নয়াদিল্লিঃ বন্দে ভারত এক্সপ্রেস, যা মোদী সরকারের স্বপ্নের ট্রেন ১৮ নামে পরিচিত অবশেষে যাত্রা শুরু করতে চলেছে। ৩রা অক্টোবর ট্র্যাক ধরে ছুটবে বন্দে ভারত এক্সপ্রেস। প্রাথমিকভাবে নয়াদিল্লি-কাটরা রুটে এই ট্রেন পরিষেবা মিলবে। তারপর অন্যান্য রুটেও চালানো হবে এই সেমি হাই স্পিড ও ইঞ্জিন বিহীন ট্রেনকে। শনিবারই নিজের পরীক্ষামূলক যাত্রা সফলভাবে শেষ করে বন্দে ভারত। পরে রেল মন্ত্রক ঘোষণা করে ৩রা অক্টোবর থেকে এই ট্রেন পরিষেবা পাবেন যাত্রীরা। নয়াদিল্লি থেকে কাটরা যেতে যেখানে ১২ ঘণ্টা সময় লাগত, সেখানে মাত্র ৮ ঘণ্টাতেই পৌঁছে যাবেন যাত্রীরা। শিড্যিউল অনুযায়ী ট্রেনটি পরীক্ষামূলক যাত্রায় সকাল ৯.১৯ মিনিটে কাটরা পৌঁছয়, দু মিনিটের বিরতি নিয়ে ফের দিল্লিমুখী যাত্রা শুরু করে ৯.২১ মিনিটে।

রেল মন্ত্রকের পক্ষ থেকে জানানো হয় ২০২২ সালের মধ্যে মোট ৪০ টি বন্দে ভারত এক্সপ্রেস আনা হবে। এই নিয়ে কাজ হচ্ছে। সব বিষয়ের মধ্যে স্বচ্ছতা রেখে এই প্রকল্প মেক ইন ইন্ডিয়ার অন্তর্ভুক্ত করা হবে।বন্দে ভারত এক্সপ্রেস প্রথম আনা হয় দিল্লি-বারাণসী রুটে। রবিবার দিল্লি ডিভিশনের অ্যাসিসট্যান্ট ডিভিশনাল মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার সুধীর জৈন জানান, বন্দে ভারত এক্সপ্রেসের চূড়ান্ত ট্রায়াল রানে উপস্থিত ছিলেন ১৫ জন মেকানিক্যাল কর্মী, ছিলেন ড্রাইভার, গার্ড। ট্রায়াল রানে কোনও সমস্যা হয়নি। এই ট্রেন ঘণ্টায় ১৩০ কিমি গতিতে ছুটবে বলে জানানো হয়েছে।

ট্রায়াল রানে বন্দে ভারত এক্সপ্রেসের গতি ছিল প্রতি ঘণ্টায় ১৮০ কিমি। তবে যাত্রী নিয়ে এই ট্রেনের গতি রাখা হবে ১৩০ কিমি প্রতি ঘণ্টা। অবশ্যই তা যাত্রী সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে। তবে এর সর্বোচ্চ গতি ধার্য করা হয়েছে প্রতি ঘণ্টায় ১৬০ কিমি। এই ট্রেনে থাকবে ১৬টি কোচ। এরই সঙ্গে প্রতিবন্ধী সহায়ক টয়লেটের ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে রেলমন্ত্রক। থাকছে দুটি ড্রাইভার কার, দুটি এক্সিকিউটিভ চেয়ার কার, ১২টি চেয়ার কার কোচ। প্রতিটি কোচেই থাকবে শারীরিক প্রতিবন্ধী সহায়ক শৌচালয়।

বন্দে ভারত এক্সপ্রেসের প্রতিটি কোচের পরবর্তী স্টেশনের নাম ও স্টপেজ সম্পর্কে নির্দিষ্ট তথ্য দেওয়া হবে এর এলইডি স্ক্রীনে। স্টপেজগুলিতে ট্রেনটি দাঁড়াবে মাত্র দু মিনিটের জন্য। ফলে যাত্রীদের আত্মীয়দের ট্রেনের কোচে না ওঠার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কারণ ট্রেনটি প্রতিটি দরজা স্বয়ংক্রিয় ও ট্রেন ছাড়ার পরে তা নিজে থেকে বন্ধ হয়ে যাবে। থাকছে চার্জিং পয়েন্ট, স্বয়ংক্রিয় কল, ড্রায়ার, ৩৬০ ডিগ্রি ঘোরা যায় এমন প্রতিটি কোচেই নির্দিষ্ট প্যান্ট্রিকার রাখা হয়েছে। থাকছে সিসিটিভির নজরদারি। প্রতিটি ট্রেনে ১৫-২০ জন টেকনিক্যাল স্টাফ থাকবেন, যারা যে কোনও যান্ত্রিক ত্রুটি মেরামত করতে সক্ষম।

Proshno Onek II First Episode II Kolorob TV