স্টাফ রিপোর্টার, বর্ধমান: যে লক্ষ্যে পরিবর্তনের সরকারকে ক্ষমতায় আনা হয়েছিল, সাধারণ মানুষের সেই লক্ষ্য পূরণ হয়নি৷ বামেরা ৩৪ বছরে যা না কামিয়েছে তৃণমূল এই সাত বছরে তার থেকে অনেক বেশি কামিয়ে সাধারণ মানুষের পকেট ফাঁকা করে দিয়েছে৷ এদের রাজত্বে তৃণমূলের নেতা-নেত্রীদের ঘরে টালি বসেছে, মোজাইক হয়েছে আর গরিব মানুষের দুর্দশা আরও বেড়েছে৷ তাই তৃণমূলকে একটি ভোটও নয়৷

পূর্ব বর্ধমানের কালনা সাতগাছিয়ায় দলীয় প্রার্থীর সমর্থনে প্রচারে গিয়ে একথা বলেন বিজেপি নেতা জয় বন্দ্যোপাধ্যায়৷ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র আক্রমণ করে তিনি বলেন, ‘‘একসময় মমতা বলতেন- আগে কমরেডরা একটা বিড়ি তিনবার কানে রেখে খেতেন৷ এখন লম্বা লম্বা সিগারেট খান৷ আগে কমরেডরা ঝনঝনে সাইকেলে চড়তেন৷ এখন বড় বড় গাড়ি চড়েন৷ এখন আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সে কথা বলতে পারেন না৷ কারণ, দুর্নীতিতে ওরা বামেদেরকেও ছাপিয়ে গিয়েছে৷’’

জয় বলেন, ‘‘তৃণমূল নেতা-নেত্রীরা যাঁরা পঞ্চায়েতে রয়েছেন, তাঁদের কী ছিল, কী হয়েছে-দেখলেই বুঝতে পারবেন ওরা কীভাবে দুর্নীতি করেছে৷’’ উন্নয়নের প্রসঙ্গে তৃণমূলকে আক্রমণ করে জয় বলেন, ‘‘আমি যে রাস্তা দিয়ে আসছিলাম, মনে হচ্ছিল যেন একটা নাচের স্কুল দেখে এলাম৷ খালি নাচছি৷ এই রাস্তার জন্যই আপনারা কি সিপিএমকে সরিয়ে সাদা শাড়ির তৃণমূলকে ভোট দিয়েছিলেন?’’ যা শুনে হাততালিতে ফেটে পড়ে সভাস্থল৷

আক্ষেপের সুরে এই বিজেপি নেতার স্বীকারোক্তি, ‘‘৩৪ বছরের জগদ্দল সরকারকে সরিয়ে পরিবর্তনের সরকারকে ক্ষমতায় আনার দলে আমিও ছিলাম৷ আমরা অনেক আশা ও স্বপ্ন নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারকে ক্ষমতায় এনেছিলাম৷ কিন্তু সাধারণ গরিব মানুষের সেই স্বপ্নের একফোঁটাও পূরণ হয়নি৷ তাদের উলটে কী হল? তাঁরা আরও দুঃখে আছেন৷’’

একই সঙ্গে জয়ের দাবি, ‘‘বিজেপির এটা ঘোষিত নীতি, মানুষের পাশে থাকো৷ মানুষের সুখ দুঃখে থাকো৷ কোনওরকম দুর্নীতিতে বরদাস্ত করা হবে না৷ আমাদের কোনও নেতা-নেত্রীর দুর্নীতি করলে পিছনে লাথি মেরে বের করে দিই৷ এটাই হচ্ছে আমাদের নীতি৷’’