আগরতলা: প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা বিরোধী সিপিআইএম নেতা মানিক সরকারের স্ত্রী পাঞ্চালি সরকার নিরাপত্তারক্ষী ছাড়াই অতি সাধারণ অবস্থান আগরতলা ঘোরেন। এই দৃশ্য দীর্ঘ দু’দশকের বেশি সময় দেখে অভ্যস্ত ত্রিপুরাবাসী।

বাম সরকার পাল্টে বিজেপি আইপিএফটি জোট ক্ষমতায় আসতেই মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেবের স্ত্রী নীতি দেবের নিরাপত্তা বহর ছিল চমকে দেওয়ার মতো। বিশেষ নিরাপত্তা বলয়ে ঘেরা থাকতেন তিনি।

শনিবার হঠাৎ মুখ্যমন্ত্রী জায়ার ফেসবুক পোস্ট ঘিরে শোরগোল পড়েছে। নীতি দেব এই পোস্টে নিজের নিরাপত্তা তুলে নেওয়ার আবেদন করেছেন সরকারের কাছে।

নীতি দেবের পোস্ট এমন সময়ে এসেছে, যখন মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধেই বিজেপি ও শরিক আইপিএফটি বিধায়কদের বড় অংশ বিক্ষুব্ধ।

সূত্রের খবর, অন্তত কুড়ি জন বিধায়ক নয়াদিল্লি গিয়ে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডার কাছে মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। এদের নেতৃত্বে আছেন প্রাক্তন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সুদীপ রায় বর্মণ। তিনি গত নির্বাচনের আগে পরপর কংগ্রেস ও তৃণমূল কংগ্রেস ত্যাগ করে বিজেপি যোগ দেন।

বিক্ষুব্ধ বিধায়কদের অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রী একনায়কতন্ত্র কায়েম করে সরকার চালাচ্ছেন। এতে সরকারের ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে দলের ভিতর ও জনগণের মধ্যে। এরকম চললে ত্রিপুরায় বিজেপির অস্তিত্ব সংকটে পড়বে। সরকারের পতন হবে। বেশ কয়েকজন বিধায়ক ইতিমধ্যে ফেসবুকে পোস্ট করে মুখ্যমন্ত্রী পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন।

দিল্লিতে জেপি নাড্ডার সঙ্গে বৈঠকের ঠিক আগেই মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেবের স্ত্রী নীতি দেব তাঁর নিরাপত্তা তুলে নিতে সরকারের কাছে আবেদন করেন। তিনি লিখেছেন,

“ত্রিপুরাবাসীর প্রতি আমার বিনীত প্রার্থনা :-

বলা হয়ে থাকে যে ভাগ্যবান লোকেরাই ভালোবাসা পেয়ে থাকে এবং সবসময়ই দেখা যায় যে আপনজনদের কাছ থেকেই বেশী ভালোবাসা পেয়ে থাকেন, তবে আমি মনে করি আমার থেকে বড় ভাগ্যবান লোক খুব কমই আছে যে সমগ্র ত্রিপুরাবাসীর কাছ থেকে ভরপুর ভালোবাসা পেয়েছে, বড়দের আশীর্বাদ পেয়েছি, জীবনসাথীর সঙ্গ পেয়েছি, ছোটোদের কাছ থেকে স্নেহ পেয়েছি এর জন্য আমি সবার কাছেই কৃতজ্ঞ।

আমি মনে করি আমি যদি ত্রিপুরার যেকোনো ঘরে চলে যাই বা যেকোনো গ্রামে চলে যাই অথবা ঘুরতে ঘুরতে কোথাও দূরে চলে যাই না কেনো আমার কাউর কাছ থেকে ভয়ের কোনো কিছু নেই, আমার ভীতির কিছু নেই।

কারণ যেখানে আমাকে এত ভালোবাসা দেওয়া হচ্ছে এর অর্থ হলো সারা রাজ্যই আমার রক্ষা করছে.. প্রত্যেকটি ঘর, প্রতিটি ব্যক্তি জাতি-ধর্ম- বর্ণ এমনকি আমি বলবো যে যেকোনো রাজনৈতিক দলের যেকেউই হোক, তার রাজনৈতিক চিন্তা ভাবনা যেমনই হোক, কেউ কখনো আমাকে আঘাত করার প্রচেষ্টাও করবেনা

বরং আমি এটা ভেবেই শক্তি পাই যে যারা আমাকে ভালবাসে তারা প্রত্যেকেই আমার রক্ষা করবে আর আপনাদের এই অপার বিশ্বাস এবং এই অটুট ভালোবাসার জন্যই আমি আজ একটি সিদ্ধান্ত নিতে চলেছি যে

সরকার দ্বারা আমাকে প্রদত্ত যে সরকারী সুরক্ষা ব্যবস্থা ও সরকারী প্রোটোকল রয়েছে তা আমি (সারেন্ডার) ছেড়ে দিচ্ছি। কারণ আমি মনে করি যেকোন কারণে আমার এবং সাধারণ জনগণের মধ্যে কোনো ধরনের ব্যবধান যেনো না থাকে।

আমি ততটাই আপনাদের কাছের লোক যতটা আপনারা আমাকে বুঝতে চাইছেন, আমাকে পেতে চাইছেন, আর যতটা আপনারা আমাকে আপনাদের সাথে এসে দাঁড়াতে দেখতে চাইছেন।

COVID-19 এর এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে আমি চাইছি যে আমার সুরক্ষার্থে যে অর্থরাশি খরচ হচ্ছে তা যেন জনগনের কল্যাণে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। আর যতটা সম্ভব আমাদের যোগদান করতে হবে আমাদের এই সমাজের জন্য কারণ আগামী দিনে আর্থিক ব্যবস্থার উন্নয়নে প্রত্যেক ব্যক্তির সহভাগিতা খুব জরুরী।

যখন আমরা আত্মনির্ভর ভারতের কথা বলি এর তাৎপর্য হল প্রত্যেক ব্যক্তির সহযোগিতা করতে হবে কারণ যতক্ষণ পর্যন্ত সমাজের প্রত্যেকটি ব্যাক্তি তাতে যোগদান না করবে ততক্ষণ পর্যন্ত পরিস্থিতিতে সাকারাত্মক পরিবর্তন সম্ভব নয়।

এই কারণেই আমি প্রশাসনের কাছে আগ্রহ প্রকাশ করছি যে আমাকে প্রদত্ত সুরক্ষা ব্যবস্থা সরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করুন। আন্তরিকভাবে সবাইকে ধন্যবাদ ও অভিনন্দন।”

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.

করোনাকালে বিনোদন দুনিয়ায় কী পরিবর্তন? জানাচ্ছেন, চলচ্চিত্র সমালোচক রত্নোত্তমা সেনগুপ্ত I