কলকাতা : তিন তালাক বিলে পড়ে গিয়েছে রাষ্ট্রপতির শিলমোহর৷ তবে এই সিদ্ধান্ত একেবারেই নাপসন্দ তৃণমূল কংগ্রেসের মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লা চৌধুরির৷ বৃহস্পতিবার তিনি পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন এই বিল তিনি মানছেন না৷

রাজ্যের গ্রন্থাগার মন্ত্রী ও জমিয়েত উলেমা এ হিন্দের পশ্চিম শাখার প্রধান সিদ্দিকুল্লা এদিন কড়া ভাষায় তিন তালাক বিলের সমালোচনা করেছেন৷ এই বিল মুসলিম মহিলাদের দুর্দশার কারণ হবে বলে তাঁর মত৷ কোনওবাবেই এই বিলকে মুসলিম সমাজ মেনে নেবে না বলে জানান তিনি৷ রাষ্ট্রপতির শিলমোহর দেওয়াকে তিনি মেনে নিচ্ছেন না বলেও দাবি সিদ্দিকুল্লার৷

বৃহস্পতিবার এক সাংবাদিক সম্মেলনে সিদ্দিকুল্লা দাবি করেন মুসলিম মহিলাদের নিরাপত্তা নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে কেন্দ্র সরকার৷ এই সম্প্রদায়ের মহিলাদের নিরাপত্তা ও সামাজিক সুরক্ষার বিষয়টি না ভেবেই কেন্দ্র এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে মত তাঁর৷

তাঁর দলের পক্ষ থেকে কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে বৃহত্তর আন্দোলনের পথে যাওয়া হবে বলে জানানো হয়৷ সেন্ট্রাল কমিটির বৈঠকে এই নিয়ে চূড়ান্ত আলোচনা হবে জানানো হয়৷

উল্লেখ্য বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতি কোবিন্দ সম্মতি দেন তাত্ক্ষণিক তিন তালাক বিলে। অর্থাত্‍ রাষ্ট্রপতির সম্মতি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আইনে পরিণত হয়ে গেল সেই বিলটি। যার ফলে কোনও মুসলিম পুরুষ তাঁর স্ত্রীকে তাত্‍ক্ষণিক তিন তালাক দিলে সেই অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাঁকে জেল খাটতে হবে।

এই আইনে সর্বোচ্চ তিন বছরের সাজার নির্ধারণ করা হয়েছে। বিতর্কিত এই বিলটি নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই সংসদে উত্তাল হয়েছে। প্রথমবার নরেন্দ্র মোদী সরকার ক্ষমতায় এসে তাত্‍ক্ষণিক তিন তালাক বিল লোকসভায় পাস করে।পরে রাজ্যসভাতেও পাশ হয়ে যায় সেই বিল।

ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হবে তাৎক্ষণিক তিন তালাক। মঙ্গলবার রাজ্যসভায় এই বিলের ৯৯ ভোট পড়ে৷ যেখানে বিপক্ষে ভোট পড়ে ৮৪টি৷তিনবার পরপর তালাক বলে ডিভোর্স দেওয়ার রীতি মুসলিম ধর্মে রয়েছে, তাকেই এই বিলে শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলে গণ্য করা হবে।