ওয়াশিংটন: কাশ্মীর ‘উত্তপ্ত’। আবারও বলছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাই আবারও মধ্যস্ততার প্রয়োজন আছে বলে মনে করছেন তিনি। সেই প্রস্তাব নিয়ে তিনি সরাসরি কথা বলবেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে। ফোনে মোদীর সঙ্গে তিরিশ মিনিট কথোপকথনের পরেরদিন ঠিক তেমনটাই জানিয়েছেন ট্রাম্প। চলতি সপ্তাহের শেষের দিকেই G7 সামিট হবে সেখানেই এই বিষয়ে ফের কথা বলবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে হোয়াইট হাউস থেকে কথা বলার সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন, “এই সপ্তাহের শেষে আমি প্রধানমন্ত্রী মোদীর সঙ্গে থাকব। আমি মনে করি আমরা কাশ্মীর সমস্যা মেটাতে সাহা্য্য করতে পারি।” ভারত বারবার আন্তর্জাতিক মহলকে জানিয়েছে যে কাশ্মীর অভ্যন্তরীন বিষয়। এর আগে বেশ কয়েকবার ট্রাম্প জানিয়েছিল যে সে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যস্ততাকারই হতে চায়। ঠিক তারপরই বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর জানায় ভারতের তরফে এইরকম কন প্রস্তাব দেওয়া হয়নি। আবারও সেই একই কথা শোনা গেল ট্রাম্পের মুখে।

সোমবার ডোলান্ড ট্রাম্প ফোনে ভারত ও পাকিস্তান, উভয় দেশের প্রধানমন্ত্রীদের সঙ্গে কথা বলেছেন। সেই ঘটনার পরেরদিনই এই কথা শুনিয়েছেন সংবাদমাধ্যমকে। তিনি এও বলেছেন, “দীর্ঘসময় ধরে দুটি দেশের মধ্যে জটিলতা চলছে। এটা খুবই কঠিন পরিস্থিতি। তাই উত্তেজনা কমানোর ইচ্ছাপ্রকাশ ও চেষ্টা করছি।” কাশ্মীর নিয়ে আবার তিনি উদ্বিগ্ন হয়ে বলেন, “দুই দেশের মধ্যে প্রচণ্ডরকম সমস্যা রয়েছে। মধ্যস্থতা করতে আমি যতটা পারি করব অথবা এমন কিছু যা কাজে আসে।”

তাঁর কথায়, “তাদের দুজনের ভাল সম্পর্ক আছে, তবে এই মুহুর্তে তারা একে অপরের বন্ধু নয়।” গত সপ্তাহে রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিলের দ্বারস্থ হয়ে, কাশ্মীর নিয়ে ভারতের সিদ্ধান্তকে হাতিয়ার করে প্রভাবিত করতে চেয়েছিল পাকিস্তান। তবে বেশিরভাগ দেশই একমত হয় যে, জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ রাজ্যের মর্যাদা প্রত্যাহার, এবং রাজ্যটিকে ভেঙে দুটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে পরিণত করার বিষয়টি নয়াদিল্লি ও ইসলামাবাদের দ্বিপাক্ষিক বিষয়। রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিলের ১৫টি দেশের বৈঠক হয়।

তারমধ্যে পাঁচটি স্থায়ী সদস্য এবং ১০টি অস্থায়ী সদস্য, সেই বৈঠক কোনও প্রস্তাবনা ছাড়াই শেষ হয়, যা পাকিস্তান ও তাঁর বন্ধু চিনের কাছে বড় ধাক্কা বলা যায়। পাকিস্তান যত এই বিষয়কে আন্তর্জাতিক স্তরে তুলে ধরতে চেয়েছে, উল্টোদিকে দেখা গেছে ভারত ততটাই প্রত্যয়ী মনোভাব নিয়ে তা দ্বিপাক্ষিক বলেছে। যেখানে দেখা গেছে ভারত তৃতীয় কেউ মধ্যস্ততা করার সুযোগ না পায়। যদিও পাকিস্তান রাষ্ট্রসংঘ থেকে আমেরিকা সকলের হস্তক্ষেপ চাইলেও সেই প্রচেষ্টা ফলপ্রসূ হয়নি।