স্টাফ রিপোর্টার, বারাকপুর: হাতে গোনা আর মাত্র কয়েক দিনের অপেক্ষা , তারপরেই শহর থেকে শরতলি সেজে উঠবে আলোর উৎসবে। শ্যামা মায়ের আগমনে আকাশ-বাতাস ভরে উঠবে আলোর মালায়। আর দীপাবলির আরাধনার আয়োজনে জোর কদমে শুরু হয়ে গিয়েছে পুজো উদ্যোক্তাদের প্রস্তুতি। পিছিয়ে নেই জেলার পুজো গুলিও। সর্বত্রই এখন চলছে সাজসাজ রব।

শ্যামা মায়ের আরাধনায় উত্তর চব্বিশ পরগণা জেলার নৈহাটি রেল ষ্টেশন সংলগ্ন অরবিন্দ রোডের বড়মার পুজো এবার ৯২ বছরে পড়বে। নৈহাটির অন্যতম এই বিখ্যাত পুজো ঘিরে নৈহাটিবাসীর উত্তেজনা এখন তুঙ্গে। জানা গিয়েছে, নৈহাটির বড়কালি নামে বিখ্যাত বড়মার পুজো। চলছে জোরকদমে তারই আয়োজনের প্রস্তুতি। আর নৈহাটির বিখ্যাত এই কালী পুজো ঘিরে রয়েছে একটি ছোট্ট কাহিনী।

সূত্রের খবর, ৯২ বছর আগে নৈহাটির বাসিন্দা ভবেশ চক্রবর্তী তার বন্ধুদের সঙ্গে নবদ্বীপে রাসের মেলায় ঠাকুর দেখতে গিয়েছিলেন। আর সেখানে বড় বড় প্রতিমা দেখেন তারা। যেগুলি বড় কাঠের কাঠামোতে তৈরী এবং বির্সজন দেওয়ার সময় সেই বিশাল মূর্তি টেনে নিয়ে গিয়ে গঙ্গায় দেওয়া যায়। এই দৃশ্য দেখার পর তখন থেকেই ভবেশ বাবু ঠিক করেন যে, নৈহাটিতে তিনি এইরকম পুজো শুরু করবেন।

তার সেই ইচ্ছে থেকে শুরু নৈহাটির বড় কালি পুজোর। জানা গিয়েছে, এই পুজো প্রথমে ভবেশ চক্রবর্তীর বাড়ির পুজো থাকলেও ২০১২ সাল থেকে পুজোটি বারোয়ারি পুজো হিসেবে প্রথম পরিচলনা শুরু হয়। আরও জানা গিয়েছে, বর্তমানে নৈহাটিতে অনেক গুলি বড় কালী পুজো হলেও বড়মার পুজোর ঐতিহ্য অন্যরকম। কারন, এই প্রতিমার উচ্চতা হয় ২১ ফুটের। এবং পুজোর প্রস্তুতি শুরু হয় কাঠামো পুজোর মধ্যদিয়ে। জানা গিয়েছে, লক্ষী পুজোর দিন কাঠামো পুজো হয় এখানে। এরপর সেই কাঠামোতে মাটি পড়ে এবং সেটি থেকেই মূর্তি তৈরি করা হয়।

এদিকে, নৈহাটির কালী পুজোর রীতি হল বড়মার পূজো না হলে নৈহাটির কোন প্রতিমারই পূজো শুরু হয় না। ঠিক তেমনই বড়মার প্রতিমা বির্সজন না হলে নৈহাটির কোন ঠাকুর বির্সজন হয় না বলে জানা গিয়েছে। সূত্রের খবর, বড়মাকে পুজোর আগের দিন থেকে জনগনের দেওয়া ২০০ কিলো রুপো ও ১০০ ভরি সোনার গয়না দিয়ে পুলিশের নিরপত্তায় সাজানো হয় এবং এই পুজোর খরচের জন্য কোন চাঁদা তোলা হয় না। জনগনের দানে দেওয়া টাকাতেই বড় করে আয়োজিত হয় বড়মার পুজো।

এই পুজোর এতটাই প্রভাব যে ১লক্ষের বেশী মানুষ বাংলার বিভিন্ন প্রান্তের পাশাপাশি বিভিন্ন রাজ্য সহ পার্শবর্তী বাংলাদেশ থেকেও কালিপুজোর দিন এখানে পুজো দিতে আসেন এবং ঠাকুর দেখতে আসেন। যার জেরে প্রায় ১ লক্ষেরও বেশী মানুষ অঞ্জলি দেন এবং দেড় লক্ষ মানুষের পুজো নেওয়া হয় বলে জানিয়েছে পুজো কমিটি। নৈহাটি বড় কালিপুজো সমিতির সম্পাদক তাপস ভট্টাচার্য্য বললেন, ‘বড় মা ভক্তদের কাছে মনস্কামনা দেবী হিসেবেও পরিচিত’ । ‘সেই কারনে ভক্তরা মায়ের কাছে আসলে কেউ খালি হাতে ফিরে যায় না’। ‘সেই কারনেই নৈহাটির বড় মায়ের খ্যাতি দেশ বিদেশের ভক্তদের কাছে দিনদিন বাড়ছে’।