বিশেষ প্রতিবেদন: বর্ষায় অনেকেই পাহাড়ে যেতে চান না। কারণ বর্ষাকালে পাহাড়ে ধ্বস নামে। কিন্তু জানেন কি অল্প বর্ষায় পাহাড়ে বেড়ানোর রোমাঞ্চই আলাদা। কালিম্পং-আলগাড়া হয়ে গাড়িতে চার ঘণ্টায় পৌঁছনো যায় ছোট্ট পাহাড়ি গ্রাম রিকিসুমে। এই নামটি অচেনা হলেও ভ্রমণ রসিকদের কাছে বেশ সুপরিচিত।

বেড়াতে যেতে কার না ভালো লাগে, কিন্তু অফিসে ছুটি পাওয়া কি মুখের কথা? এই অবস্থায় উইকএন্ডই একমাত্র ভরসা। শিয়ালদহ থেকে শুক্রবার রাত ১১টা বেজে ২০ মিনিটের পদাতিক এক্সপ্রেসে উঠুন। পরদিন অর্থাৎ শনিবার ভোরবেলায় নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশনে নামুন। স্টেশনের বাইরেই আপনার জন্য পেক্ষা করছে ভাড়া গাড়ি। সেই গাড়িতে চেপে ঘণ্টা তিনেকের মধ্যেই পৌঁছে যান রিকিসুমে। গাড়ি ভাড়া পড়বে ৪০০০ টাকা।

কালিম্পং জেলায় হিমালয় পাহাড়ের কোলে অবস্থিত একফালি সবুজ গ্রাম রিকিসুম। এখানে বিক্ষিপ্ত জনবসতি। হাতে গোনা কয়েকটি মাত্র পরিবার। রিকিসুম জুড়ে রয়েছে নানা রঙের ফুল। পাহাড়ের একদিকে ধূপী আর পাইন গাছের সারি। আর অন্যদিক নেমে গিয়েছে অতল খাদে। এখানকার রাস্তাঘাট বেশ সুন্দর। রাস্তার বাঁকে বাঁকে নিজের রূপ মেলে ধরেছে অপরূপ হিমালয়।

শনিবার সকাল থেকেই রিকিসুমে আপনার ভ্রমণ শুরু। যদিও পর্যটকদের আসল ভ্রমণ শুরু হয় যাত্রা থেকে! রিকিসুমের উচ্চতা ৬৩০০ ফুট। যারা অফবিট ভ্রমণ পছন্দ করেন, তাদের খুব ভালো লাগবে এই জায়গাটি। চোখে পড়বে নানা প্রজাতির পাখি। রিকিসুম অত্যন্ত নির্জন এবং কোলাহলমুক্ত। তাই এই গ্রামে দুটো দিনের অবকাশ কাটাতে ভালোই লাগবে আপনার। শনিবার সারাটাদিন ঘুরে সন্ধের মধ্যেই হোম স্টে বা লজে ঢুকে বিশ্রাম নিন। রয়েছে স্বর্ণশিখর লজ। ফোন- ৯৮৩০৯৪৭৩৫২।

এখানকার মোমোর স্বাদ চেখে দেখতে পারেন। সন্ধে হলেই গুটিকয় ঘরবাড়িতে জ্বলে ওঠে আলো– যা দেখতে লাগে দারুণ। পরদিন রবিবার কাকভোরে প্রকৃতি দেখতে বেড়িয়ে পড়ুন। নিজের চোখে দেখতে পাবেন কবি শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের কবিতার লাইন– ‘এখানে মেঘ গাভীর মতো চরে’। ঘুরে বেড়ান ধূপীবনে। কাছেই রয়েছে ভগ্নপ্রায় বাংলো। এখান থেকে নিউ জলপাইগুড়ির দূরত্ব ৯৬ কিলোমিটার। দুপুরে রওনা হয়ে ৭ টার মধ্যে ফিরে আসুন এনজেপি স্টেশনে। সেখান থেকে আবার পদাতিক এক্সপ্রেস ধরে সোমবার সকালেই সোজা কলকাতা ফিরুন।