তিন তালাকের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলেছিলেন ইশরাত জাহান।  যুগান্তকারী রায়ও দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।  এরপর থেকেই তাঁকে নানাভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল বলে অভিযোগ।  আজ বৃহস্পতিবার সকালে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়ে যায় ইশারাতের ছেলে মেয়ে।  ছেলে জৈহস আলম এবং মেয়ে সাহিদা খাতুন।

পড়ুন আরও- তিন তালাকের বিরুদ্ধে লড়াই করে হাওড়ার ইশরাত এখন ‘ইসলামের শত্রু’

এই মুহূর্তে ইশরাত জাহান হাওড়ার গোলাবাড়ি থানাতে ছেলেমেয়ের নিখোঁজের অভিযোগ জানাতে গিয়েছেন।  প্রাথমিকভাবে পুলিশ খোঁজ করছে, তিন তালাকের বিরুদ্ধে আওয়াজ তোলাতেই কি এই ঘটনা না এর পিছনে রয়েছে কোনও পারিবারিক কারন?

তিন তালাক বাতিলের লড়াইয়ে সামিল হয়েছিল হাওড়ার মেয়ে ইশারাত জাহান৷ ২০১৪ সালে দুবাই থেকে ফোন করে তাঁর স্বামী তালাক দেয়৷ কিন্তু চুপচাপ তা মেনে না নিয়ে লড়াই করার সংকল্প নেনে তিনি৷ দারিদ্র ও প্রবল সমালোচনাকে উপেক্ষা করে সুপ্রিম কোর্টে পিটিশনও দায়ের করেন ইশারাত৷ সম্প্রতি এক যুগান্তকারী রায়ে দেশের শীর্ষ আদালত তাৎক্ষণিক তিন তালাককে অসাংবিধানিক বলে রায় দেয়৷ ইশারাত ভেবেছিলেন এবার বোধহয় তার লড়াই শেষ হল৷ কিন্তু এখন অন্য লড়াই চালিয়ে যেতে হবে তাকে৷

ধর্মীয় রীতির বিরুদ্ধে যাওয়ায় শাস্তিস্বরূপ ইশারাতকে সামাজিক ভাবে বয়কট করা শুরু হয়েছে৷ হাওড়ার পিলখানার বাসিন্দা ইশারাতকে এখন তার শ্বশুড়বাড়ির লোকেরা ও পাড়া প্রতিবেশীরা একঘরে করে দিয়েছে৷ এমনকী তাঁর চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন তুলতে ছাড়ছেন না কেউ কেউ৷

এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বৃহস্পতিবার ইশারাত জানিয়েছেন, সুপ্রিম কোর্টের রায় বেরনোর পর থেকে আমাকে প্রচুর অশালীন কথা শুনতে হয়েছে৷ আমার চরিত্র নিয়েও প্রশ্ন তুলতে ছাড়েনি৷ আমাকে ‘বাজে মহিলা’ ও ‘ইসলামের শত্রু’ মতো কথা শুনতে হয়েছে৷ প্রতিবেশীরা আমার সঙ্গে কথা বলা বন্ধ করে দিয়েছে৷