পর্যটন মানচিত্রে লামাহাটা খুব বেশি পরিচিত ডেসটিনেশন নয়। তবে দার্জিলিঙের সামান্য দূরে আপনার জন্য অপেক্ষা করছে অফুরন্ত পাইন বন। লামাহাটা মানেই পাহাড়ের পর পাহাড়। প্রকৃতি এখানে প্রতি মূহূর্তে রঙ বদলায়। খোলা পাহাড়ি পরিবেশে রয়েছে মন মাতানো চা বাগান। চারদিক নিঃশব্দ। প্রকৃতি খুব যত্ন করে ধীরে ধীরে সাজিয়ে তুলেছে লামাহাটাকে।

লামাহাটার কথা উঠলেই অবধারিত ভাবে চলে আসে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম। তাঁর উদ্যোগেই ২০১৩ সাল থেকে পর্যটন মানচিত্রে স্থায়ী জায়গা করে নিয়েছে ছোট্ট নিস্তরঙ্গ গ্রাম লামাহাটা। এখানে আছে বেশ কয়েকটি হোম-স্টে। আগে লামাহাটায় এসে অনেকে তাঁবুর মধ্যে রাত কাটাতেন, তবে এখন থাকার জায়গাগুলি পর্যটকদের জন্য উপযোগী করে তোলা হয়েছে।

লামাহাটা বৌদ্ধ অধ্যুষিত অঞ্চল। তাই পাঁচ রঙের পতাকায় সাজিয়ে তোলা হয়েছে জায়গাটি। দেখলেই মন ভরে যাবে। লামাহাটা জুড়ে যে অফুরন্ত পাইন বন আছে তা দার্জিলিঙ জেলার আর কোথাও নেই। ল্যান্ডস্কেপের ফোটগ্রাফি করতে হলে লামাহাটার জুড়ি মেলা ভার।


পাশেই রয়েছে তাগদা গ্রাম। অবশ্যই ঘুরে আসুন। এখানে রয়েছে লোভনীয় চা বাগান। অপার্থিব দৃশ্যপট। মেঘ-কুয়াশার লুকোচুরি। প্রকৃতির ছোঁয়া পাবেন কানায় কানায়। পাইন বনে এলোমেলো ঘোরাঘুরির সময় হারিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। তাই ঘোরার সময় গাইড নিন। ওয়াচ টাওয়ারে উঠে কঞ্চনজঙ্ঘার মনমুগ্ধকর সুন্দর্য উপভোগ করুন।

কীভাবে যাবেন: শিয়ালদহ থেকে রাত্রি ৮টা ৩০ মিনিটে ১৩১৪৯ কাঞ্চনকন্যা এক্সপ্রেসে চেপে পরদিন নিউ জলপাইগুড়ি নামুন। সেখান থেকে ভারা গাড়িতে সরাসরি লামাহাটা যাওয়া যায়।

কোথায় থাকবেন: লামাহাটায় এখন থাকার জায়গার অভাব নেই। বাড়িতে বাড়িতে হোম-স্টে-র ব্যবস্থা আছে। বাড়িগুলিও নানাভাবে পর্যটকদের জন্য উপযোগী করে তোলা হয়েছে।