আলিপুরদুয়ার: ‘সিটিজেন্ট অ্যামেন্ডমেণ্ট বিল’ (ক্যাব) এর বিরোধিতায় উত্তাল গোটা দেশ। বিলটি আইনে পরিণত হওয়ার পর থেকেই ক্ষোভে ফুঁসছে গোটা দেশ। জ্বলছে তিন রাজ্য। শুক্রবার থেকেই যার রেশ ছড়িয়েছে এই রাজ্যেও। নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলের প্রতিবাদে সামিল বাংলাও। জেলায় জেলায় চলছে বিক্ষিপ্ত অবরোধ, বিক্ষোভ এবং অশান্তির আগুন। যার ফলে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে সাধারণ জনজীবন। সাধারণ মানুষের এই বিক্ষোভে সব থেকে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে রেল পরিষেবা। শনিবার আলিপুর দুয়ার এবং নিউ আলিপুর দুয়ার জংশন রেল স্টেশনে আটকে পড়া অসহায় যাত্রীদের সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিলেন স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব।

গোটা রাজ্যবাসীকে যখন শান্তিপূর্ণ ভাবে আন্দোলন করার বার্তা দিচ্ছে মুখ্যমন্ত্রী থেকে রাজ্যের বিভিন্ন মন্ত্রীরা। তখন আলিপুরদুয়ার এবং নিউ আলিপুর দুয়ার জংশনে আটকে থাকা যাত্রীদের, খাবার এবং শীতবস্ত্র দিয়ে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিল জেলা তৃণমূল কংগ্রেস।

ক্যাব পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার থেকেই সমস্যায় পড়েন বিভিন্ন রুটের দূরপাল্লা ট্রেনের যাত্রীরা। ট্রেন বাতিলের জেরে গত বৃহস্পতিবার থেকেই এই স্টেশনে আটকে রয়েছে অসংখ্য রেলযাত্রী। যাদের মধ্যে বেশিরভাগ রয়েছে ত্রিপুরার বাসিন্দা। ফলে অসমের এই অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতির জেরে আলিপুর দুয়ার, নিউ আলিপুর দুয়ার জংশন রেল স্টেশনে কোনও মতে রাত কাটাতে হচ্ছে তাঁদের।

একদিকে নাগরিকত্ব নিয়ে সংকট অন্যদিকে কনকনে ঠাণ্ডায় প্লাটফর্মে বসে থাকায়, কার্যত অসহায় পরিস্থিতি তাঁদের। এই অবস্থায় তাঁদের পাশে এসে দাঁড়াল আলিপুর দুয়ারের তৃণমূল কংগ্রেস এবং স্থানীয় তৃণমূল বিধায়ক। স্থানীয় বিধায়ক এবং জেলা তৃণমূল নেতৃত্বের সহযোগিতায় শনিবার আলিপুর দুয়ার স্টেশনে আটকে থাকা যাত্রীদের খাবার এবং শীতবস্ত্রের ব্যবস্থা করে দেন তিনি। যদিও স্টেশনে আটকে থাকা যাত্রীরা যাতে দ্রুত বাড়ি ফিরতে পারেন সেই আর্জিই জানিয়েছেন ওই বিধায়কের কাছে।

এদিকে স্থানীয় তৃণমূল বিধায়ক সৌরভ চক্রবর্তী জানান, আলিপুর দুয়ার স্টেশনে অপেক্ষারত যাত্রীদের জন্য এই ব্যবস্থা। তাঁরা যাতে দ্রুত ঘরে পৌঁছাতে পারেন তার জন্য সবরকম চেষ্টা করা হবে।