আগরতলা:  রাজ্যে পর্যটনের পরিমণ্ডল তৈরি হয়েছে বলে জানালেন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার। রাজ্যের ক্রমবর্ধমান উন্নয়ন নিয়ে ফিরিস্তি থাকলেও মুখ্যমন্ত্রী পর্যটন নিয়ে কোথাও তেমন উচ্চবাচ্য করেননি। সম্প্রতি উজ্জয়ন্ত প্রাসাদের পাশে সংস্কার করা শ্বেতমহলে নতুন আঙ্গিকে ফিরে আসা রাজ্য পর্যটন নিগমের প্রধান কার্যালয়ের দ্বারোদ্ঘাটন অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী খোলাখুলি রাজ্যে পর্যটনের সম্ভাবনার কথা বলেন। নিজেই জানালেন, এতদিন সেই পরিকাঠামো ছিল না বাইরের রাজ্যের পর্যটকদের ত্রিপুরায় বেড়াতে আসার জন্য ডেকে আনার মতো। ভাল হোটেল ছিল না, যোগাযোগ ব্যবস্থা ভাল ছিল না। টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থাও ছিল খুবই দুর্বল। শুধু পর্যটনের নিদর্শন থাকলেই তো হয় না, পর্যটকদের আসা–যাওয়া, থাকা–খাওয়া, যোগাযোগ ইত্যাদির উপযুক্ত পরিকাঠামো থাকা দরকার। তা না হলে পর্যটকদের মাধ্যমে ত্রিপুরা সম্বন্ধে বাইরে ভুল বার্তা যেত। সেই পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্যের সব গ্রাম, মহকুমা সদর, জেলা সদরের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ সম্ভব হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে বহু দাবির পর জাতীয় সড়ক অন্তত ডাবল লেনে উন্নীত করার সম্মতি মিলেছে। প্রয়োজনীয় বরাদ্দ না হওয়ায় ডাবল লেনের কাজ সেইভাবে শুরু হচ্ছে না। তাছাড়া কুকিতল থেকে সাব্রুম পর্যন্ত বিকল্প জাতীয় সড়কেরও অনুমোদন মিলেছে। সব মহকুমায় হেলিকপ্টার পরিষেবা চালু হয়েছে। আগে যেখানে দিনে দু–একটির বেশি উড়ান সম্ভব ছিল না, এখন আগরতলা বিমানবন্দরে প্রতিদিন ৮ থেকে ৯টি উড়ান চলে। একসময় তো তা বেড়ে ১৭–১৮টি গিয়ে ছাড়িয়েছিল। আগরতলা থেকে কলকাতা, গুয়াহাটি, দিল্লি, হায়দরাবাদ, চেন্নাই, বেঙ্গালুরু বিমানে আসা–যাওয়া যায়। বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে কলকাতার সঙ্গে সরাসরি বাস সার্ভিস চালু হয়েছে। আগামী বছরের মার্চ–এপ্রিল মাস নাগাদ উদয়পুর পর্যন্ত ব্রডগেজ ট্রেন চলাচল শুরু হয়ে যেতে পারে। দু–তিন বছরের মধ্যে সাব্রুম পর্যন্ত রেল চলাচলের জোর সম্ভাবনা। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎও একটি অন্যতম কারণ। এসব ছাড়াও টেলিযোগাযোগ পরিষেবাও আগের চাইতে উন্নত হয়েছে। পর্যটকেরা রাজ্যে এলে ভাল থাকা–খাওয়ার জায়গা চায়। এর জন্য ভাল হোটেল থাকা দরকার। আগরতলায় কিছু ভাল হোটেল হয়েছে। কেন্দ্রীয় সংস্থা আই টি সি–কে শহরের রাজর্ষী যাত্রীনিবাসের জমি দেওয়া হয়েছে। আশা করা হচ্ছে আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই হোটেল নির্মাণের কাজ শুরু করবে আই টি সি। চার তারা বিশিষ্ট হোটেল করবে তারা। তাছাড়া, লিচুবাগান এলাকায় বেসরকারি উদ্যেগে একটি স্টার ক্যাটাগরির হোটেল তৈরি হচ্ছে। কাজ আপাতত বন্ধ, তবে শিগগিরই কাজ শুরু হবে বলে হোটেলের মালিক জানিয়েছেন, বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, নানারকম পর্যটন সম্ভাবনা রয়েছে রাজ্যে। ধর্মীয় উদ্দেশ্যেও প্রচুর পর্যটক এ রাজ্যে আসে। ইকো ট্যুরিজম, বনভিত্তিক ট্যুরিজম, প্রাকৃতিক পর্যটন, দ্রষ্টব্য পর্যটন ইত্যাদি পর্যটনশিল্পে যথেষ্ট সম্ভাবনা রাজ্যের। এছাড়া বাংলাদেশকে ভিত্তি করেও রাজ্যে পর্যটনের যথেষ্ট সম্ভাবনার কথা জানান মুখ্যমন্ত্রী। এর জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের কাছেও প্রস্তাব পাঠাচ্ছে রাজ্য। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, পর্যটনকে কেন্দ্র করে রোজগারের পথ তৈরি হয়। বহু রাজ্য পর্যটন মারফত ভাল আয় করছে। আমাদের রাজ্যেও তা সম্ভব। এর জন্য পর্যটন নিগমের সঙ্গে যারা যুক্ত তাদের আরও দায়িত্ব ও আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। কারণ তারাই পর্যটকদের কাছে রাজ্যের প্রতিনিধি। তাদের অত্যন্ত ধৈর্যের সঙ্গে পর্যটকদের কথা শুনতে হবে। অন্য দপ্তরের সরকারি কর্মচারী হিসেবে মনে করলে ভুল করা হবে। এর জন্যই শ্বেতমহলের এই হেরিটেজ ভবনটিকে পর্যটন নিগমের কার্যালয় হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে। এই বাড়িটিকে তাই রাজ্য সরকার বহু কোটি টাকা খরচ করে সংস্কার করিয়েছে।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.

করোনা পরিস্থিতির জন্য থিয়েটার জগতের অবস্থা কঠিন। আগামীর জন্য পরিকল্পনাটাই বা কী? জানাবেন মাসুম রেজা ও তূর্ণা দাশ।