স্টাফ রিপোর্টার, বাঁকুড়া: পঞ্চায়েত ভোটের আগে বাঁকুড়ার পুরোহিতদের পাশে চাইছে তৃণমূল৷ রাজ্যের অন্যান্য অংশের সঙ্গে শাসক দলের প্রত্যক্ষ মদতে এই জেলাতেও তৈরি হয়েছে পুরোহিত ও টোল পণ্ডিতদের সংগঠন৷ মঙ্গলবার নবগঠিত এই সংগঠনের জেলা সম্মেলনে ‘পুরোহিত ও টোল পণ্ডিতদের পাশেই আছে রাজ্য সরকার’ এই বার্তাই যেন বার বার ধ্বনিত হল তৃণমূলের জেলা নেতা, মন্ত্রী, সাংসদ, বিধায়কদের মুখে৷

আরও পড়ুন: শালীনতার মাত্রা ছাড়িয়ে ফের মুখ্যমন্ত্রীকে কড়া আক্রমণ সেলিমের

মঙ্গলবার বাঁকুড়া জেলা টোল পণ্ডিত ও পুরোহিত সমিতির জেলা সম্মেলনের উদ্বোধন করেন বিধায়ক অরূপ খাঁ। উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রী শ্যামল সাঁতরা, সাংসদ সৌমিত্র খাঁ, বাঁকুড়া পুরসভার চেয়ারম্যান মহাপ্রসাদ সেনগুপ্ত, প্রাক্তন বিধায়ক শুভাশিস বটব্যাল-সহ জেলার তৃণমূল বিধায়ক ও জনপ্রতিনিধিরা৷

এদিন বাঁকুড়া জেলা টোল পণ্ডিত ও পুরোহিত সমিতির সম্মেলনের জেলার সব ক’টি ব্লক থেকে কয়েক হাজার টোল পণ্ডিত ও পুরোহিতরা অংশ নিয়েছিলেন বলে দাবি সংগঠনের কর্মকর্তাদের৷ জেলার ২২টি ব্লক থেকেই সম্মেলনে পুরোহিত ও টোল পণ্ডিতদের আসার জন্য গাড়ির ব্যবস্থা করা হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে৷

আরও পড়ুন: বাইচুং-তৃণমূল সম্পর্ক নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস করলেন মুকুল!

উপস্থিত বক্তারা প্রত্যেকেই এদিন পুরোহিতদের পাশে সবসময় রাজ্য সরকার আছে বলে বার্তা দেন। কোনওরকম প্ররোচনায় পা না দিতেও তারা অনুরোধ করেন। মন্ত্রী শ্যামল সাঁতরা বলেন, ‘‘পুরোহিতদের স্থান অনেক উপরে। আপনারা সাধারণ মানুষের বাড়ি বাড়ি যান। রাজ্য সরকারের উন্নয়নমুখী প্রকল্পের প্রচার আপনারাই করতে পারেন।’’ একই সঙ্গে তিনি পুরোহিত ও টোল পণ্ডিতদের সরকারী সুযোগ সুবিধা দেওয়া যায় কিনা তা নিয়েও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাথে কথা বলবেন বলে জানান।

আরও পড়ুন: তাহলে কি বিজেপিতেই যাচ্ছেন বাইচুং?

সাংসদ সৌমিত্র খাঁ বলেন, ‘‘জন্ম থেকে মৃত্যু। আপনারা পুরোহিত সমাজ মানুষের সঙ্গে আছেন। আর আপনাদের সঙ্গে আছে রাজ্য সরকার। এছাড়াও প্রাক্তন বিধায়ক শুভাশিস বটব্যাল দলের সাংসদ-বিধায়কদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘‘আপনারা ভেবে দেখতে পারেন সাংসদ বা বিধায়কদের এলাকা উন্নয়ন তহবিল থেকে যদি জেলায় চালু থাকা টোলগুলির জন্য বাড়ি তৈরি করে দেওয়া যায়। কারণ, টোল শিক্ষার অন্যতম মাধ্যম। তাই এই টোলের উন্নয়ন জরুরি।’’

আরও পড়ুন: অভাবী মেধার ‘মৃত্যু’ রুখতে পাশে ‘সবুজ বন্ধু’রা

বাঁকুড়া জেলা টোল পণ্ডিত ও পুরোহিত সমিতির বাঁকুড়া জেলা সভাপতি দয়াময় গোস্বামী বলেন, ‘‘আমরা পুরোহিত সমাজ দাবি করতে তো পারিনি। প্রার্থনা করতে পারি। আমাদের প্রার্থনা পুরোহিতদেরও রাজ্য সরকারের ‘স্বাস্থ্য সাথী’ প্রকল্পে অন্তর্ভুক্তির কথা বলেন।’’ একই সঙ্গে অন্যান্য সুযোগ সুবিধা দিলে অনেক গরিব পুরোহিত উপকৃত হবেন বলেও তিনি জানান।

সপ্তম পর্বের দশভূজা লুভা নাহিদ চৌধুরী।