প্রতীকী ছবি

সুভাষ বৈদ্য,কলকাতা: এবছরও টাকি ইছামতীর বিসর্জনে দেখা যাবে না দুই বাংলার মিলন উৎসব৷ দু’বছর আগেও ইছামতীর জল সীমান্তে দুই বাংলা মিলে মিশে একাকার হত৷ হাজার হাজার মানুষ জড়ো হতেন দুর্গা প্রতিমা বিসর্জন দেখতে৷ এবছর দুপুর আড়াইটা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে পাঁচটা পর্যন্ত প্রতিমা বিসর্জনের সময় নির্ধারণ করে দিয়েছে প্রশাসন৷

উত্তর ২৪ পরগনার টাকিতে গত বছরের মত এবছরের বিসর্জনেও দেখা যাবে না ঐতিহ্যের মেল বন্ধন৷ দেখা মিলবে না দুর্গা প্রতিমা নিয়ে দুই বাংলার পতাকা লাগানো নৌকার৷ এ যেন জল পথেও কাঁটা তারের বেড়া৷ তাই মন খারাপ এপারের রাম, অশোকের মত ওপারের ভোলা, লালটু বা রফিকুলদের৷ নতুন প্রজন্মের কাছে এপার বাংলা ওপার বাংলার বার্ষিক মিলন উৎসব এখন ইতিহাস৷

দীর্ঘদিন ধরে ঐতিহ্য বহন করে এসেছিল টাকির ইছামতি নদী৷ দুর্গা প্রতিমা ভাসানের উদ্দেশ্যে নদীতে নামতো দু’বাংলার অসংখ্য নৌকা । নদীর বুকেই বিজয়ার কোলাকুলি ও আলিঙ্গনে মিলিত হতেন এপার বাংলা- ওপার বাংলার মানুষ। টাকির ইছামতির বুকে দু’দেশের এই মিলন উত্‍সবের টানে প্রতি বছর ছুটে আসতেন ভিন রাজ্যের বহু পর্যটক৷ ভিড় জমাতেন এ রাজ্যের বাসিন্দারাও৷

কিছুদিন আগে টাকিতে দু’দেশের সীমান্তরক্ষী ও প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে একটি ফ্ল্যাগ মিটিং হয়৷ ফ্ল্যাগ মিটিংয়ে হাজির ছিলেন বাংলাদেশের সাতক্ষীরার চেয়ারম্যান, বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কমান্ডেন্ট ও অন্যান্য প্রশাসনিক আধিকারিক ও এদেশের বিএসএফের ১৫৩ নম্বর ব্যাটেলিয়ন কোম্পানীর কমান্ডেন্টরা৷ এছাড়া উপস্থিত ছিলেন টাকি পৌরসভার চেয়ারম্যান সোমনাথ মুখোপাধ্যায় ও প্রশাসনিক আধিকারিকরা।

টাকি পৌরসভা চেয়ারম্যান সোমনাথ মুখোপাধ্যায় জানালেন, টাকি ইছামতির নদীতে দুর্গা প্রতিমা বিসর্জন হবে তবে যে যার সীমান্তে প্রতিমা বিসর্জন দেবে৷ ইছামতির নদীর মাঝ বরাবর বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী ও ভারতের সীমান্ত রক্ষী বাহিনী যৌথ নজরদারি চালাবে৷ পৌরসভার অনুমতি ছাড়া ইছামতি নদীতে নামাতে পারবে না কোনও নৌকা৷