বিশেষ প্রতিবেদন: মেঘালয়ে উমাংগট এবং কেশর নদীর পাড়ে অবস্থিত স্বচ্ছ জলের দেশ সোনাংপেডেং গ্রাম। এখানে বেড়াতে গেলে মনে আসবে প্রশান্তি। উমাংগট নদীটি ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে নিজেকে বদলে নেয়। এই নদীর স্বচ্ছ জল দেখলে আপনি অবাক হয়ে যাবেন। নদী ভ্রমণের জন্য নৌকোর ব্যবস্থা আছে। নদীর ধারেই মিলে যাবে নৌকো এবং লাইফ জ্যাকেট।

বোটের ভাড়া পড়বে ৫০০ টাকা। বোটে চেপে জলপ্রপাতের কাছাকাছি চলে যাওয়া যায়। বোটে উঠে দেখতে পাবেন এক অদ্ভুত দৃশ্য। দিনের বেলায় সূর্যের আলোয় হামেশাই দখা যায়, নদীর জল অতি মাত্রায় স্বচ্ছ হওয়ার কারণে নৌকোটির ছায়া পড়েছে নদীর গভীরে। দৃশ্যটি দেখার জন্যই এখানে ফি বছর পাড়ি দেন বহু পর্যটক।

থাকার জন্য পাশেই রয়েছে কটেজ। নতুন নতুন গড়ে ওঠা কটেজের ভাড়া ১০০০ থেকে ১৫০০ টাকার মধ্যে। একটি কটেজে একসঙ্গে চার জনের থাকার বন্দবস্ত রয়েছে। কটেজেই মিলে যায় দিনের রাতের খাবার। সামনেই পুজোর মরশুম। আকাশ মেঘসাদা হয়ে উঠছে ক্রমশ। পাহাড়ে তো সবাই বেড়াতে যান, সঙ্গে রয়েছে সমুদ্র আর মরুভূমি। অনেকে আবার স্থ্যাপত্যের টানে ছুটে যান প্রাচীন মন্দির দেখতে। পক্ষীপ্রেমীদের ঠিকানা হয়ে ওঠে পাখিদের মুক্তাঞ্চল।

কিন্তু, শুধুমাত্র নদী দেখার জন্য কেউ কখনো বেড়াতে গিয়েছেন কি? কবি জীবনানন্দ দাশ লিখেছিলেন ‘আবার আসিব ফিরে ধানসিঁড়িটির তীরে এই বাংলায়।’ সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় বহুদিন আগে ধানসিঁড়ি নদীর উৎস সন্ধানে বেরিয়েছিলেন। ধানসিঁড়ি দেখে সুনীলের মনে হয়েছিল সরু নর্দমা! অথচ জীবনান্দের কাব্যিক কল্পনায় নদীটি হয়ে উঠেছে সেরা।

তবে সোনাংপেডেং বেড়াতে গেলে যে উমাংগট নদী আপনার ভালো লাগবেই, সে কথা হলফ করেই বলা যায়। কারণ, এই নদীর স্বচ্ছ জল বহুদিন ধরেই পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। সোনাংপেডেং যেতে হলে দমদম বিমান বন্দর থেকে গুয়াহাটি বিমান বন্দরে পৌঁছন। সেখান থেকে ভাড়া গাড়িতে যাওয়া যায় সোনাংপেডেং। হাতে সময় থাকলে অবশ্যই ঘুরে নিন ‘শেষের কবিতার দেশ’ শিলং। তাহলে আর দেরি কেন? আজই টিকিট কেটে ফেলুন!