স্টাফ রিপোর্টার, কোচবিহার: রাসায়নিক সারের হাত থেকে বাঁচতে ভরসা জৈব সার। জৈব সারের ব্যবহার বাড়াতে দেশজুড়ে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে সরকারি তরফে। এছাড়াও ২০২২ সালের মধ্যে কৃষিতে আয় দ্বিগুণ করার লক্ষ্যমাত্রা রেখেছে ভারত সরকার। সেই উদ্দেশ্যে দেশজুড়ে বিভিন্ন প্রকল্প করার উদ্যগ নেওয়া হচ্ছে।

ভারত সরকারের কৃষি মন্ত্রকের অন্তঃর্গত মশলা ও সুপারি পর্ষদের আর্থিক সহায়তায় উত্তরবঙ্গ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে শুরু হয়েছে। একমাস ব্যাপি কেঁচোসার উৎপাদন ও বানিজ্যকরণ বিষয়ে দক্ষতা বৃদ্ধির প্রশিক্ষণ চলবে। গত ২ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই প্রশিক্ষণ পর্ব চলবে ৪ মার্চ পর্যন্ত। এই প্রশিক্ষণ শিবিরের মূল উদ্দেশ্য কেঁচো সার উৎপাদন ও ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত যুবক যুবতীদের কেঁচো সারের উৎপাদনে দক্ষ করে তোলা এবং বানিজ্য করনের কৌশল শেখানো। এছাড়াও ঘরোয়া উৎপাদনকে ধাপে ধাপে বানিজ্যিক উৎপাদনে উন্নতি সাধন করা। যার ফলে একদিকে যেমন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে অন্যদিকে আয়ের রাস্তাও মজবুত হবে। এক মাসের এই প্রশিক্ষনে কেঁচো সার উৎপাদনে আধুনিক কৌশলের উপর জোর দেওয়া হবে বলে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য চিরন্তন চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন।

এই প্রশিক্ষণে অংশগ্রহনকারী যুবক যুবতীদের সকলেই বর্তমান যুগে জৈব সারের প্রয়জনীয়তার কথা তুলে ধরা হচ্ছে। মাটির স্বাস্থ্য ও মানুষের স্বাস্থ্যের পক্ষে জৈব সার বিশেষত কেঁচো সার কতটা প্রয়োজনীয় তা নিয়ে বিস্তর আলোচনা করা হচ্ছে। প্রশিক্ষণ শিবিরে অংশ নিতে পেরে খুশি এখানে উপস্থিত কৃষকরাও।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য চিরন্তন চট্টোপাধ্যায় বলেছেন, ভারত সরকারের আর্থিক সহায়তায় এই প্রশিক্ষন চলছে, তাঁর মতে এই প্রশিক্ষন দিয়েই শুধু কাজ হবেনা কেন্দ্র ও রাজ্য উভয় সরকারকে কৃষি পরিকাঠামো বৃদ্ধিতে আরও এগিয়ে আসা দরকার, তবেই এর সার্থকতা আসবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নীবন্ধক শুভেন্দু বন্দোপাধ্যায় বলেছেন, সরকারি তরফে যদি ঘোষণা করা হয় নির্দিষ্ট কিছু সবজিতে রাসায়নিক সার ব্যবহার করা যাবেনা, তবে জৈব সারের ব্যবহার অনেকটাই বাড়বে।