নয়াদিল্লি: তাৎক্ষণিক তিন তালাক বিরোধী বিল পাস করাতে মরিয়া মোদী সরকার৷ তাই কৌশলী পদক্ষেপের মাধ্যমেই এগোতে চাইছে তারা৷ সম্ভবত সেই কারণেই মঙ্গলবার রাজ্যসভায় পেশ করা হল না এই বিল৷ পরিবর্তে আগামিকাল রাজ্যসভায় এই বিল পেশ করার সম্ভাবনা রয়েছে৷

আরও পড়ুন: তিন তালাকের বিরুদ্ধে আইনি লড়াই জিতে বিজেপিতে ইসরত

নয়াদিল্লি সূত্রে খবর, লোকসভা ধ্বনি ভোটে তিন তালাক বিল পাস হলেও রাজ্যসভায় তা হওয়ার সম্ভাবনা কম৷ সংসদের উচ্চকক্ষে কংগ্রেস-সহ বিরোধীরা সংখ্যাগুরু৷ সেই ফর্মুলাকে কাজে লাগিয়ে তিন তালাক বিলে কিছু বদল আনতে তৎপরতা শুরু হয়েছে কংগ্রেস-সহ বিরোধী দলগুলির মধ্যে৷

সূত্রের খবর, কংগ্রেস, ডিএমকে, এআইএডিএমকে-সহ একাধিক রাজনৈতিক দল চাইছে তিন তালাক বিল সংসদীয় কমিটির কাছে যাক৷ তাদের মূল আপত্তি তিন তালাককে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা নিয়ে৷ ওই বিলে তিন তালাক দিলে তিন বছরের কারাদণ্ডের ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে৷ এর ফলে মুসলিম মহিলাদের ক্ষতি হবে বলেই মনে করছে কংগ্রেস৷ এই বিষয়েই আলোচনা চেয়ে বিলটিকে সংসদীয় কমিটির কাছে পাঠাতে চাইছে রাহুল গান্ধীর দল৷

আরও পড়ুন: তিন তালাকের পর এবার বহুবিবাহ রদের দাবিতে মুসলিম মহিলারা

সেটা বিলক্ষণ টের পাচ্ছেন নরেন্দ্র মোদী৷ তাই তিনিও চাইছেন সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয়ে যাক রাজ্যসভায়৷ আর তাতে লাভ বিজেপিরই৷ কারণ, ইতিমধ্যেই ভোটবাক্সে তিন তালাকের সুফল পেতে শুরু করেছে বিজেপি৷ গত বছরের শুরুতে উত্তরপ্রদেশে একজন মুসলিম প্রার্থী না দিয়েও সংখ্যালঘু ভোটব্যাংকের একটা বড় অংশ বিজেপির দিকে সরেছে৷ সাম্প্রতিক গুজরাত বিধানসভার ভোটেও এই চিত্র সামনে এসেছে৷ ফলে তিন তালাক বিরোধী বিল পাস হয়ে গেলে এই নিয়ে বিজেপি আরও প্রচারে নামতে পারবে৷ সেক্ষেত্রে মুসলিম মহিলা ও মুসলিম সম্প্রদায়ের শিক্ষিত অংশকে আরও বেশি করে কাছে টানা সম্ভব বলে মনে করছে গেরুয়া শিবির৷ তাই রাজ্যসভা এই বিল পাস করাতে মরিয়া বিজেপি৷ রাজনৈতিক মহলের দাবি, তাই সরকারের তরফে এ নিয়ে বিরোধীদের সঙ্গে ঐক্যমত্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করা হচ্ছে৷

আরও পড়ুন: লোকসভায় পাস হয়ে গেল তিন তালাক বিল