স্টাফ রিপোর্টার, শ্রীরামপুর: জেলা তৃণমূলের কোর কমিটি ও জেলা তৃণমূলের মুখপাত্রের পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার পরই উত্তরপাড়ার তৃণমূল বিধায়ক প্রবীর ঘোষালকে কড়া আক্রমণ করলেন শ্রীরামপুরের তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়৷  প্রবীর ঘোষালকে দু’ মুখো সাপ বলে কটাক্ষ করেছেন৷ মঙ্গলবার প্রবীর দলের বিরুদ্ধে সরব হওয়ার পরেই উত্তরপাড়ায় তাঁর দলীয় কার্যালয়ের বাইরে বিক্ষোভ দেখান তৃণমূল কর্মীদের একাংশ৷

এদিন উত্তরপাড়ার তৃণমূল বিধায়কের  সাংবাদিক সম্মেলনের পরেই তাঁর বিরুদ্ধে খড়হস্ত হন শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ‘‘যাঁরা কাজ করতে চান, তাঁদের কোনও পদ লাগে না। ২০১৬ সালে মমতাদি টিকিট দিয়েছিলেন বলেই বিধায়ক হয়েছিলেন। তাই এত বড় বড় কথা বলছেন, আসলে উনি হচ্ছেন দুমুখো সাপ।’’

এদিকে, প্রবীরের সাংবাদিক সম্মেলন শেষ হওয়া মাত্রই তাঁর অফিসের সামনে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন তৃণমূল কর্মীরা। বিক্ষোভ দেখিয়ে তাঁরা স্লোগান দেন, ‘গদ্দার হঠাও!’ প্রসঙ্গত, হুগলী জেলা তৃণমূলে প্রবীর ঘোষালের সঙ্গে হুগলী জেলা তৃণমূলের সভাপতি দিলীপ যাদবের দ্বন্দ্ব সর্বজনবিদিত। সূত্রের খবর, এদিন বিধায়ক কার্যালয়ের সামনে দিলীপ আনুগামীরাই ‘গদ্দার হঠাও’ স্লোগান দিয়ে প্রবীরবাবুর অপসারণের দাবি তুলেছেন।

বেশ কিছুদিন ধরেই বেসুরো প্রবীর ঘোষাল। দলের বিরুদ্ধে একাধিক মন্তব্যও করেছেন তিনি। এমনকী মুখ্যমন্ত্রীর পুরশুড়ার সভাতেও যাননি। বলেছিলেন মঙ্গলবার বিশেষ ঘোষণা করবেন। পূর্বঘোষণা মতোই এদিন সাংবাদিক বৈঠক করেন তিনি। সেখানে সরাসরি দলের একাধিক নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন। জেলার একটি কলেজের ভবন উদ্বোধন নিয়ে জটিলতা প্রসঙ্গে আলোচনা করতে গিয়ে বললেন, “আমি নিজে মুখ্যমন্ত্রীকে গোটা পরিস্থিতি জানিয়েছিলাম। উনি সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়েছিলেন। আমার সামনেই পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে ফোন করে বিষয়টি দেখার নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু এখনও কিছুই হয়নি।” তাঁর অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রীর কথা কেউ শোনেন না।

প্রবীরবাবুর অভিযোগ, তাঁকে হারানোর জন্য দলের মধ্যে ষড়যন্ত্র চলছে। এমন পরিবেশ তৈরি হয়েছে যেখানে তিনি কাজ করতে পারছেন না। এরপরই বলেন, “আমি ভেবেছিলাম বিধায়ক পদ থেকে ইস্তফা দেব। কিন্তু বিধায়ক না থাকলে সাধারণ মানুষকে হয়রানির শিকার হতে হয়। তাই সিদ্ধান্ত বদল করতে বাধ্য হয়েছি।” এরপরই জেলার তৃণমূলের কোর কমিটির সদস্যপদ ও জেলা তৃণমূলের মুখপাত্রের পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা ঘোষণা করেন প্রবীর ঘোষাল। তবে কি তৃণমূলও ছাড়বেন তিনি? প্রশ্নের উত্তরে বলেন, “কাজ করতে পারছিলাম না, নিজেকে ব্রাত্য মনে হচ্ছিল। তবে দল ছাড়ব কি না জানি না, সেসব নিয়ে ভাবিনি।”

এর পরেই তাঁকে শো কজ করার সিদ্ধান্ত নেয় দল৷ উত্তরপাড়ার বিধায়ক অবশ্য জানিয়েছেন, চিঠি হাতে পাওয়ার পরই যা জবাব দেওয়ার দেবেন তিনি৷সোমবারই পুরশুড়ার সভা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বুঝিয়ে দিয়েছিলেন, যাঁরা দল ছাড়তে চান তাঁরা যেন তাড়াতাড়ি চলে যান৷ এর থেকেই বিক্ষুব্ধদের প্রতি কড়া মনোভাব স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন তৃণমূলনেত্রী৷ ফলে প্রবীরের বিরুদ্ধেও একই পথ অবলম্বন করল শাসক দল৷

প্রসঙ্গত, সাংবাদিক হিসেবে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে প্রবীরবাবুর সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। সূত্রের খবর, সেই সম্পর্কের জেরেই এদিন উত্তরপাড়ার বিধায়ককে শোকজ ও সতর্ক করেই ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। দলীয় শোকজ ও বিক্ষোভ প্রসঙ্গে প্রবীর বলেছেন, ‘‘আগে দেখি কী বিষয়ে ওরা জানতে চেয়েছে। তারপর উত্তর দেব। আর বিক্ষোভ প্রসঙ্গে কি আর বলব। উত্তরপাড়ার মানুষ আমার সঙ্গে রয়েছে। আর যাঁরা আমাকে গদ্দার বলছেন, দলই তো আমার সঙ্গে গদ্দারি করেছে।’’

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.

করোনা পরিস্থিতির জন্য থিয়েটার জগতের অবস্থা কঠিন। আগামীর জন্য পরিকল্পনাটাই বা কী? জানাবেন মাসুম রেজা ও তূর্ণা দাশ।