আগরতলা: নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলের প্রতিবাদে প্রকাশ্যেই উপজাতি আন্দোলনে পুলিশের গুলি চালানোর ঘটনায় সরকারের বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলেন৷ উপজাতি নেতাদের নিয়ে গোপনে রাজবাড়িতে মিটিংয়ের খবর ছড়িয়ে পড়েছিল৷ তারপরে করেছিলেন বিশাল মিছিল৷ এর পরেই কংগ্রেস নেতা তথা ত্রিপুরার বর্তমান রাজা (যদিও রাজতন্ত্র নেই) প্রদ্যোৎ কিশোর দেববর্মার বিরুদ্ধে দায়ের করা হল দেশদ্রোহ মামলা৷

ঘটনায় ত্রিপুরার রাজনৈতিক মহল সরগরম৷ উপজাতি এলাকা ও সংগঠনগুলিতে নতুন করে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে৷ অভিযোগ, নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলের প্রতিবাদে গত ৩০ জানুয়ারি খুমলুঙে সভা করেন রাজা প্রদ্যোৎ কিশোর৷ সেই সভায় দেশ বিরোধী স্লোগান দেয়া হয়েছিল। তার ভিডিও ক্লিপ থেকে পুলিশ জানতে পারে- বাই বাই ইন্ডিয়া স্লোগান দেওয়া হচ্ছে৷ তারি ভিত্তিতে রাজার বিরুদ্ধে দেশদ্রোহ মামলা দায়ের করা হয়েছে৷

জানা গিয়েছে, শুধু রাজা প্রদ্যোৎ কিশোর দেববর্মা নন দেশদ্রোহ মামলায় অভিযুক্ত করা হয়েছে বেশকিছু উপজাতি নেতার বিরুদ্ধেও৷ এছাড়াও রয়েছে শতাধিক আন্দোলনকারী৷ এই তালিকায় রয়েছেন উপজাতি সংগঠন আইএনপিটি নেতা জগদীশ দেববর্মা, আইপিএফটি (তিপ্রাহা গ্রুপ) নেতা অঘোর দেববর্মা সহ আরও বেশ কয়েকজন৷ পশ্চিম ত্রিপুরার জিরানিয়া মহকুমার রাধাপুর থানায় এই অভিযোগ দায়ের হয়েছে৷

এদিকে দেশদ্রোহ মামলা দায়ের হওয়ার পর প্রতিক্রিয়ায় রাজা প্রদ্যোৎ কিশোর জানান, এটা ব্যক্তিগত আক্রমণ৷ আমি দীর্ঘদিন ধরে রাজ্যে সিপিএমের বিরুদ্ধে লড়াই করছি৷ তারা কখনো ব্যক্তিগত আক্রমণ করেনি৷ তিনি আরও জানান, সেদিন আমি প্রথমে স্লোগান দিয়েছি প্রথমে জাতি তারপর পার্টি। এটা মহারাষ্ট্রে বা অন্য কোথায় দেওয়া হলে তাকে দেশপ্রেমিক বলা হয়৷ এখানে দেশদ্রোহী হিসাবে তকমা দেওয়া হল৷

নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলের প্রতিবাদে উত্তর পূর্বাঞ্চল ভারত অগ্নিগর্ভ৷ তীব্র কেন্দ্র সরকার বিরোধী আন্দোলন চলছে৷ অসম উত্তাল৷ নাগাল্যান্ড, মনিপুর, মেঘালয়, অরুণাচল প্রদেশেও বিক্ষোভ চলছে৷ ত্রিপুরাতেও শুরু হয়েছে উপজাতি জনগোষ্ঠীর তীব্র বিক্ষোভ৷ গত ৮ জানুয়ারি নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলের প্রতিবাদে উত্তর পূর্বাঞ্চলের সব রাজ্যেই বনধ পালন করে নর্থ ইস্ট স্টুডেন্ট অর্গানাইজেশন (নেসো)৷ সেইদিনই ত্রিপুরার মাধববাড়িতে পুলিশ গুলি চালায়৷ এতে কয়েকজন আন্দোলনকারী জখম হন৷ এর পর থেকে লাগাতার আন্দোলনে উত্তপ্ত ত্রিপুরা৷

রাজ্যে বাম শাসনের অবসানের পর ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি ও আইপিএফটি জোট৷ এই উপজাতি সংগঠনটি দীর্ঘ সময় ধরে পৃথক তুইপ্রাল্যান্ডের দাবিতে সরব৷ তাদের সঙ্গে নিয়ে সরকার গড়লেও কেন সেদিন গুলি চালানো হল, তার জেরেই ফুঁসছে অন্যান্য উপজাতি সংগঠনগুলি৷ একাধিক উপজাতি নেতৃত্ব বিজেপির বিরুদ্ধে ক্ষোভ দেখিয়ে পৃথক আন্দোলনের মঞ্চ তৈরি করেছেন৷ তাতে সামিল হন ত্রিপুরার রাজা প্রদ্যোৎ কিশোর৷

শুধু উপজাতিরাই নয়, নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলের প্রতিবাদে সামিল হয়েছে ত্রিপুরার প্রধান বিরোধী দল সিপিএম৷ বাম কর্মী সমর্থকরা আগরতলা সহ রাজ্যের অন্যত্র বিশাল মিছিল করে বিলের প্রতিবাদ করেন৷ প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকারও কেন্দ্র সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ দেখিয়েছেন৷ একইসঙ্গে তিনি মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেবের বিভিন্ন পদক্ষেপের সমালোচনা করেন৷

প্রতিবেশী মুসলিম ধর্মাবলম্বী জনসংখ্যা প্রধান রাষ্ট্রগুলি (পাকিস্তান, বাংলাদেশ, আফগানিস্তান) থেকে অ-মুসলিমদের ভারতে নাগরিকত্ব দেওয়ার বিল হল নাগরিকত্ব সংশোধনী৷তারই প্রতিবাদ চলছে উত্তর পূর্ব ভারতে৷ অভিযোগ, এই বিলটি আইন করা হলে বাংলাদেশ থেকে হাজারে হাজারে হিন্দু ও উপজাতি ঢুকতে শুরু করবেন৷ তাতে উত্তর পূর্বাঞ্চলের পরিস্থিতি টলোমলো হবে৷ আরও অভিযোগ- ধর্ম নিরপেক্ষ ভারতে কি করে ধর্মের ভিত্তিতে নাগরিকত্ব প্রদান করছে বিজেপি তথা এনডিএ সরকার৷