আগরতলা: ফের ইঙ্গিতময় বার্তা৷ এবার নিজের ফেসবুক থেকে জনপ্রিয় হিন্দি গান – জিন্দেগি হরকদম এক নয়ি জঙ্গ হ্যায় গান গাইলেন সদ্য মন্ত্রিত্ব হারানো সরকারের চোখ ‘বিভীষণ’ সুদীপ রায় বর্মণ৷ দল বিরোধী বিভিন্ন অভিযোগে স্বাস্থ্য মন্ত্রীর পদ থেকে সুদীপবাবুকে সরিয়ে দিয়েছেন ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেব৷ আপাতত রাজ্যের অন্যতম হেভিওয়েট নেতা এখন সাধারণ বিজেপি বিধায়ক৷

সুভাষ ঘাই পরিচালিত মেরি জঙ্গ ছবি মুক্তি পেয়েছিল ১৯৮৫ সালে৷ সেই ছবির নায়ক অনিল কাপুর৷ আর ছবির অন্যতম জনপ্রিয় গানটি নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াইকে তুলে ধরেছে৷ সেই গান গেয়ে সুদীপ রায় বর্মণ যে ঘুরে দাঁড়াতে চাইছেন তা পরিষ্কার করে দিলেন৷ শনিবার স্থানীয় এক সংবাদ মাধ্যমে একান্ত সাক্ষাতকারে তিনি জানিয়েছিলেন-বিশ্বাস রাখুন, যা হয়েছে তা ভালোই হয়েছে৷

ত্রিপুরায় দীর্ঘ দু দশকের বাম শাসনের অবসান হয় গত বিধানসভা নির্বাচনে৷ সেই নির্বাচনে সুদীপ রায়বর্মণের নেতৃত্বে দলত্যাগ করে বিধায়করা যোগ দিয়েছিলেন বিজেপিতে৷ তারপর বিপুল ভোটে জয় পেয়ে ক্ষমতায় আসে বিজেপি ও জোট আইপিএফটি৷ সুদীপবাবুকেই রাজ্যের রাজনীতিতে পরিবর্তের অন্যতম কাণ্ডারি বলে ধরা হয়৷

সুদীপ রায়বর্মণের মন্ত্রিসভা থেকে বাদ পড়ার পরেই প্রশ্ন উঠছে এরপর কার পালা ? কারণ মুখ্যমন্ত্রী আগেই জানিয়েছিলেন- তিনি দলের বিভীষণদের বিরুদ্ধে সার্জিক্যাল স্ট্রাইক চালাবেন৷ ফলে নতুন ছাঁটাইয়ের তালিকায় কারা কারা রয়েছেন তা নিয়েও জোর জল্পনা চলছে আগরতলার রাজনৈতিক মহলে৷ অভিযোগ, সুদীপবাবু তাঁর পুরনো দল কংগ্রেসের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেননি৷ নির্বাচনের সময় তিনি কংগ্রেসকে ভিতরে ভিতরে অনেক সাহায্য করেছেন৷ যদিও প্রাক্তন মন্ত্রীর দাবি- এসবই রটনা৷

এদিকে সদ্য মন্ত্রিত্ব চলে যাওয়া সুদীপ রায়বর্মণকে ঘিরে ত্রিপুরার রাজনৈতিক পরিস্থিতি আলোড়িত৷ সুদীপবাবু জানান- আমি সাধ্যমতো আমার দফতর স্বাস্থ্য বিভাগ ও বিজ্ঞান বিভাগের কাজ করতে চেয়েছি৷ এটা জনগণই বিচার করবেন কতটা ঠিক বা ভুল করেছি৷ মুখ্যমন্ত্রীর হয়ত আমার কাজ পছন্দ হয়নি, তাই তিনি আমাকে বাদ দিলেন৷ আমি নিজের স্বাস্থ্যে মনযোগ না দিয়েও স্বাস্থ্য বিভাগের জন্য কার করেছি৷

বাম জমানায় টানা বিধায়ক ও বিরোধী কংগ্রেস নেতা হিসেবে ত্রিপুরার রাজনীতিতে সুপরিচিত সুদীপ রায় বর্মণ৷ তাঁর পিতা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী সমীররঞ্জন বর্মণ৷ প্রথম সুদীপবাবু কংগ্রেস ছেড়ে অনুগামী বিধায়কদের নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিয়েছিলেন৷ ত্রিপুরা বিধানসভায় তৃণমূল হয়েছিল বিরোধী দল৷ পরে তিনি বিজেপিতে যোগ দেন৷ তারপরেই ত্রিপুরায় ক্ষমতা দখল করে বিজেপি৷ হাসপাতালের উন্নতিতে কোমর কষে নেমেছিলেন তিনি৷ এমনকি দুষ্কৃতিদের হাতে চিকিৎসকদের মার খাওয়ার ঘটনায় সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রকাশ্যেই ক্ষোভ দেখিয়েছিলেন৷ খোদ মন্ত্রীর মুখে নিরাপত্তা নিয়ে এমন কড়া সমালোচনায় অস্বস্তি বেড়েছিল মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেবের৷

সদ্য লোকসভা নির্বাচনে ত্রিপুরায় দুটি আসনেই জয় পেয়েছে বিজেপি৷ তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা, দুটি কেন্দ্রেই দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে কংগ্রেস৷ প্রধান বিরোধী সিপিএম নেমেছে তৃতীয় স্থানে৷ নির্বাচনী প্রচারে ত্রিপুরা প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি রাজা প্রদ্যোৎকিশোর দেববর্মা জানিয়েছিলেন- সুদীপ রায়বর্মণকে ফের ফিরিয়ে নেওয়া হবে কংগ্রেসে৷ আগেই বিজেপির রাজ্য সহ সভাপতি পদ ছেড়ে পুরনো দল কংগ্রেসে ফিরে এসেছেন সুবল ভৌমিক৷

Sudip Roy Barman यांनी वर पोस्ट केले रविवार, २ जून, २०१९