অরুণাভ রাহারায়: আলিপুরদুয়ার থেকে সামান্য দূরে সবুজের সমারহময় নিসর্গে আপনার জন্য অপেক্ষা করছে জয়ন্তী। এখানে রয়েছে বালা নদী। পাহাড়ি রুগ্ন নদীটি বর্ষাকালে ডাকসাইটে স্বাস্থ্যবতী হয়ে ওঠে। শীতে সামান্য জল ও অসংখ্য নুড়ি তার অন্য সৌন্দর্য। ১৯৯৩ সালে আলিপুরদুয়ারে ভয়াবহ বন্যায় উড়ে যায় এই নদীর ব্রীজের দু’প্রান্ত। এখনও জয়ন্তীর মধ্যমণি হয়ে আছে ভাঙা ব্রিজের মধ্যিখানের অংশটুকু। যে কোনও সেতু দুটি প্রান্তকে জুড়ে দেয়। কিছু আশ্চর্যভাবে এই সেতুর মাঝের অংশটুকু অবশিষ্ট বাকি দুই পার অসীম।

প্রখ্যাত চিত্রপরিচালক গৌতম ঘোষ তাঁর ‘আবার অরণ্যে’ ছবিটির স্যুটিংয়ের জন্য বেছে নিয়েছিলেন জয়ন্তীকে। ছবিতে ছিলেন সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়, সর্মিলা ঠাকুর, শুভেন্দু চট্টোপাধ্যায়, টাব্বু, রূপা গাঙ্গুলী, যীশু সেনগুপ্ত, শাশ্বত চট্টোপাধ্যায় প্রমুখ। ছবিটির মধ্যে দিয়ে বহু মানুষ জানতে পারেন জয়ন্তীর কথা। ঘীরে ধীরে পর্যটনের নামচিত্রে উজ্জ্বল হতে থাকে জায়গাটি।

এখন এখানে হড়ে উঠেছে প্রচুর গেস্ট হাউস ও হোম স্টে। জয়ন্তী বেড়াতে গিয়ে দেখে নিন মহাকাল গুহা। মনস্কাম পূরণে শিবরাত্রিতে মহাকাল গুহায় পাড়ি দেন অগুনিত শিবভক্ত। ধ্রুপদী ঘণ্টা বাজে পাহাড়ি মন্দিরে। রয়েছে ‘পুখরী’ জলাশয়। অজস্র মাছের অবাধ বিচরণক্ষেত্র এই পুখরী। পাহাড়ি পরিবেশে কয়েকদিন ছুটি কাটাতে আপনার ভালই লাগবে। দেখা মিলতে পারে হাতি, গণ্ডারের।

জয়ন্তী যেতে হলে শিয়ালদহ থেকে রাত ৮.৩০ মিনিটে ১৩১৫০ কাঞ্চনকন্যা এক্সপ্রেসে উঠুন পরদিন ১২.১০ মিনিটে পৌঁছবেন আলিপুরদুয়ার জংশনে। আগে থেকে রিজার্ভেশন করা থাকলে বাল। স্টেশনের বাইরে পাওয়া যায় শেয়ার ম্যাজিক ভ্যান ও ভাড়ার গাড়ি এবং সহজেই পৌঁছনো যায় জয়ন্তী।

কোথায় থাকবেন: সরকারি ও বেসরকারি নানা উদ্যোগে এখন জয়ন্তীর আশেপাশে গড়ে উঠেছে প্রচুর গেস্ট হাউস ও হোম স্টে। বিস্তারিত তথ্যের যোগাযোগ করতে পারেন– ফিল্ড ডিরেক্টর, বক্সা টাইগার রিজার্ভ (ইস্ট), আলিপুরদুয়ার। ফোন ০৩৫৬৪-২৫৫০০৪।