হাওড়া : দিন যত এগিয়ে চলেছে মানুষের স্বাদ বদলেরও ততই পরিবর্তন ঘটছে। ক্রমশ পাল্টাচ্ছে মানুষের রুচিবোধ। আর এর জেরেই বাংলার চিরন্তন তাঁতশিল্পের কদর আগের থেকে অনেকটাই কমেছে৷ ক্ষয়িষ্ণু সেই শিল্পকে বাঁচানোর বার্তা দিতে এবার অভিনব উদ্যোগ নিল গ্রামীণ হাওড়ার শ্যামপুর থানার বাছরী ফুটবল মাঠ দুর্গা পুজো কমিটি।

৫৫ তম বর্ষে এবার তাদের ভাবনা ‘আদি তাঁতের মাতৃ প্রতিমা’। একদিকে হারিয়ে যেতে বসা তাঁতশিল্পকে বাঁচানোর তাগিদ; অন্যদিকে করোনা পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে কম বাজেটের প্রতিমা তৈরি—এই দু’ই ভাবনাকে এক করতে গিয়েই এহেন প্রতিমার উদ্ভাবন বলে জানান পুজো কমিটির কর্তারা। প্রতিমা তৈরির কাজ প্রায় শেষ।পাশ্ববর্তী জেলা পূর্ব মেদিনীপুরের তমলুকের আসতারার শিল্পীরা তাঁতের গামছা দিয়ে এই প্রতিমা গড়েছেন।

বাংলা ভাগের পর হুগলির ধনিয়াখালী, নদিয়ার শান্তিপুর, ফুলিয়া, বর্ধমানের ধাত্রীগ্রামকে কেন্দ্র করে বাংলার তাঁতশিল্পে জোয়ার এসেছিল। আটপৌরে বাঙালির ঘরে জায়গা করে নেয় ধনেখালি, শান্তিপুরী, ফুলিয়ার তাঁত। কিন্তু কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি, আধুনিকতার ছোঁয়া ও পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে ক্রমশ হারিয়ে যাচ্ছে গ্রাম বাংলার তাঁতশিল্প৷এক সময় যে এলাকা পল্লি তাঁতের খটখট শব্দে রাত-দিন মুখরিত ছিল, এখন সেখানে শুধুই নিস্তব্ধতা।

তাও অনেকেই বাপ-ঠাকুরদার পেশা আঁকড়ে কোনোমতে টিকে আছেন৷ দুর্গোৎসবের মধ্যে দিয়েই হারানো এই ঐহিত্য গ্রাম বাংলার মানুষের কাছে তুলে ধরতে উদ্যোগী হয়েছে শ্যামপুরের এই পুজো কমিটির কর্তারা। পুজো কমিটির সভাপতি চিত্তরঞ্জন মেটিয়া জানান,বাছরী ফুটবল মাঠে প্রতিবছর প্রতিমা ও প্যান্ডেল দেখতে বহু দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ আসেন।

প্রত্যন্ত গ্রামের মধ্যেও আমরা বিভিন্ন থিমের মধ্য দিয়ে আমাদের ভাবনাকে উপস্থাপন করার চেষ্টা করি। কিন্তু,করোনা পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে এবার মানুষের আর্থিক অবস্থা যেমন খুব একটা ভালো নয়, তার পাশাপাশি বহু মানুষ কাজ হারিয়েছেন। তাই এবার অনাড়ম্বর ভাবনার মধ্য দিয়েই বাংলার ঐতিহ্যবাহী শিল্পকে বাঁচানোর বার্তা দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের নির্দেশকে মান্যতা দিয়ে এবার সমস্ত কিছু আয়োজন করা হয়েছে বলে চিত্তরঞ্জনবাবু জানান।

স্বামীর সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে বস্ত্র ব্যবসাকে অন্যমাত্রা দিয়েছেন।'প্রশ্ন অনেকে'-এ মুখোমুখি দশভূজা স্বর্ণালী কাঞ্জিলাল I