স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: তিনি মুখ খুললে ‘শোভন চ্যাটার্জী’ দাঁড়াতে পারবেন তো? স্বামীর বিরুদ্ধে এরকম হুমকি দিয়ে রেখেছেন রত্না চট্টোপাধ্যায়৷ শোভনের এমন কী গোপন কথা মনের মধ্যে সযত্নে লুকিয়ে রেখেছেন রত্না? তা আম জনতাকে জানাতে তৈরি সিপিএম৷ ঠিক এক বছর আগে ২০১৭ সালের ২৩ নভেম্বর সিপিএমের দৈনিক মুখপত্র ‘গণশক্তি’তে ছাপা প্রতিবেদনের হেডলাইন ছিল – ‘‘চিটফান্ড কেলেঙ্কারি ফাঁসের পরই দুই সংস্থার ‘ডিরেক্টর’ মেয়রপত্নী!’’ মেয়রের মুখে আচমকা প্রকাশিত ‘গোপাল-চিকু-রত্না’ কেলেঙ্কারির অন্তর্তদন্ত ‘এনফোর্সমেন্ট ডাইরেক্টোরেট’ বা ইডি অনেক আগেই শুরু করেছিল – দাবি করা হয়েছে গণশক্তির ওই প্রতিবেদনটিতে৷ সিপিএমের হাতে যা এখন ভোটের আগে তৃণমূল কংগ্রেস বিরোধী অন্যতম হাতিয়ার হয়ে উঠেছে৷

ইডি জেরার মুখে শোভন অনেক আগেই বলেছিলেন, তাঁর সম্পত্তির দেখাশোনা করেন স্ত্রী রত্না৷ গণশক্তির প্রতিবেদনে লেখা হয়েছে, রত্নার ব্যবসার খবর নিতে ইডি জানতে পারে – একাধিক সন্দেহজনক লেনদেন হয়েছে৷ রাজ্যে চিটফান্ড কেলেঙ্কারি ফাঁস হওয়ার পর এবং নোটবন্দির পর ওই লেনদেনগুলি হয়েছে৷ তদন্তকারীদের মনে হয়েছে, মেয়র পুরো ব্যাপারটাই জানেন৷

এই সব তথ্যে ভরা ‘হাঁড়ি’ হাটে ভেঙে দেবেন রত্না ? সিপিএমের অনুমান, হয়তো সেই হুমকি দিয়ে রেখেছেন শোভনকে৷ হয়তো তাই, সংবাদমাধ্যমে রত্না বলেছেন, ‘‘আমি মুখ খুললে শোভন চ্যাটার্জী দাঁড়াতে পারবে? ইডি (এনফোর্সমেন্ট ডাইরেক্টোরেট)-এর সামনে ওর সম্পত্তি, টাকাপয়সা নিয়ে মুখ খুলিনি৷ ইডি-তে গিয়ে কিছু বলিনি৷ শোভনকে বিপদে ফেলিনি…৷’’ প্রশ্ন উঠেছে, শোভন কিন্তু এখনও তৃণমূল কংগ্রেসেই রয়েছেন৷ রত্নার হাত থেকে ‘স্নেহের কানন’কে বাঁচাবেন মমতা?

সংবাদমাধ্যমে শোভন বলেছেন, তাঁকে না জানিয়েই এই সব কোম্পানি খোলা হয়েছিল৷ তাঁকে না জানিয়েই ওই সব লেনদেন হয়েছে৷ এবং ওই সব ইডি ও সিবিআই সংক্রান্ত মামলায় তার বিশেষ বন্ধু বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায় তাকে সাহায্য করেন৷ অর্থাৎ, স্বামী শোভন এবং স্ত্রী রত্না, কেউই নিজের কোর্টে বল রাখতে চাইছেন না৷ একসময় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার রত্না জেরার মুখে শোভনকে বাঁচাতেন৷ অপর দিকে শোভন বাঁচাতেন রত্নাকে৷ এবার সেই ‘মিউচুয়াল আন্ডারস্ট্যান্ডিং’-টা ভেঙে গিয়েছে বলে মনে করছেন অনেকেই৷

প্রতিবেদনে যা ছাপা হয়েছিল, হরিয়ানার ফরিদাবাদের ঠিকানায় ‘এলিশা ট্রেড লিঙ্কস্ প্রাইভেট লিমিটেড’ নামে একটি কোম্পানির নাম উঠে এসেছে৷ এই সংস্থা ২০০৯ সালে তৈরি হয়েছিল৷ ২০১৩ সালে এই সংস্থার ডিরেক্টর পদে আসেন রত্না৷ ততদিনে ফাঁস হয়েছে সারদা কেলেঙ্কারি৷ কলকাতার ঠিকানায় দি জি আর প্রপার্টিজ প্রাইভেট লিমিটেড নামে একটি সংস্থা তৈরি হয় ২০১৩ সালে৷ ওই সংস্থার ডিরেক্টরও রত্না৷ বোর্ড অফ ডিরেক্টর পদে রয়েছেন আরও দুজন – গোপাল রায় এবং অভিজিৎ গাঙ্গুলি৷ ‘জিসিআর’ – গোপাল, চিকু (অভিজিৎ গাঙ্গুলি) হলেন এরা দুজনে৷ এই সংস্থার ৬৫ শতাংশ শেয়ার রয়েছে রত্নার নামে৷

বৃহস্পতিবার রাতে সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, ‘‘বাঙালি মেয়েরা কোনও বিনিয়োগ করার আগে স্বামীর সঙ্গে অন্তত একবার আলোচনা করে৷ এক্ষেত্রে নিজের স্বামীকে না জানিয়েই এই সব কাণ্ড করেছেন রত্না৷’’ অন্যদিকে, রত্নাও পালটা বলে রেখেছেন, ‘‘ব্যবসাটা আমি করি৷ শোভনবাবু রাজনীতি করেন৷ উনিতো আমার ব্যবসায় নাক গলাতেন না৷ আমিও ওর রাজনীতিতে নাক গলাতাম না৷ এখন কেন এসব বলছেন৷ কার কথা. বলছেন …. আমি মুখ খুললে ‘শোভন চ্যাটার্জী’ দাঁড়াতে পারবেন তো ?’’ সিপিএম অপেক্ষা করছে৷ শোভন-রত্নার সাংসারিক আগুনে তৃণমূলকে ঝলসে দেওয়ার সুযোগ খুজছে৷ সামনেই যে লোকসভার প্রচার শুরু হবে৷