আগরতলা: ত্রিপুরার রাজনৈতিক মহল সরগরম৷ কারণ নির্বাচনী রিগিংয়ের অভিযোগকে মান্যতা পেল খোদ রিটার্নিং অফিসার তথা পশ্চিম ত্রিপুরা জেলা শাসকের রিপোর্টে৷ সেই রিপোর্টে বলা হয়েছে, এই লোকসভা কেন্দ্রের একাধিক বুথে সিসিটিভি ক্যামেরা ছিল অকেজো৷ কোথাও ভোটদানের ছবি সম্পূর্ণ রেকর্ড করাই হয়নি৷ ফলে বিরোধী সিপিএম ও কংগ্রেস যে বুথ রিগিংয়ের অভিযোগ তুলে পুনরায় নির্বাচনের দাবি জানিয়েছে সেই দিকেই গড়াতে শুরু করল জল৷ প্রবল অস্বস্তিতে পড়েছেন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেব ও তাঁর দল বিজেপি৷

লোকসভা নির্বাচনের প্রথম ধাপে ভোট গ্রহণ করা হয় পশ্চিম ত্রিপুরা লোকসভা কেন্দ্রের৷ ভোটের দিন ব্যাপক রিগিংয়ে অভিযোগ উঠে যায়৷ বিরোধী সিপিএম ও কংগ্রেসের দাবি, ক্রমাগত ছাপ্পা মারা হয়েছে৷ এরপরেই অভিযোগের ভিত্তিতে এই কেন্দ্রের বিভিন্ন বুথ ভিত্তিক রিপোর্ট খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেয় নির্বাচন কমিশন৷ যে রিপোর্ট দাখিল করেছেন রিটার্নিং অফিসার তাতে দেখা গিয়েছে-

*পশ্চিম ত্রিপুরা আসনের ৪৩৩ টি বুথে ভোটের দিন রিগিং হয়েছে।

*বহু বুথ রয়েছে যেখানে ক্যামেরার মধ্যে কোন ছবি ছিল না৷ এক মিনিটের ছবিও পাওয়া যায়নি।

*ভোট গ্রহণের সময়কাল সকাল সাতটা থেকে বিকাল ৫ টা পর্যন্ত৷ এই ১০ ঘণ্টা সময়ের রিটার্নিং অফিসার রিপোর্ট দিয়েছেন৷ বুথ ভিত্তিক হিসেবে তিনি বলেছেন ৩৭৯ টি বুথে ৯ ঘণ্টার কম ভিডিও রেকর্ডিং করা হয়েছে।

*কয়েকটি কেন্দ্রে ক্যামেরার কোনও মেমোরি কার্ডই ছিল না৷ বেশ কিছু বুথে ক্যামেরা তুলে ফেলা হয়েছিল।একটি বুথে তো ক্যামেরা কাপড় দিয়ে ঢেকে দেয়া হয়েছিল।

এছাড়াও মোহনপুর, বরজলা, সিমনা, টাকারজলা, বাধারঘাট, গোলাঘাটি, ধনপুর এসব বিধানসভায় বেশ কিছু বুথেও ক্যামেরা ফাঁকা৷ রিপোর্টে উঠে এসেছে, খোদ প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা বিরোধী নেতা মানিক সরকারের বিধানসভা এলাকা ধনপুরের কিছু বুথে ক্যামেরার এক মিনিটের ছবিও ধরা পড়েনি।

আরও পড়ুন: ত্রিপুরা: তরুণী ভোটারকে অশালীন স্পর্শ, অভিযুক্ত বিজেপি

রাজ্যে টানা দু দশকের বাম শাসনের পর গঠিত হওয়া বিজেপি-আইপিএফটি জোট সরকার গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে নব্বই শতাংশ আসনে বিপুল জয় পায়৷ তখনই অভিযোগ উঠেছিল ব্যাপক রিগিং করা হয়েছে৷ এরপর লোকসভা নির্বাচনে রাজ্যের দুটি কেন্দ্র ঘিরে নির্বাচনী উত্তপ্ত প্রবল আকার নেয়৷ বিরোধীদের উপর একাধিক হামলা অভিযুক্ত হন বিজেপি কর্মী সমর্থকরা৷ যদিও অভিযোগ অস্বীকার করে বিজেপি৷

লোকসভা নির্বাচনে ত্রিপুরা পশ্চিম কেন্দ্রে ভোটারদের বাধা দেওয়ার ঘটনা ছড়িয়ে পড়ে৷ তার জেরে নির্বাচন কমিশন চিন্তিত হয়৷ অন্যদিকে পূর্ব ত্রিপুরা কেন্দ্রে বাড়ি বাড়ি হুমকি চিঠি ও কাটা মুরগির মাথা পাঠানোর ঘটনায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়৷ পূর্ব নির্ধারিত দিনে নির্বাচন হয়নি৷ পরে নিরাপত্তা বাড়িয়ে এই কেন্দ্রের ভোট নেওয়া হয়েছে৷ সেখানেও কয়েকটি ক্ষেত্রে এসেছে বুথ রিগিংয়ের অভিযোগ৷