আগরতলা ও কলকাতা: চলতি চুটকি ও রাজনৈতিক স্লোগান হলো ‘বিপ্লব হটাও ত্রিপুরা বাঁচাও’। দলীয় বিধায়কদের বড় অংশ মনে করেন বিপ্লব নির্ভর দল আগামী নির্বাচনে ত্রিপুরায় ডুবতে চলেছে। তবে সেসব উড়িয়েই ‘সোনার বাংলা’ গড়তে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির স্টার প্রচারক হচ্ছেন ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেব।

এদিকে আগরতলার রাজনীতিতে রোজই মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লববাবুর বিরুদ্ধে অধিকাংশ বিজেপি বিধায়ক বিদ্রোহী ভূমিকা নিয়েছেন। এদের একাংশ প্রকাশ্যেই মুখ্যমন্ত্রীর মুন্ডপাত করে চলেছেন।
সূত্রের খবর, বিতর্ক থাকলেও বঙ্গ বিজেপি আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী কে আনতে মরিয়া। এর আগে লোকসভা নির্বাচনেও তিনি প্রচার করেছিলেন।

গত ২ ফেব্রুয়ারি পূর্ব বর্ধমান জেলার বর্ধমান শহরে সিপিআইএমের জনসভায় ত্রিপুরার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার একপ্রকার ঝড় তুলে দিয়েছেন। এমনই দাবি বাম মহলের। ত্রিপুরার বিরোধী নেতার দাবি, একবার সময় করে যে কেউ ত্রিপুরা আসুন, রাস্তায় পথ চলতি কারোর সঙ্গে কথা বলুন, যাকে জিজ্ঞেস করবেন সেই বলবে কী নিদারুণ পরিস্থিতি। শুধু কবে ভোট হবে সেই অপেক্ষা করছি।

মানিকবাবুর বিস্ফোরক দাবির পরেই পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মহল সরগরম। তিনি জনসভায় বলেন, ত্রিপুরা থেকে শিক্ষা নিন, বিজেপির বিষ গলায় নেবেন না। ত্রিপুরার কোনও সিপিআইএম নেতা, বিধায়ক, প্রাক্তন মন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলার দরকার নেই, সাধারণ মানুষের কাছেই বিপদের আঁচ বুঝতে পারবেন।

বর্ধমানে মানিকবাবুর জনসভার পরেই তাঁর ভাষণ সোশ্যাল মিডিয়া, ও সংবাদ মাধ্যমে ঝড় তুলেছে দুই রাজ্যে। এমনও মনে করা হচ্ছে, নিজ রাজ্যে বিধানসভা ভোটের দিকে তাকিয়ে পশ্চিমবঙ্গের জনসভাকে হাতিয়ার করে ‘সফল’ বর্ষীয়ান বাম নেতা।

মানিক সরকারের ভাষণের পরেই নড়ে চড়ে বসেছে পশ্চিমবঙ্গ ও ত্রিপুরা বিজেপি। সূত্রের খবর, দুই রাজ্য নেতৃত্ব ঠিক করেছেন, মানিকবাবুকে জবাব দিতে হবে। তাই মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেব কে বাংলার মঞ্চে নামানো হবে। কবে থেকে ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী প্রচার শুরু করবেন তা এখনো ঠিক হয়নি।

মানিক সরকার ত্রিপুরার টানা দু দশকের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন। সে রাজ্যে গত বিধানসভা নির্বাচনে বাম সরকারের পতন হয়, ক্ষমতায় আসে বিজেপি ও আইপিএফটি জোট সরকার। এর পর বারে বারে মু়খ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেব মহাভারতের যুগে ইন্টারনেট প্রসঙ্গ সহ বিভিন্ন বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন। এর জন্য সোশ্যাল মিডিয়ায় তীব্র শ্লেষাত্মক আক্রমণের মুখে পড়েছেন।

সম্প্রতি ত্রিপুরা বারবার শিক্ষক আন্দোলনে দেশে আলোচিত হচ্ছে। বাম আমলে দেওয়া ১০৩২৩ জন শিক্ষক শিক্ষিকার চাকরির নিয়োগে ত্রুটি ছিল। আদালত তাদের চাকরি বাতিল করে। বাম আমলেই বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। সরকার পরিবর্তনের পর এই কর্মচ্যুত শিক্ষক শিক্ষিকারা চাকরির দাবিতে আন্দোলন করে চলেছেন। আন্দোলন মঞ্চ ভাঙতে পুলিশের লাঠি চার্জ, বহু শিক্ষক শিক্ষিকাকে মারধরেন ঘটনায় বিপ্লব দেবের সরকার সমালোচিত। আত্মঘাতী ও অসুস্থ হয়ে মারা গেছেন ৮৫ জন শিক্ষক শিক্ষিকা।

অভিযোগ, ত্রিপুরায় বাড়ি বাড়ি চাকরি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বিজেপি। সেই প্রতিশ্রুতির ধারপাশে নেই বিপ্লব বাবুর সরকার। যদিও বিপ্লববাবুর দাবি, তিনি ত্রিপুরায় কর্মসংস্থানের নতুন পথ বের করেছেন। রাজ্যবাসী উপকৃত হচ্ছেন।

মানিক সরকারের ভাষণে বঙ্গ বাম উজ্জীবিত। তবে ত্রিপুরায় বিদ্রোহী বিজেপি নেতাদের একাংশের কটাক্ষ, বাংলায় দিলীপ ঘোষ গোরুর দুধে সোনা পেয়েছেন। তাঁকে টেক্কা দিতে বিপ্লব দেব এমন কিছু বলবেন তাতে দেশ নড়বেই! তিনিই তো ‘মহাভারতের সময় ইন্টারনেট ছিল’ তত্ত্বের জনক!!

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.

করোনা পরিস্থিতির জন্য থিয়েটার জগতের অবস্থা কঠিন। আগামীর জন্য পরিকল্পনাটাই বা কী? জানাবেন মাসুম রেজা ও তূর্ণা দাশ।