নয়াদিল্লি: ভাড়া বাড়ানো হয়েছে রেলের। কিলোমিটার প্রতি হিসেবে বাড়ানো হয়েছে সেই ভাড়া। বর্ধিত ভাড়া কার্যকর হচ্ছে ১ জানুয়ারি থেকে। অর্থাৎ বছরের প্রথম দিন থেকেই আপনাকে বেশি ভাড়া দিয়ে যাতায়াত করতে হবে।

সাধারণ নন এসি ট্রেনের ক্ষেত্রে প্রতি কিলোমিটারে ১ পয়সা, মেল ও এক্সপ্রেস ট্রেনের ক্ষেত্রে প্রতি কিলোমিটারে ২ পয়সা ও এসি ক্লাসের ক্ষেত্রে প্রতি কিলোমিটারে ৪ পয়সা করে ভাড়া বাড়ছে।

যেসব ট্রেনে বর্ধিত ভাড়া দিতে হবে সেগুলি হল- রাজধানী এক্সপ্রেস, শতাব্দী, দুরন্ত, বন্দে ভারত, হামসফর, মহামনা, অন্ত্যোদ্বয়, গরিব রথ, রাজ্য রানি, জন শতাব্দী, সুবিধা, যুবা ও স্পেশাল ট্রেনে।

দিল্লি-কলকাতা রাজধানী এক্সপ্রেসকে যেতে হয় ১৪৪৭ কিলোমিটার। অর্থঅৎ ৪ পয়সা করে হলে ভাড়া বাড়ছে ৫৮ টাকাএই ভাড়া অবশ্য জিএসটি ছাড়া। দিল্লি-মুম্বই রাজধানীতে ভাড়া বাড়ছে ৫৫ টাকা, দিল্লি-বেঙ্গালুরুর ক্ষেত্রে ৯৭ টাকা ভাড়া বাড়ছে।

শতাব্দী এক্সপ্রেসে যদি ৫০০ কিলোমিটা যেতে হয়, তাহলে ভাড়া বাড়বে ২০ টাকা। দিল্লি-অমৃতসর শতাব্দী এক্সপ্রেসের ৪৪৯ কিলোমিটা ভাড়া বাড়ছে ১৮ টাকা। দিল্লি-লখনউ শতাব্দীর ভাড়া বাড়ছে ২১ টাকা আর দিল্লি-হবিবগঞ্জ শতাব্দীর ভাড়া বাড়ছে ২৮ টাকা।

মুম্বই সেন্ট্রাল-নয়াদিল্লি দুরন্ত এক্সপ্রেসকে ১৩৮৪ কিলোমিটার যেতে হয়। এর ভাড়া বাড়ছে ৫৫ টাকা। লোকমায়া তিলক টার্মিনাস- এনারকুলম দুরন্ত এক্সপ্রেসের ভাড়া বাড়ছে ৬৪ টাকা, যশবন্তপুর দিল্লি সরাই রোহিলা এসি দুরন্ত এক্সপ্রেসের ৯৫ টাকা বাড়ছে।

বর্ষশেষের সন্ধেতেই ঘোষণা করা হয় নতুন ভাড়া। আর সেই মতো আজ ১ জানুয়ারি থেকেই কার্যকর হল সেই বর্ধিত ভাড়া।

তবে যেসব যাত্রী ইতিমধ্যেই প্রি-বুক করে ফেলেছেন রেলের টিকিট, তাঁদের কোনও চিন্তার কারণ নেই। তাঁদের নতুন দামের আওতায় পড়তে হবে না বলেই ভারতীয় রেলের তরফে জানানো হয়েছে।

রেলের তরফে যে তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে তাতে সর্বোচ্চ বর্ধিত ভাড়ার মূল্য ৪ পয়সা প্রতি কিলোমিটার। এসি ক্লাসে নন এসি ট্রেনের ক্ষেত্রে ২ পয়সা করে ভাড়া বাড়ছে। রেল স্টেশনগুলিতে নতুন চার্ট দেওয়া হয়ে জানুয়ারি থেকে।

শহরতলির ট্রেনের ক্ষেত্রে ভাড়া একই আছে, বাড়ানো হয়নি।

সংবাদসংস্থা ইউএনআই-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, প্রতি কিলোমিটারে ভাড়া বাড়বে ৫ থেকে ৪০ পয়সা। বেশ কিছুদিন ধরেই আর্থিক অনটনের মুখে পড়েছে ভারতীয় রেল। বিশেষত ইকনমিক স্লো-ডাউন শুরু হওয়ার পর রেলের পক্ষে সেই ধাক্কা সামাল দেওয়া মুস্কিল হয়ে পড়েছে।

যা আশা করা হয়েছিল, তার থেকে বৃদ্ধির হার অনেকটাই কম হয়েছে। রেলের হাতে রেভিনিউও এসেছে খুব কম। অন্যদিকে, যেহেতু এয়ারলাইন সংস্থাগুলি বিমানের ভাড়া কম রেখেছে, তাই রেলে যাত্রী কমেছে। যে সময়ে রেলের আয় হয়েছে ৯৯,২২৩ টাকা, সেই একই সময়ে ব্যয়ের পরিমাণ ১ কোটি ১৮ লক্ষ টাকা।

২০১৭-১৮ তে রেল যে রোজগার করেছে, তা ১০ বছরের মধ্যে সবথেকে কম। ক্যাগের রিপোর্ট সেকথাই বলছে। অর্থাৎ রেল তাদের খরচের সঙ্গে আয় পাল্লা দিতে পারছে না। লাভের ৯৫ শতাংশ চলে যাচ্ছে লোকসান সামাল দিতে। রেলের রেভিনিউ কতটা কমেছে, সেটাও প্রকাশছে এসেছে অডিট রিপোর্টে। ২০১৬-১৭-তে যেকানে ৪,৯১৩ কোটি টাকা রেভিনিউ এসেছিল, সেখানে ২০১৭-১৮ তে রেভিনিউ এসেছে মাত্র ১,৬৬৫ কোটি।