প্রতীতি ঘোষ ঘোষ, বারাকপুর: তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত বনগাঁ পুরসভার বর্তমান পুরপ্রধান শঙ্কর আঢ্যকে পদত্যাগ করার নির্দেশ দিল উত্তর ২৪ পরগণা জেলা তৃণমূল কংগ্রেস শীর্ষ নেতৃত্ব। সম্প্রতি সপ্তদশ লোকসভা নির্বাচনে বনগাঁ লোকসভা কেন্দ্র বিজেপির হাতে তৃণমূল কংগ্রেসের শোচনীয়ভাবে পরাজয় হয়৷

বনগাঁ পুরসভার ২৪ জন কাউন্সিলরের মধ্যে প্রথমে ১১ জন ও পরে তিন জন তৃণমূল কাউন্সিলর পুরপ্রধানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে অনাস্থা প্রস্তাব আনে। দলীয় শীর্ষ নেতৃত্বকেও ক্ষুব্ধ তৃণমূল কংগ্রেসের অধিকাংশ কাউন্সিলর সে কথা লিখিতভাবে জানিয়ে দেন।

এরপরই উত্তর ২৪ পরগণা জেলা তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্বের পক্ষ থেকে দলের পর্যবেক্ষক তথা পানিহাটির বিধায়ক নির্মল ঘোষ জরুরি ভিত্তিতে তার বাড়িতে সাংবাদিক বৈঠক করেন৷ সেখানে জানিয়ে দেন, বনগাঁ পুরসভায় অধিকাংশ কাউন্সিলরদের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে ওই পুরসভার বর্তমান পুর প্রধান শঙ্কর আঢ্যকে তার পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর বার্তা দেওয়া হয়েছে। বনগাঁ পুরসভায় আগামী দিনে নতুন পুরপ্রধান বেছে নেওয়া হবে নির্দিষ্ট পদ্ধতি মেনে। যদিও পুরপ্রধান শঙ্কর বাবু বলেন, তিনি দলের সেরকম কোন নির্দেশের চিঠি পাননি।

অন্যদিকে লোকসভা নির্বাচনের ফল অনুসারে দেখা যাচ্ছে ২২ টি ওয়ার্ডের মধ্যে ২১টি হার হয়েছে তৃণমূলের। আর এই অবস্থায় গোটা পরিস্থিতি বদলে গিয়েছে। এবারে তৃণমূল পুরপ্রধানের বিরুদ্ধে অনাস্থা আনলেন দলেরই কাউন্সিলররা।

বনগাঁ লোকসভায় এবার পদ্ম পাপড়ি মেলেছে৷ লোকসভা ভোটের প্রেক্ষিতে বনগাঁ পুরসভা এলাকাতেও ব্যাকফুটে জোড়াফুল শিবির৷ রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে ভোটের ফলাফলেই এলাকার রাজনৈতিক সমীকরণে অদলবদলের ছাপ স্পষ্ট৷ এবার ভোটে বনগাঁ পুরসভার ২২টির মধ্যে ২১টিতে হারের মুখ দেখতে হয়েছে তৃণমূলকে৷ যার রেশ তৃণমূল কাউন্সিলরদের এই অনাস্থায় প্রস্তাব৷

লোকসভার ভোটের পরেই জেলার ভাটপাড়া, নৈহাটি, হালিশহর, কাঁকিনাড়ার রং সবুজ থেকে গেরুয়া হয়েছে৷ কিন্তু এইভাবে রাতারাতি রং পালটানোয় বিজেপির উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন উঠছিল৷ স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব মনে করছে, বনগাঁ পুরসভায় অনাস্থা প্রস্তাব আনার পিছনেও কাজ করছে গেরুয়া শিবিরের অদৃশ্য হাত৷