বিশেষ প্রতিবেদন: ইদানীং পর্যটন মানচিত্রে বিশেষ ভাবে জায়গা করে নিয়েছে উত্তরবঙ্গের গজোলডোবা। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই জায়গাটির পর্যটন প্রসারে আলাদা ভাবে গুরুত্ব দিয়েছেন। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসুর প্রিয় জায়গা ছিল উত্তরবঙ্গের হলং বনবাংলো। অবকাশ কাটাতে জ্যোতি বাবু ফি বছর ছুটে যেতেন এই বনবাংলে। বাংলোর শেফের রান্নাও বিশেষ প্রিয় ছিল তাঁর। বেড়াতে গেলে ঢেকি শাক হয়েও উঠত মখ্যমন্ত্রীর পাতে মুখ্য পদ! তারপর বহু জল গড়িয়েছে।

২০১১ সালে বাম জমানার অবসান ঘটিয়ে ঐতিহাসিক পরিবর্তন হয়েছে বংলায়। বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও মাঝে মধ্যেই উত্তরবঙ্গে ছটে যান। কাজের জন্য তাঁকে বেশি যেতে হয় দার্জিলিঙে। কাজের ফাঁকে পাহাড় দেখেন তিনি। উত্তরবঙ্গেরই আরেক জায়গা গজোলডোবাও তাঁর পছন্দের তালিকায় শীর্ষে। মমতার একান্ত আগ্রহে এখানে গড়ে উঠেছে তাঁর ড্রিম প্রোজেক্ট মেগা ট্যুরিজম হাব ‘‌ভোরের আলো’‌। এখন বহু পর্যটক এই গজলডোবায় ভিড় করেন। রয়েছে গজলডোবা বাঁধ।

বাঁধটি স্থাপিত হয়েছে ১৯৯৮ সালে। গজলডোবা বাঁধের (ব্যারাজ) মাধ্যমে তিস্তা নদীর নিয়ন্ত্রণ ভারতের হাতে চলে এসেছে। এই বাঁধে ফটক রয়েছে ৫৪টি। মূলত তিস্তার জল তিস্তা-মহানন্দা খালে পুনার্বাহিত করার উদ্দেশ্য নিয়েই এই বাঁধ গঠন করা হয়। ২ হাজার ৯১৮ কিলোমিটার দীর্ঘ তিস্তা-মহানন্দা খালের মাধ্যমে জলপাইগুড়ি, দার্জিলিং, উত্তর দিনাজপুর, দক্ষিণ দিনাজপুর, কোচবিহার ও মালদহ জেলায় সেচের জল সরবরাহ করা হয়। এখন গজলডোবায় গড়ে উঠেছে পরিবেশ উপযোগী ৬টি কটেজ। সেচ দফতরের কটেজ ‘হাওয়ামহল’ নামে সুপরিচিত।

এখানে রাত্রিবাসের অভিজ্ঞতাও চিরস্মরণীয়। জঙ্গল সাফারি, হাতি সাফারির সুযোগ তো রয়েইছে, এছাড়াও রয়েছে বেঙ্গল সাফারির মুক্ত চিড়িয়াখানা। এত কিছু একসঙ্গে দেখার সুযোগ খুব কম জায়গাতে পাওয়া যায়। কিন্তু গজলডোবায় এইসব অপেক্ষা করছে আপনার জন্য। জঙ্গল, নদী, কাঞ্চনজঙ্ঘা, বন্যপ্রাণ— সব পেয়ে যাবেন হাতের মুঠোয়। একেবারে রোমাঞ্চকর পরিবেশ পাবেন পর্যটকরা।

একদিকে তিস্তার বিপুল জলরাশি, অপর দিকে বৈকুণ্ঠপুরের ঘন জঙ্গল এবং চোখ মেললেই দেখা যায় সুবিস্তৃত হিমালয়। কয়েক বছর আগে বিশ্বের ২০টি দেশের ৫৬ জন প্রতিনিধি গজলডোবা ঘুরে মুগ্ধতার কথা জানিয়েছেন। যত দিন যাবে পযটন মানচিত্রে ততই উজ্জ্বল হবে গজলডোবা। তাহলে আর দেরি কেন? আপনিও ঘুরে আসুন।