বিশেষ প্রতিবেদন: প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য গ্যাংটক বহু দিন ধরেই পর্যটক মহলে সুপরিচিত। এখানে ফি বছর অনেকে বেড়াতে যান। ১৪৩৭ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত গ্যাংটক শহরটি সিকিমের রাজধানী এবং বৃহত্তম শহর। পূর্ব হিমালয় পর্বতশ্রেণির শিবালিক পর্বতের কোলে এই শৈল শহরের অবস্থান।

হিমালয় পর্বতমালার উচ্চতাসম্পন্ন রেঞ্জগুলি এখান থেকে দারুণ ভাবে দেখা যায়। যাঁরা এ দৃশ্য একবার দেখবেন তাঁরা কোনও দিন ভুলতে পারবেন না। গ্যাংটক শহরে সবসময় মেঘ ভেসে বেড়ায়। কোটেলের বারান্দায় বসে এই শহরের বৃষ্টি বেশ উপভোগ্য। রয়েছে পাইন গাছের সারি। পাহাড়ি রাস্তায় এলোমেলো ঘুরে বেড়ালেও জুড়িয়ে যাবে প্রাণ। গ্যাংটকে মাত্র ৩০ হাজার মানুষ বসবাস করে।

গ্যাংটকের প্রধান সড়কের নাম মহাত্মা গান্ধী মার্গ। রাস্তার দু’ধারে রয়েছে অগুনিত দোকান নানা রঙের ফুল দিয়ে সাজানো। এখানে পাওয়া যায় শীতবস্ত্রের। এছাড়াও এইসব দোকানে পাওয়া যায় স্থানীয় হস্তশিল্প। গ্যাংটকে বেড়াতে গেলে এইসব দোকান থেকে প্রিয়জনের জন্য উপহার কিনে আনতে পারেন। চোখ মেলে দেখে নিন অপরূপ কাঞ্চনজঙ্ঘা। শহরে রয়েছে হ্রদ ও ঝর্ণার বিনোদন। কাঞ্চনজঙ্ঘা জাতীয় উদ্যান এবং ফামবং লো বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যে রয়েছে নানা ধরণের বন্যপ্রাণী। রডোডেন্ড্রন, অর্কিড এবং পাখপাখালি এই শহরের বিশেষ আকর্ষণ।

মহাত্মা গান্ধীর বিশাল স্ট্যাচু গ্যাংটকের একটি দ্রষ্টব্য স্থান। পাহাড়ের কোলের রয়েছে রোপওয়ে চলাচলের ব্যবস্থা। রোপওয়ে চেপে পাহাড় দেখার আনন্দ চিরকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবে। এরপর চলে যান ছাঙ্গু লেকে। এই লেক গ্যাংটক থেকে ৩৮ কিলোমিটার দূরে ১২ হাজার ৪০০ ফুট উঁচুতে অবস্থিত। শীতে ছাঙ্গু লেকের জল বরফে পরিণত হয়। সেই সময় ইয়াকের পিঠে চেপে ঘুরে বেড়ানোর আনন্দই আলাদা! তারপর একে একে দেখে নিন– রুমটেক মনাস্ট্রি, টিবেটোলজি, কটেজ ইন্ডাস্ট্রি, চোর্তেন সৌধ, তাশি ভিউ পয়েন্ট, নামনাং ভিউ পয়েন্ট, ফ্লাওয়ার শো, বনঝকরি জলের জলপ্রপাত ইত্যাদি।

শরৎ এবং বসন্ত গ্যাংটক বেড়ানোর পিক টাইম। বিশেষ করে মে মাসে কলকাতার হাঁসফাঁস গরম থেকে স্বস্তি পেতে অনেকে ছুটে যান এই শৈলশহরে। থাকার জন্য রয়েছে একাধিক হোটেল। নির্দিষ্ট বাজেটের মধ্যে ভালো কিংবা মাঝারি মানের হোটেল পেয়ে যাবেন। শিয়ালদহ থেকে থেকে রাত ১১ টা বেজে ২০ মিনিটের পদাতিক এক্সপ্রেস ধরে পরদিন নিউ জলপাইগুড়িতে নামুন। সেখান থেকে ভড়া গাড়িতে সহজেই পৌঁছনো যায় গাংটকে। তবে আর দেরি কেন? আজই টিকিট কেটে ফেলুন!