স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: পরিযায়ী শ্রমিকদের রাজ্যে পাঠানো নিয়ে রেলের ভূমিকায় বেজায় ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর হস্তক্ষেপ চাইলেন তিনি। বুধবার নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমাকে রাজনৈতিকভাবে সমস্যা ফেলতে গিয়ে বাংলার সর্বনাশ করা হচ্ছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে আমি প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ দাবি করছি।”

নবান্নর আর্জি উপেক্ষা করে ৪৮টি ট্রেনকে মহারাষ্ট্র থেকে পশ্চিমবঙ্গে পাঠাচ্ছে রেল। যার মধ্যে ৪৩টি ট্রেনের নির্ধারিত সূচীও তৈরি। মঙ্গলবার মহারাষ্ট্রের বিভিন্ন স্টেশন থেকে ২৭টি ট্রেন পরিযায়ী শ্রমিকদের নিয়ে রওনা দিয়েছে। যার মধ্যে বুধবার রাতেই রাজ্যে আসছে আটটি ট্রেন। এদিন নবান্নে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে জেলাশাসক ও পুলিশ সুপাদের নিয়ে বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানেই রেলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দেন।

মহারাষ্ট্র থেকে পরপর ট্রেন পাঠানোর প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, “পরিযায়ী শ্রমিকরা আসার পর রাজ্যে করোনা সংক্রমণ বাড়ছে। তাই রাজ্য চেয়েছিল বিশেষ পরিকল্পনা করে পরিযায়ী শ্রমিকদের আনতে। কিন্তু রেল রাজ্যের কথা শুনল না।”

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথায়, “স্রেফ ভুল পরিকল্পনা ও ভ্রান্ত ব্যবস্থাপনার জন্য সারা দেশে করোনা ছড়াচ্ছে। রেল রাজ্যের সঙ্গে কথা না বলে পরিযায়ী শ্রমিকদের ইচ্ছামতো পাঠানো হচ্ছে।” সেইসঙ্গে তিনি বলেন, মহারাষ্ট্র থেকে একসঙ্গে ৪০টি ট্রেন পাঠানো হচ্ছে। রাজ্যের সঙ্গে আলোচনাই করা হয়নি। আমি মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী সঙ্গে এটা নিয়ে কথা বলেছি। তিনিও জানান এ নিয়ে কেন্দ্র সরকার তাঁদের সঙ্গে কথাই বলেনি।”

এদিন জেলায়-জেলায় বিশেষ টাস্ক ফোর্স গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এমনকী, মধ্যপ্রদেশ, গুজরাট, দিল্লি, মহারাষ্ট্র, চেন্নাই থেকে পরিযায়ী শ্রমিকরা ফিরলে তাঁদের সরকারি কোয়ারেন্টাইনে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তার জন্য স্কুলগুলি ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

অন্যদিকে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘আমফানে সুন্দরবনের সর্বনাশ হয়েছে। আমফানের জন্য রাজ্যের ৬০ শতাংশ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। সুন্দরবন, নামখানায় নদীবাঁধের অবস্থা খারাপ।’ ভেঙে পড়া বা ফাটল ধরা নদীবাঁধগুলি দ্রুত মেরামতের নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এরই পাশাপাশি দুর্যোগ মোকাবিলায় টাস্ক ফোর্স গড়া হবে বলেও জানিয়ছেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই টাস্ক ফোর্সে বিডিও, আইসি ও বিধায়কদের রাখা হবে। আমফানের তাণ্ডবের জেরে সুন্দরবনের লোকালয়গুলিতে পানীয় জল সরবরাহ ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেই ক্ষতি মেরামতে আপাতত ১০০ কোটি টাকা রাজ্য সরকারের তরফে বরাদ্দের ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।

প্রবল ঘূর্ণিঝড় আমফানের তাণ্ডবে সুন্দরবনের নদীবাঁধগুলির অবস্থা অত্যন্ত খারাপ। একাধিক জায়গায় ভেঙেছে গাছ। বিদ্যুতের খুঁটিও ভেঙেছে বহু। ঝড়ের তাণ্ডবের পর সপ্তাহখানেক কেটে গেলেও এখনও একাধিক এলাকায় বিদ্যুৎ পরিষেবা ব্যাহত। আমফানের জেরে রাজ্যের প্রায় সাড়ে দশ লক্ষ হেক্টর কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সমস্যা মেটাতে সমুদ্রের নোনাজল যেখানে ঢুকেছে সেখানেও এবার পরীক্ষামূলকভাবে চাষ করা হবে বলেই জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। ঝড়ের তাণ্ডবে নষ্ট হয়েছে ১ লক্ষ পানের বরোজও। ক্ষতিগ্রস্ত পানচাষিদের পাঁচ হাজার টাকা করে আর্থিক সাহায্য দেবে রাজ্য সরকার।

প্রশ্ন অনেক-এর বিশেষ পর্ব 'দশভূজা'য় মুখোমুখি ঝুলন গোস্বামী।