লন্ডন: বিশ্বকাপে হ্যাটট্রিকের সংখ্যা নেহাৎ কম নয়৷ লর্ডসে অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ড ম্যাচের আগে ১০টি হ্যাটট্রিকের ঘটনা ঘটেছে আইসিসি বিশ্বকাপে৷ ১৯৮৭ বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ভারতের চেতন শর্মা প্রথমবার বিশ্বকাপে হ্যাটট্রিক করার কৃতিত্ব অর্জন করেন৷ কাকতলীয়ভাবে ১০টি বিশ্বকাপ হ্যাটট্রিকের শেষটিও ছিল এক ভারতীয়র৷ চলতি বিশ্বকাপেই পাকিস্তানের বিরুদ্ধ পর পর তিন বলে তিনটি উইকেট নেন মহম্মদ শামি৷ অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ইনিংসের শেষ ওভারে পর পর তিনটি উইকেট নিয়ে সেই ধারাটাকে আরও একটু এগিয়ে নিয়ে গেলেন ট্রেন্ট বোল্ট৷ প্রথম কিউয়ি ক্রিকেটার হিসাবে বিশ্বকাপে হ্যাটট্রিক করার কৃতিত্ব অর্জন করেন তিনি৷

ওয়ান ডে ম্যাচে এর আগেও একবার হ্যাটট্রিক করেছেন বোল্ট৷ গত বছর নভেম্বরে আবু ধাবিতে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে পর পর তিন বলে তিনটি উইকেট নিয়েছিলেন তিনি৷ সেদিক থেকে ওয়ান ডে ম্যাচে এটি বোল্টের দ্বিতীয় হ্যাটট্রিক৷ বোল্টের আগে ড্যানি মরিসন ও শেন বন্ড নিউজিল্যান্ডের হয়ে ওয়ান ডে ম্যাচে হ্যাটট্রিক করেন৷ তবে কোনটিই বিশ্বকাপের ম্যাচ ছিল না৷

লসিথ মালিঙ্গা একমাত্র ক্রিকেটার যিনি বিশ্বকাপে দু’বার এবং ওয়ান ডে ক্রিকেটে মোট তিনবার হ্যাটট্রিকের কৃতিত্ব অর্জন করেছেন৷ যার মধ্যে একবার তিনি পরপর চার বলে তুলে নিয়েছেন প্রতিপক্ষের চারটি উইকেট৷ এক ঝলকে দেখে নেওয়া যাক এ পর্যন্ত আইসিসি বিশ্বকাপের ১১টি হ্যাটট্রিকের নজির৷

চেতন শর্মা: ১৯৮৭ বিশ্বকাপে নাগপুরে প্রথম হ্যাটট্রিকের ঘটনা ঘটে৷ নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ভারতের শেষ লিগ ম্যাচে চেতন শর্মা পরপর তিন বলে ক্লিন বোল্ড করেন কেন রাদারফোর্ড, ইয়ান স্মিথ ও ইভান চ্যাটফিল্ডকে।

সাকলিন মুস্তাক: প্রথম হ্যাটট্রিকের ১২ বছর পর বিশ্বকাপের মঞ্চে আবার দেখা যায় হ্যাটট্রিক। ১৯৯৯ বিশ্বকাপে ওভালে জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের অফস্পিনার সাকলিন মুস্তাক পর পর তিন বলে আউট করেন হেনরি ওলঙ্গা, অ্যাডাম হাকল ও পমি মবাঙ্গওয়াকে।

চামিন্ডা ভাস: ২০০৩ বিশ্বকাপে পিটারমারিৎজবার্গে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ম্যাচের প্রথম তিন বলে চামিন্ডা ভাস আউট করেন হান্নান সরকার, মহম্মদ আশরাফুল ও এহসানুল হককে। কোনও ওয়ান ডে ইন্টারন্যাশনাল ম্যাচের প্রথম তিন বলে তিনটি উইকেট তুলে নেওয়ার নজির ভাস ছাড়া আর কোনও বোলারের নেই।

ব্রেট লি: ২০০৩ বিশ্বকাপে ডারবানে কেনিয়ার বিরুদ্ধে হ্যাটট্রিক এর কৃতিত্ব অর্জন করেন অজি পেসার ব্রেট লি। তিনি পর পর তিন বলে কেনেডি ওতিয়েনো, বৃজল প্যাটেল ও ডেবিড ওবুয়াকে আউট করে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন।

লসিথ মালিঙ্গা: ২০০৭ বিশ্বকাপে গায়ানায় দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে পরপর চার বলে চারটি উইকেট তুলে নেন শ্রীলহ্কার তারকা পেসার লসিথ মালিঙ্গা। তিনি আউট করেন শন পোলক, অ্যান্ড্রু হল, জ্যাক কালিস ও মাখায়া এনতিনিকে।

কেমার রোচ: ২০১১ বিশ্বকাপে দিল্লিতে নেদারল্যান্ডসের বিরুদ্ধে হ্যাট্রিক করেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের ফাস্ট বোলার কেমার রোচ। তিনি পর পর তিন বলে আউট করেন পিটার শিলার, বার্নার্ড লুটস ও বার্নাড ওয়েস্টডিককে৷

লসিথ মালিঙ্গা: ২০১১ বিশ্বকাপে কলম্বোয় কেনিয়ার বিরুদ্ধে বিশ্বকাপে নিজের দ্বিতীয় হ্যাটট্রিকের নজির গড়েন লসিথ মালিঙ্গা। তিনি পর পর তিন বলে আউট করেন তন্ময় মিশ্র, পিটার ওঙ্গনদো ও শেম এনগোচকে।

স্টিভ ফিন: ২০১৫ বিশ্বকাপে মেলবোর্নে আয়োজক অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ইংল্যান্ডের প্রথম বোলার হিসেবে হ্যাটট্রিক করেন স্টিভ ফিন। তিনি পর পর ৩ বলে আউট করেন ব্র্যাড হ্যাডিন, গ্লেন ম্যাক্সওয়েল ও মিচেল জনসনকে।

জেপি ডুমিনি: সিডনিতে ২০১৫ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে হ্যাটট্রিক করেন ডুমিনি। তিনি তিন বলে ফিরিয়ে দেন অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউজ, নুয়ান কুলশেখরা ও তারিন্দু কৌশলকে৷

মহম্মদ শামি: সাউদাম্পটনে ২০১৯ বিশ্বকাপের লিগ ম্যাচে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় ভারতীয় হিসাবে হ্যাটট্রিক করেন মহম্মদ শামি৷ তিনি পর পর তিন বলে আউট করেন মহম্মদ নবি, আফতাব আলম ও মজিব উর রহমানকে৷

ট্রেন্ট বোল্ট: লর্ডসে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ২০১৯ বিশ্বকাপের লিগ ম্যাচে ইনিংসের শেষ ওভারের তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম বলে বোল্ট আউট করেন যথাক্রমে উসমান খোওয়াজা, মিচেল স্টার্ক ও জেসন বেহরেনডর্ফকে৷ খোওয়াজা ও স্টার্ককে ক্লিন বোর্ড করেন তিনি৷ বেহরেনডর্ফকে নিখুঁত ইয়র্কারে এলবিডব্লুর ফাঁদে জড়ান বোল্ট৷