নিবেদিতা দে, কলকাতা: সোমবার বিজেপি দফতরে এক সাংবাদিক সম্মেলনে প্রশ্ন উত্তর পর্বে মুকুল রায় দাবি করেছেন, ‘আগামিদিনে কোচবিহারের সাংসদ পার্থপ্রতিম রায় বর্মন বিজেপিতে যোগ দেবেন৷’ এ প্রসঙ্গে Kolkata 24×7-এর পক্ষ থেকে পার্থবাবুর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি মুকুল রায়কে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘‘পাগলে কি না বলে, ছাগলে কি না খায়৷’’ শুধু তাই নয়, দল ছাড়ার প্রসঙ্গে তিনি জানান, ‘‘আমি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একজন বিশ্বস্ত সৈনিক৷ মমতা যদি আমাকে ঝাড়ুদারও বানায় আমি তাই মাথা পেতে মেনে নেব৷ দল ছাড়ার কোনও প্রশ্নই নেই৷’’

মুকুল রায় বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পরই একে একে বিষ্ণুপুরের সাংসদ সৌমিত্র খান, ভারতী ঘোষ, শঙ্কুদেব পাণ্ডা, কোচবিহারের যুব নেতা নিশীথ প্রামাণিক তৃণমূল ছেড়ে বিজেপির হাত শক্ত করেছেন৷ মুকুল রায় ও একাধিক সভায় তৃণমূলকে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, তৃণমূল কংগ্রেসের একাধিক তাবড় সাংসদ বিধায়করা বিজেপিতে যোগ দেবেন বলে৷

শুধু তাই নয়, তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও দলের সভায় স্বীকার করেছেন তাঁর দলের নেতাদের ফোন করে টাকার লোভ দেখানো হচ্ছে৷ সেক্ষেত্রে ইদানিং তৃণমূল নেতাদের বিজেপিতে যোগ দেওয়ার যে হিড়িক লক্ষ্য করা গেছে তাতে কোচবিহারের সাংসদ পার্থপ্রতিম রায়ের নামটিও হাওয়ায় ভাসছিল৷ তবে সে সম্ভাবনায় নিজেই জল ঢেলেছেন পার্থবাবু৷

পড়ুন: আসন সমঝোতা নিয়ে এখনও পথ খোলা রইল বামেদের

গত সপ্তাহেই নজরুল মঞ্চে তৃণমূলের কোর কমিটির বৈঠকে পার্থপ্রতিমবাবুকে দেখা গিয়েছিল খোশ মেজাজে৷ সেখানে দলনেত্রীর সঙ্গে কথাও হয়েছে তাঁর৷ তাছাড়া পার্থবাবু বারবারই জানিয়েছেন আমি তৃণমূলের একজন বিশ্বস্ত সৈনিক৷ কিছু ফালতু কথা হাওয়ায় ভাসছে৷ তাতে কান না দেওয়াই ভাল৷ তবে কোচবিহারে অন্য খবরও শোনা গিয়েছে, এবারের লোকসভায় পার্থবাবু হয়তো টিকিট নাও পেতে পারেন৷ সেই জায়গায় নাম শোনা যাচ্ছে হলদিবাড়ির বিধায়ক অর্ঘ্য রায় প্রধানের৷

পড়ুন: মোদী-শাহকে ‘জুমলা জোড়ি’বলে কটাক্ষ ডেরেক ও’ব্রায়েনের

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কোচবিহারে তৃণমূলের এক নেতার কথায়, পার্থপ্রতিম রায় বর্মণ মানুষের মনে জায়গা করতে ব্যার্থ৷ তাই ওকে টিকিট দেওয়া হলে আমরা ৫ লক্ষ ভোটে হারব৷ পাশাপাশি অঘ্য রায় প্রধানকে টিকিট দিলে তৃণমূল বিপুল ভোটে জয়ী হবে সন্দেহ নেই৷ পাশাপাশি কোচবিহার জেলা সভাপতি তথা উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষের সঙ্গে পার্থবাবুর কাকা-ভাইপোর সম্পর্ক ছিল৷ ইদানিং সেই সম্পর্কও ততটা ভালো যাচ্ছে না৷ সেক্ষেত্রে পার্থপ্রতিমের টিকিট না পাওয়ার বিষয়টিই জোরালো হচ্ছে৷ যদিও দল টিকিট দিক আর না দিক, তৃণমূলেই থাকবেন তিনি বলেই এদিন জানিয়েছেন পার্থবাবু৷ তাই মুকুল রায়ের বক্তব্যকে ততটা গুরুত্ব দিতে নারাজ তৃণমূল শিবির৷

তবে শুধু পার্থপ্রতিম রায়ই নন, এদিন মুকুল রায় দাবি করেছেন, ‘‘বোলপুরের বহিষ্কৃত সাংসদ অনুপম হাজরা নাকি তাঁর বাড়িতে বসে রয়েছেন বিজেপিতে যোগ দেওয়ার জন্য৷ কিন্তু মামলার ভয়ে তিনি যোগ দিতে পারছেন না৷’’ এবং তারপরই সত্যতা যাচাইয়ের লক্ষ্যে ফোন আসা শুরু হয় সাংসদরের ফোনে৷ তাই তড়িঘড়ি অনুপম একটি ট্যুইট করে জানিয়ে দেন, ‘‘ভিত্তিহীন গুজবে কান দেবেন না৷ এগুলোকে এড়িয়ে যাওয়ায় বুদ্ধিমানের কাজ৷’’