আগরতলা: সর্বশেষ উপজাতি স্বশাসিত এলাকা (এডিসি) নির্বাচনে বামফ্রন্টের নিরুঙ্কুশ সংখ্যা গরিষ্ঠতা ছিল। দু দশকের সেই দুর্গ ভেঙেছিল গত ২০১৮ সালের বিধানসভা ভোটে। উপজাতি পাহাড়ি এলাকায় বাম ভোটে ধস নামে। নতুন দল আইপিএফটি কে শরিক করে রাজ্যে ক্ষমতায় আসে বিজেপি।

দু দশকের টানা বাম শাসন পতনের পর বারবার ত্রিপুরা রাজনৈতিক সংঘর্ষে রক্তাক্ত হয়েছে। গত লোকসভা নির্বাচনে সেই সন্ত্রাস ছিল লাগামছাড়া এমনই অভিযোগ করে বিরোধী দল সিপিআইএম। পঞ্চায়েত ভোটে নব্বই শতাংশ আসন রিগিং করে দখলের অভিযোগে দেশজুড়ে বিজেপির সমালোচনা হয়। তবে বিজেপি সেই দবি উড়িয়ে দেয়।

রাজনৈতিক ঘাত প্রতিঘাতের রেশ ধরে মঙ্গলবার চলছে ত্রিপুরার ট্রাইবাল অটোনমাস ডিস্ট্রিক কাউন্সিল বা উপজাতি স্বশাসিত এলাকার ২৮টি আসনের ভোট। সকাল থেকেই বুথ দখল, রিগিং, গুলি চালনা ও বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষের খবরে সরগরম আগরতলার রাজনৈতিক মহল। বিরোধী দল সিপিআইএমের অভিযোগ, ভোট লুঠের ধারাবাহিক প্রক্রিয়া চলছে রাজ্যে। সরব কংগ্রেস। বোধজংনগরে গুলি চলেছে। জখম হয়েছেন একজন।

অভিযোগ বুথ দখল করতে গিয়ে আক্রান্ত হয়েছেন বিজেপির নেতা। সিপিআইএমের অভিযোগ ঘিরে সরগরম পরিস্থিতি। ভোটারদের ভোট কেন্দ্রে যেতে বাধা দেওয়ার ঘটনায় অভিযুক্ত বিজেপি ও আইপিএফটি। জানা গিয়েছে বাধা পাওয়ার ঘটনায় প্রবল উত্তেজনা ছডায় বিশ্রামগঞ্জে। ভেটাররা দলবেঁধে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।

বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষ চলছে ত্রিপুরার পার্বত্য এডিসি এলাকায়। গত বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর রাজ্যের বেকারত্ব সূচক দেশে দ্বিতীয় স্থানে। তবে কেন্দ্র সরকারের এই হিসেব উড়িয়ে বিজেপির দাবি, ডবল ইঞ্জিনের সরকারের আমলে প্রভূত উন্নয়ন হয়েছে।

বিধানসভার নির্বাচনের পর থেকেই মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেবের লাগাতার হাস্যকর মন্তব্য বারবার দেশজুড়ে তীব্র বিতর্ক তৈরি করেছে। বিরোধী নেতা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকারের দাবি, রাজ্যবাসী ফের পরিবর্তনের জন্য মুখিয়ে। এদিকে শাসক দল বিজেপির অভ্যন্তরে প্রবল বিদ্রোহ। একাধিক বিধায়ক মুখ্যমন্ত্রীর বদল চেয়ে পাল্টা শিবির তৈরি করেছেন।’বিপ্লব হটাও ত্রিপুরা বাঁচাও’ দাবিতে বিজেপির অন্দরমহল সরগরম।

গত বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাতারাতি কংগ্রেস থেকে তৃণমূল কংগ্রেস হন বিরোধী নেতারা। তাদের নেতৃত্ব দেন সুদীপ রায় বর্মণ। তিনি পরে অনুগামীদের নিয়ে ফের তৃণমূল ছেড়ে বিজেপি তে যান। ঘরে ঘরে চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিজেপি নির্বাচনে জয়ী হয়। সেই প্রতিশ্রুতি পূরণ হয়নি বলেই খোদ বিজেপির বিদ্রোহী শিবির ও রাজ্য চরম আলোচিত বিতর্ক। ইতিমধ্যে চাকরিচ্যুত শিক্ষক শিক্ষিকাদের মধ্যে ৯০ জন মৃত।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.