পর্যটন মানচিত্রে লাভা-লোলেগাঁও এখন সুপরিচিত। এখান থেকে খুব কাছেই নেওড়া ভ্যালির কোলে রিশপ জনপদ কালিম্পং অঞ্চলের সেরা পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। লাভা থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে এবং কালিম্পং থেকে ২৮ কিলোমিটার দূরে ৮২৫০ ফুট পাহাড়ি উচ্চতায় অবস্থিত। এই গরমে দিন কয়েক রিশপের ঠান্ডা অবসর পেলে প্রাণ জুড়িয়ে যাবে এক্কেবারে! রিশপে থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘার রূপ অকল্পনীয়। ‘রিশপ’-এর অর্থ পাহাড়চূড়া আর গাছ। দার্জিলিং জেলার পাহাড়ের মাথায় ছোট্ট এই গ্রামে বেড়াতে গেলে মনে হবে নামটা সত্যিই সার্থক। কারণ, এখান থেকে পাখির চোখে দেখে নেওয়া যায় ভারত ও নেপালের গোটা দশেক পর্বতচূড়া!

সঙ্গে রয়েছে পাইন বন। টিফিনদাড়া ভিউ পয়েন্ট থেকে পাহাড়ের প্যানোরমা দেখতে লাগে দারুণ। রিশপ থেকে দেখা যায় নাথুলা আর জেলেপলা পাসের কিছুটা অংশ। যা এক কথায় অপূর্ব। পাহাড়ের গায়ে সব সময় মেঘ ভেসে বেড়ায়। তবে রিশপে যে কোনও সময়েই আকাশের মুখ ভার হয়ে যেতে পারে। সঙ্গে ছাতা রাখুন। যখন তখন ঝমঝমিয়ে নামবে বৃষ্টি। সূর্যাস্তের পর আশপাশের পাহাড়ে জোনাকির মতো আলো জ্বলে ওঠার দৃশ্যও মনমুগ্ধকর!

রিশপে ৫-৬ কিলোমিটার দীর্ঘ রাস্তায় কোথাও পিচ নেই, পুরোটাই অসমান এবড়ো খেবড়ো পাথরের। রাস্তা কখনও হঠাৎ করে উঁচু হয়ে যায়, কখনও বা নিচু। তাই এই রাস্তায় হাঁটর জন্য স্পোর্টস সু পড়ুন। একটা ছোট মনাস্ট্রি আছে রিশপে, পায়ে হেঁটেই দেখে নিতে পারেন। রিশপ থেকে লাভা ট্রেক করেও যাওয়া যায়। জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে ঘণ্টাখানেকের ডাউনহিল ট্রেক। রিশপ যেহেতু ছোট একটা গ্রাম, তাই লাভার উপর অনেকটাই নির্ভরশীল জায়গাটা। বিদ্যুতের অনিয়মিত সরবরাহও এখানকার অন্যতম প্রধান সমস্যা। জলের সঙ্কটেও ভোগেন স্থানীয়েরা। কাজেই পর্যটকদের বার বার করে বলে দেওয়া হয়, এখানে গিয়ে জলের অপচয় না করতে।

কীভাবে যাবেন: শিয়ালদহ থেকে রাত্রি ৮টা ৩০ মিনিটে ১৩১৪৯ কাঞ্চনকন্যা এক্সপ্রেসে চেপে পরদিন নিউ মাল জংশনে নামুন। সেখান থেকে ভাড়া গাড়িতে সরাসরি রিশপ পৌঁছতে পারেন।

কোথায় থাকবেন: হোটেল রিশপ গ্রিন পার্ক, ফোন- ৯৮৩৬০২২৩৪৪, ভাড়া ১০০০-২২৫০ টাকা