জলঢাকা নদীর ধারে এক অপূর্ব ভ্রমণক্ষেত্র ঝালং। চালসা থেকে কুমানি, গৈরিবাস হয়ে জঙ্গুলে পথ চলে গিয়েছে ঝালঙের দিকে। নবাংলোর পাশে ঝোলুং ঝোরা এঁকেবেঁকে গিয়ে মিশেছে জলঢাকা নদীতে। রুপোলি ফিতের মতো জলঢাকা নদী। নীল জল। ওপরে ছট্ট একটা ব্রিজ। পা দিতেই নড়ে উঠবে দোলনা ব্রিজটা। সব মিলিয়ে দিন কয়েকের নিরিবিলি ঠিকানা হতে পারে ঝালং।

রঙিন কাঠের ঘরবাড়ি আর রাস্তার ধারে কমলালেবুর বাগান। ঝালং থেকে পাহাড়ি পথে ছোট্ট গ্রাম প্যারেন হয়ে ভুটান সীমান্তে ভারতের শেষ জনপদ। ধূসর পাহাড়ের গায়ে লেপ্টে থাকা ঘন সবুজ বন। ঝরনার শব্দ ছাড়া অন্য কিছু কানে আসে না এখানে। রাতের ঝালং-ও মায়াময়। সন্ধে নামলে গোটা এলাকার দখল নেয় ঝিঁঝি। চোখের সামনে দিয়ে উড়ে যায় জোনাকি।


ঝালঙের পাশেই ছবির মতো পাহাড়ি গ্রাম বিন্দু। এখানে প্রচুর গাছগাছালালি রয়েছে– ফায়ারবল, পিটুনিয়া, গ্ল্যাডিয়োলা আর অর্কিডের ফুল। বিন্দুতে জলঢাকা ব্যারেজের ওপারে ভুটান। বাঁধের ওপর পায়ে হেঁটে ওঠা যায়। হেঁটে হেঁটেই দেখে নেওয়া যায় ওপারের ভুটান চৌহদ্দি। হাট বারে ভুটানের গ্রাম থেকে দলে দলে মানুষ আসে বিন্দুতে। জীবন যাপনের প্রয়োজন মুছে যায় ভৌগলিক সীমারেখা। বিন্দু নদী জলঢাকায় মিশেছে। নদীর গা থেকে খাড়াই উঠে গেছে ভুটান পাহাড়। আকাশ পরিচ্ছন্ন থাকলে বিন্দু থেকে হিমালয়ের বরফশৃঙ্গ দেখা যায়। বুধবারে ঝালং-এ আর বৃহস্পতিবারে বিন্দুতে হাট বসে। ঝালং থেকে দলগাঁও হয়ে রঙ্গো বেরিয়ে নেওয়া যায়। প্যারেন থেকে ঘুরে আসা যায় তোদে।

কীভাবে যাবেন: শিয়ালদহ থেকে ছাড়ছে ১৩১৪৯ কাঞ্চনকন্যা এক্সপ্রেস। রাত সাড়ে আটটায় ছেড়ে পরের দিন দুপুরে পৌঁছবে নিউ মাল জংশন। এখান থেকে ঝালং ৪৫ কিলোমিটার। গাড়ি রিজার্ভ করে আসতে হবে। হাজার দেড়েক টাকা ভাড়া পড়বে। এছাড়া, নিউ জলপাইগুড়িতে নেমেও আসা যায় ঝালং। নিউ জলপাইগুড়ি বা এনজেপি থেকে ঝালংয়ের দূরত্ব ১০৪ কিলোমিটার। গাড়ি বুকিং-এর জন্য
৯৮৭৪৬১৩২৬৭ এই নম্বরে যোগাযোগ করুন।

কোথায় থাকবেন: ঝালংয়ে সবচেয়ে ভালো থাকার জায়গা হল পশ্চিমবঙ্গ বন উন্নয়ন নিগমের তাঁবু। নদীর ধারে পরপর কয়েকটি তাঁবু রয়েছে। যেন প্রকৃতির কোলে বসবাস। জঙ্গলের অন্দরে তাঁবুতে ব্যবস্থাপনা ভালোই। তাঁবু বুকিং করতে হবে অনলাইনে: www.wbfdc.com বেসরকারি হোটেলও রয়েছে। তবে তাঁবুতে থাকার মজাই আলাদা। তবে ঝালং-এ বন উন্নয়ন নিগমের জলঢাকা বনবাংলো ও প্যারেনে বন বিভাগের কটেজ রয়েছে। বিন্দুতে থাকতে হবে বেসরকারি হোটেলে।