ইতিমধ্যে আকাশে পেঁজা তুলো মেঘের আনাগোনা শুরু হয়েছে৷ মাঠের কাশফুলও মাথা দোলাচ্ছে মিষ্টি হাওয়ায়৷ মণ্ডপের খুঁটিপুজোর পালাও সারা৷ পুজোর আগমনী বার্তা এসে গিয়েছে পাড়ায় পাড়ায়৷ পুজোর চারটি দিন নিজের পাড়া বা শহর থেকে নড়তে চান না অনেকেই৷ অনেকে আবার শহরের ভিড় থেকে একটু দূরে গিয়ে একান্ত নিজের করে পরিবার ও প্রিয় মানুষটির সঙ্গে কাটাতে চান ছুটির মরশুম৷ তবে পুজোর দিনে হোক বা তার আগে পরে ছুটির দু’দিন আপনি কাটিয়ে আসতেই পারেন কাছাকাছির মধ্যে কোথাও৷ পশ্চিমবঙ্গের কাছেই এমন অনেক জায়গা রয়েছে যা আপনাকে করতে পারে তরতাজা৷ কর্মব্যস্ত জীবন থেকে অবসর নিয়ে ঘুরে আসতে পারেন সেসব জায়গায়৷ কাছাকাছির মধ্যে এই সকল জায়গার বিস্তারিত তথ্য সমেত তালিকা দেওয়া হল৷

জুনপুট

কিভাবে যাবেনjunput

দু’দিনের ছুটি মানেই দীঘা কিংবা মন্দারমণি৷ এবার দীঘা থেকে একটু সড়ে গিয়ে ঘুরে আসুন জুনপুটে৷ দীঘার কাছেই কাঁথি৷ তার থেকে ন'কিলোমিটার দুরেই জুনপুট সমুদ্র সৈকতটি৷ কাঁথি থেকে বাস বা অটো রিক্সতে আপনি পোঁছতে পারেন জুনপুটে৷ ভাঁটার সময় জুনপুট সৈকতে দীর্ঘ চরের সৃষ্টি হয়৷ সমুদ্র ও আকাশের মাঝে সূর্যোদয়ের মাদকতা আপনাকে মোহিত করতে পারে৷ এছাড়াও জুনপুট থেকে ফেরার পথে কাঁথিতে নেমে তিন চার কিলোমিটার গেলেই আপনি পৌঁছে যাবেন দরিয়াপুরে৷ এখানে রয়েছে একটি লাইটহাউস এবং একটি বিখ্যাত মন্দির৷ বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় যখন কাঁথির ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট ছিলেন তখন তিনি ‘কপালকুন্ডলা’ উপন্যাসটিতে এই মন্দিরের বর্ণনা লিখেছিলেন৷ আপনি লং ড্রাইভেও পৌঁছতে পারেন জুনপুটে৷ তাজপুর থেকে কাঁথির দিকে যেতে হবে আপনাকে৷ সেখান থেকে ডানদিকে ঘুরলেই আপনি জুনপুট পৌঁছতে পারবেন৷

রিসর্ট:

জুনপুটে পৌঁছনোর আগেই আপনাকে বুক করে নিতে হবে রিসর্ট৷ জুনপুট বাজার থেকে এক কিলেমিটার দুরেই জুনপুট রিসর্ট৷ দিন প্রতি ৪৫০ টাকায় রুম বুক করতে পারেন আপনি৷ এখানেই খাবারের ব্যবস্থাও পেয়ে যাবেন আপনি৷ এখানে বিভিন্ন মূল্যের খাবারের প্যাকেজ রয়েছে৷ মাথাপিছু ২৭৫ টাকা থেকে ৩০০ টাকার মধ্যে আপনি চা জলখাবার সহ লাঞ্চ ও ডিনার পাবেন এখানে৷

বিস্তারিত তথ্যের জন্য যোগাযোগ করুন ‘‘০৩৩ ৬৯৪৪ ৩৬৯৫’’ এই নম্বরে৷

মিরিক:

কিভাবে যাবেনmirik

 মিরিককে অনেকটা পাহাড়ের মধ্যে একটি পাখির বাসার মতো দেখতে৷ দার্জিলিং থেকে ৪৯ কিলোমিটার এবং শিলিগুড়ি থেকে ৫২ কিলোমিটার দূরেই এই পাহাড়ি এলাকা৷ এই জায়গাটির বিশেষ আকর্ষণ হল ১.২৫ কিলোমিটার একটি বিস্তীর্ন লেক৷ লেকের মধ্যে ভাসমান ফোয়ারা এবং লেকের উপরে কাঞ্চনজঙ্ঘার প্রতিচ্ছবি৷ লেকের চারপাশ ঘিরে রয়েছে একটি ঘন বনাঞ্চল৷ একটি সেতু দিয়ে এর পূর্ব থেকে পশ্চিমের বনাঞ্চলকে সংযোগ করা হয়েছে৷ এখানে আপনি বিমানে যেতে পারেন৷ বিমানে গেলে আপনাকে নামতে হবে বাগডোগরাতে৷ সেখান থেকে আপনি গাড়ি বুক করে যেতে পারেন মিরিক৷ দার্জিলিং, শিলিগুড়ি ও কার্শিয়ং থেকে মিরিক যাওয়ার রাস্তা রয়েছে৷ শিলগুড়ি থেকে প্রাইভেট ট্যাক্সি বা জিপেও আপনি যেতে পারেন মিরিক৷ মাত্র দেড় ঘন্টায় আপনি শিলিগুড়ি থেকে পৌঁছে যাবেন মিরিকে৷

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরা এই পাহাড়ি এলাকায় দেওসি দারা একটি অপূর্ব জায়গা৷ এছাড়াও পিকনিকের জন্য রয়েছে রাই-ধাপ, দুধিয়া৷ চা বাগানের সৌন্দর্যও আপনি দেখতে পারবেন এখানে৷ এছাড়া সিংহ দেবির মন্দিরও রয়েছে এখানে৷

রিসর্ট:

এখানে কয়েকটি ভালো রেঁস্তোরা রয়েছে৷ তার মধ্যে একটি হল জগজিত৷ এই রেঁস্তোরাটি কৃষ্ণগড়ে অবস্থিত৷

বিস্তারিত তথ্যের জন্য যোগাযোগ করতে পারেন +৯১৩৫৪২৪৪৩২৩১ এই নম্বরে৷

গড়চুমুক

কিভাবে যাবেন:garchumuk

হাতে একদিনই সময়৷ অথচ মন চাইছে একটু মুক্ত বাতাসে নিঃশ্বাস নিতে৷ চলে যেতে পারেন গড়চুমুক৷ হাওড়ার কাছে এই জায়গাতেই মিলিত হয়েছে দামোদর এবং হুগলি নদী৷ এখানে ৫৮টি গেটের ব্যারেজও রয়েছে৷ শান্ত এই জায়গায় বসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাটিয়ে দিতে পারেন পর্যটকরা৷ এছাড়াও এখানে রয়েছে একটি পার্ক৷ নাম ডিয়ার পার্ক। রয়েছে বোটিংয়ের সুবিধা৷

রিসর্ট:

এখানে রয়েছে একাধিক উন্নতমানের রিসর্ট৷ গড়চুমুক যাওয়ার জন্য কলকাতার যেকোনও হোটেলে থেলেও আপনি যেতে পারেন৷

বড়ন্তি

কিভাবে যাবেন:baranti

পুরুলিয়ার গ্রামাঞ্চলের একটি অপূর্ব সুন্দর প্রাকৃতিক স্থান হল বড়ন্তি৷ আসানসোলের কাছে মুরাদি পাহাড় ও বড়ন্তি পাহাড়ের সংযোগস্থলে এই বড়ন্তি৷ মুদারি রেল স্টেশনের থেকে ছয় কিলোমিটার দূরেই এই ট্যুরিস্ট স্পটটি৷ মুদারি রেল স্টেশনে নেমে সেখান থেকে অটো রিক্সোতে আপনি পৌঁছে যেতে পারেন বড়ন্তি৷ লেক পাহাড় ও গ্রাম্য দৃশ্যে ভরা এই অঞ্চলটিতে আপনি নিশ্চিন্তে কাটিয়ে আসতে পারেন দু’দিন৷ শান্ত এই জায়গাটিতে প্রকৃতি যেন আপনার সঙ্গে কথা বলে৷

রিসর্ট:

আরন্যক রেঁস্তোরা (৯৮৩৬০৯৯০০৭), আকাশমণি রেঁস্তোরা ( ৮০১৭২১৫৯৫৮), লেক হিল রেঁস্তোরা ( ৯৪৩২২৯৬১৭৮) এই সব রেঁস্তোরায় মোটামুটি ৫০০টাকা থেকে ৮০০টাকার মধ্যে থাকার ও পৃথক মূল্যে খাওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে৷

পৌলমী ঘোষ

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.