে।

এবার ত্রিপুরার বাম বিধায়কদের দেওয়া অর্থ নিতে গড়িমসি সেই বিতর্ক তৈরি হল। গত বিধানসভা নির্বাচনে ত্রিপুরায় টানা দু দশকের বাম শাসনের পর বিজেপি এবং আইপিএফটি জোটের সরকার তৈরি হয়। ত্রিপুরার বর্তমান স্বাস্থ্য কাঠামো নিয়ে বিস্তর অভিযোগ উঠতে শুরু করেছে। ভারতে করোনাভাইরাস সংক্রমণ ছড়িয়েছে। এই মারণ ভাইরাসে আক্রান্তদের সংখ্যা বাড়ছে। মৃত ১১ জন। তবে উত্তর পূর্বাঞ্চলে এখনও তেমন কিছু হয়নি। মনিপুরে এক মহিলার দেহে মিলেছে এই ভাইরাস। ত্রিপুরায় ভাইরাসটির সংক্রমণ রুখতে আগেই বাংলাদেশ সংলগ্ন সীমান্ত বন্ধ। দেশ জুড়ে চলছে লকডাউন।