সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা : আমফানে হাজার হাজার গাছ পড়ে গিয়েছে। প্রচুর অক্সিজেনদায়ীকে ধরাশায়ী করেছে সুপার সাইক্লোন। মহামূল্য এই ক্ষতি কি পূরণ করা সম্ভব? পরিবেশবিদরা বলছেন সম্ভব। তবে গাছ লাগাতে হবে পরিকল্পনা করে। যা খুশি গাছ না রোপন না করে প্রয়োজনীয় গাছ বসানো উচিৎ।

পরিবেশকর্মী জয়িতা কুণ্ডু কুন্তী জানাচ্ছেন, ‘দূষণ বুঝে বুঝে গাছ লাগানো উচিত শহরে। আমফানের তান্ডবে কলকাতায় প্রচুর গাছ পড়ায় শ্বাসকষ্ট-সহ দূষণজনিত অসুখবিসুখ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন অনেকেই। তাদের পরামর্শ , এমন গাছই শহরে লাগানো উচিত যা ঝড়ে সহজে উপড়ে পড়বে না। যারা দূষণ কমাতে পারে , শব্দ শোষণ করতে পারে এবং রাতের আলো কম প্রতিফলিত করে।।এই তালিকায় রয়েছে ছাতিম , কাঠবাদাম , মুকুন্দ চাঁপা , পুত্রাঞ্জিত ,বট , অশ্বত্থ , আম , কাঁঠাল , রুদ্রাক্ষ, মেহগনি ,জারুল , অশোক এবং ক্যানন দ্য বল ট্রি ইত্যাদি।’

একইসঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, ‘উদাহরণ হিসাবে শহরের রাস্তায় গাছ পড়েছে সরকারি হিসাবে ৫০০০, বেসরকারি হিসাবে ১৫০০০ গাছ পড়েছে। কিন্তু ব্যতিক্রম শহরের বড় মাপের সবুজ উদ্যান হিসাবে পরিচিত রবীন্দ্র সরোবর , সুভাষ সরোবর , ইকো পার্ক ও বনবিতান। ওই চারটি উদ্যান গাছের সংখ্যা প্রায় ২৩ হাজার। অথচ আমফানে সব মিলিয়ে গাছ পড়েছে ৫৭০ টি। আর সেখানে কলকাতা, নিউটাউন , বিধাননগর মিলিয়ে গাছ পড়েছে সরকারি হিসাবে ২০০০০, বেসরকারি হিসাবে হিসাবে ৫০০০০ গাছ।

এই উদাহরণ দিয়ে বোঝাই যায় যে , পরিকল্পনা করে শহরের পাকে গাছ লাগানোর ফলে গাছ উপড়ে পড়ার সংখ্যা কম। অন্যদিকে শহরের রাস্তার ধারে যেসব গাছ লাগানো হয় সেগুলো পরিকল্পনা ছাড়াই লাগানো হয় এবং সঙ্গে গাছের গোড়ায় কংক্রিটের বাঁধানো এরফলে গোড়ায় মাটি কম থাকে। গাছের শিকড় মাটির গভীরে যেতে পারে না। ভবিষ্যতে এই দিক বিবেচনা করে গাছ লাগানো উচিত নগর পরিকল্পনাবিদদের।’

এদিকে কলকাতায় শুরু হয়েছে গাছের পরিচর্যা। অসুস্থ ও বৃদ্ধ গাছের পুনর্জীবন দেওয়ার কাজ রবীন্দ্র সরোবরে। শহরের অন্য কারো ফুটপাতেও হবে গাছের পুনর্জীবন।গাছের জায়গায় গাছ লাগান হাত জোড় করে নগরবাসীকে অনুরোধ কলকাতা পুরসভার চেয়ারম্যান ফিরহাদ হাকিম এর।

কলকাতা পুরসভা এলাকায় সাড়ে 15 হাজার গাছ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে অনেক বৃদ্ধ বটগাছ রয়েছে। রয়েছে ডালপালা ভেঙে যাওয়া অসুস্থ গাছও। কলকাতা শহরের মূল রাস্তার কাজগুলোকে মূলত কেটে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। বাকি গাছগুলিকে যতটা সম্ভব ভার কমিয়ে পুনরায় জীবনের রূপ দেওয়া।

কলকাতা পুরসভার চেয়ারম্যান তথা পুরো নগর উন্নয়নমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম শুক্রবার পরিদর্শনে যান কিভাবে গাছের পুনরুজ্জীবন দেওয়া হচ্ছে। রবীন্দ্র সরোবরে তা সরেজমিনে খতিয়ে দেখেন ফিরহাদ হাকিম।

কলকাতার 'গলি বয়'-এর বিশ্ব জয়ের গল্প