স্টাফ রিপোর্টার, বর্ধমান: নয়া নিয়মে মাথায় হাত পড়ার জোগাড় মধ্যবিত্তের৷ এবার কি ড্রয়ইরুমের বিনোদনেও কোপ পড়তে চলল? সেরকমই ইঙ্গিত দিচ্ছে কেবল চ্যানেল নিয়ে জারি করা নয়া বিজ্ঞাপনগুলো৷ ইতিমধ্যেই এ নিয়ে শুরু হয়ে গেছে অসন্তোষ, ক্ষোভ, ঝামেলা৷

সম্প্রতি টেলিকম রেগুলেটেভ অথরিটি অব ইণ্ডিয়ার পক্ষ থেকে কেবল চ্যানেল এবং বিশেষত পে-চ্যানেল গুলির জন্য নির্দিষ্ট মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। উদ্দেশ্য, কেবল অপারেটরদের দৌরাত্ম বন্ধ করা এবং গ্রাহকদের কাছ থেকে ইচ্ছেমত টাকা আদায় করতে না পারা। আরও বিশেষভাবে বলতে গেলে, ট্রাই-এর এই নির্দেশ অনুসারে গ্রাহকরা নিজেদের পছন্দমত চ্যানেল দেখবেন নির্দিষ্ট অর্থের বিনিময়ে।

ফাইল ছবি

 

বর্তমানে বর্ধমান শহর জুড়ে ১৭০-১৮০ টাকা মাসিক ভাড়ায় গ্রাহকরা প্রায় সমস্ত চ্যানেলই দেখতে পাচ্ছেন। কিন্তু নয়া নির্দেশিকা অনুসারে গ্রাহককে ১০০টি ফ্রি চ্যানেলের জন্য প্রায় ১৫৫ টাকা দিতেই হবে। তার ওপর চাপবে পে -চ্যানেলের অর্থ জিএসটি সহ। আর এখানেই সমস্যা তীব্র আকার নিচ্ছেন। আর তাই সোমবার থেকে ট্রাই-এর এই নির্দেশকে সংশোধন ও পরিবর্তন করার দাবিতে রাস্তায় নামলেন কেবল অপারেটররা।

কারণ তাঁরা বলছেন প্রায় প্রতিটি পরিবারে ঢুকে পড়া কেবল চ্যানেলে (পে-চ্যানেলে) বাড়ির সদস্যদের পছন্দের চ্যানেল বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আলাদা আলাদা। ফলে বাচ্চা থেকে বুড়োর চাহিদা মত পে-চ্যানেল দেখতে গিয়ে আখেরে গৃহস্থের পকেট থেকে বর্তমানে দেওয়া মাসিক টাকার প্রায় দ্বিগুণ টাকা দিতে হবে।

সোমবার এই দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে পূর্ব বর্ধমান জেলাশাসক, জেলা পুলিশ সুপার এবং জেলা পরিষদের সভাধিপতির কাছে স্মারকলিপি দিলেন বর্ধমান টাউন এণ্ড রুরাল কেবল অপারেটরস এ্যাসোসিয়েশন। সংগঠনের সম্পাদক শ্যামল কুমার চৌধুরী জানিয়েছেন, “ট্রাই-এর নিয়মানুসারে সাধারণ গ্রাহককে চলতি ডিসেম্বর মাসের শেষ থেকেই বিভিন্ন পে-চ্যানেল দেখতে গেলে অতিরিক্ত অর্থ দিতে হবে। বর্তমানে গড়ে একজন গ্রাহক ১৭০-১৮০ টাকা প্রতিমাসে দিয়ে চ্যানেল দেখছেন। কিন্তু ট্রাই-এর নয়া অনুসারে ২৯ ডিসেম্বরের পর থেকে কোনো গ্রাহক পে-চ্যানেল দেখতে গেলে তাঁকে আলাদা আলাদাভাবে তার দাম মেটাতে হবে। এরসঙ্গে রয়েছে জিএসটির বোঝা। ফলে সবমিলিয়ে নিজেদের পছন্দের চ্যানেল দেখতে গিয়ে কার্যত গ্রাহকদের ওপর অর্থের বোঝা চাপবে। একইসঙ্গে প্রতিমাসে এই বাড়তি অর্থ দিতে না পারায় অনেক গ্রাহকই কেবল সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে পারেন”৷

আরও পড়ুন : সরকারি স্কুলই বিয়েবাড়ি! দোষ ঢাকতে আজব সাফাই কর্তৃপক্ষের

এরফলে চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে চলেছে কেবল অপারেটররা। শ্যামলবাবু জানিয়েছেন, গোটা পূর্ব বর্ধমান জেলায় প্রায় ১ হাজারেও বেশি কেবল অপারেটর রয়েছেন। গ্রাহক রয়েছেন ১৫ লক্ষেরও বেশি। প্রতিটি কেবল অপারেটরের সঙ্গে প্রত্যক্ষ এবং অপ্রত্যক্ষভাবে যুক্ত রয়েছেন গড়ে ৪ থেকে ৫টি পরিবার। ফলে বর্ধিত মূল্য দিতে না পারলে যদি গ্রাহকরা কেবল সংযোগ কেটে দেন তাহলে কার্যত ক্ষতির মুখে পড়বেন কেবল অপারেটররাই।

তিনি জানিয়েছেন, অবিলম্বে এই নির্দেশ প্রত্যাহার কিংবা গ্রাহকদের সুবিধার্থে পে-চ্যানেলের দাম কম করা না হলে তাঁরাও আর কেবল লাইন চালাতে পারবেন না। সেক্ষেত্রে গ্রাহককে ১০০টি ফ্রি চ্যানেলই তাঁরা দেখাবেন। কোনো পে-চ্যানেল তাঁরা দেখাবেন না।