অরুণাভ রাহারায়: প্রতি বছর এই সময় কত কত ভক্ত শিবের পুজো দিতে ছুটে যান নানা জায়গায়। রাস্তাঘাটে চোখ মেললেই চোখে পড়ে কমলা রঙের পোশাক পরে দলে দলে মানুষ চলেছে দেবতা শিবকে সন্তুষ্ট করতে! এতে রথ দেখা এবং কলা বেচা দুটো কাজই একসঙ্গে হয়ে যায়। যেমন ধরুন জলপেশ মন্দিরে কেউ পুজো দিতে গিয়েছেন। সেখানে গিয়ে পুজো দেওয়ার পাশাপাশি সেই জায়গাটি একটু ঘুরেও দেখে নেওয়া যায়। এ যেন এক প্রকার ভ্রমণও।

কিন্তু জানেন কি, সাহিত্যিক বুদ্ধদেব গুহ মনে করেন– ‘ভ্রমণ গন্তব্যে নেই, ভ্রমণ আছে রাস্তায়’। দেশ বিদেশের কত জায়গায় বেড়াতে গিয়েছেন এই লেখক। তাঁর কথার একটা আলাদা গুরুত্ব আছে বৈ কি! বুদ্ধদেব গুহ মনে করেন, পুরীতে বেরাতে গিয়ে জগ্ননাথ দেবের পুজো দেওয়া বাধ্যতামূলক নয়। বরং দেবতা ছড়িয়ে আছেন রাস্তায় কিংবা সমুদ্রে! সমুদ্র-স্নানের মধ্যে দিয়েও দেবতার পুজো হতে পারে। তেমনি শিবের পুজো দেওয়ার জন্য অতি ভক্তি দেখানোর মানে নেই। তার চেয়ে কোথাও বেড়াতে গিয়ে মনে মনে শিবের পুজো দিলে মহাভারত অশুদ্ধ হবে না। এতে বেড়ানো এবং পুজো দুই-ই হবে।

যেমন এই সময় আপনার বেড়ানোর ডেসটিনেশন হতে পারে শিবখোলা। এখানে গেলে মনে হবে শিব বুঝি খোলা মনে এখানকার প্রাকৃতিক সুন্দর্য সাজিতে তুলেছেন। রয়েছে সুবিস্তৃত চা-বাগান। পাহাড়ি পথে এঁকেবেঁকে চলে টয়ট্রেন। এ দৃশ্য দেখতে লাগে দারুণ। পাহাড়ের একপাশে গাছপালা এবং অন্যদিক নেমে গিয়েছে অতল খাদে। খাদে ঝুঁকলেই দেখা যায় দুরন্ত খরস্রোতা নদী। যাঁরা অফবিট ভ্রমণ ভালোবাসেন তাঁদের বিশেষ পছন্দ হবে এই নির্জন এবং কোলাহলমুক্ত জায়গাটি। হঠাৎ চোখে পড়তে পারে ময়ূর কিংবা একঝাঁক রংবেরঙের প্রজাপতি।

দেখার মধ্যে রয়েছে মহানন্দা অভয়ারণ্য। শিলিগুড়ি থেকে মাত্র ২৭ কিলোমিটার দূরের শিবখোলায় পৌঁছনো যায় সহজেই। শিয়ালদহ থেকে রাত ১১টা বেজে ২০ মিনিটের পদাতিক এক্সপ্রেসে চেপে পরদিন সকালে নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশনে নামুন। সেখান থেকে থেকে ভাড়া গাড়িতে শিবখোলা। সব মিলিয়ে দুটো দিনের ছুটি কাটানোর সেরা জায়গা শিবখোলা। রয়েছে শিবখোলা অ্যাডভেঞ্চার ক্যাম্পে। এই ক্যাম্পে রাত্রিবাসের অভিজ্ঞতা কোনও দিন ভোলার নয়। অ্যাডভেঞ্চার ক্যাম্পে থাকা-খাওয়ার জন্য প্রতিদিন মাথাপিছু খরচ ১৩২০ টাকা। যোগাযোগ: ৯৭৩৩৪ ৫৪৭৭৯। হাতে সময় থাকলে ঘুরে আসতে পারেন রংটং থেকে।