স্টাফ রিপোর্টার, বারুইপুর: ঐতিহ্য, পরম্পরা নাকি সরকারের নিষেধাজ্ঞা? এই দুই টানাপোড়েনে জিতেছে ঐতিহ্য রক্ষার তাগিদই৷ তাই আজ ৩৫০ বছর পেরিয়েও দুর্গা প্রতিমা বিসর্জনের পর নীলকণ্ঠ পাখি উড়িয়ে দেন তাঁরা৷ তাঁদের বিশ্বাস সেই পাখি উড়ে কৈলাশে পৌঁছে শিবকে জানাবে মা দুর্গা শ্বশুরবাড়ির উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন।

আর এই বিশ্বাস রেখেই প্রতিমা বিসর্জনের পরে নিয়মিত, প্রতি বছর নীলকণ্ঠ পাখি ওড়ানো হয় বারুইপুরের রায়চৌধুরি পরিবারে। প্রায় ৩০০ বছর ধরে প্রতিমা বিসর্জনের সময় নীলকণ্ঠ পাখি ওড়ান রায়চৌধুরি পরিবারের সদস্যরা৷

আরও পড়ুন: কেরলবাসীকে ১ লক্ষ টাকার চেক অবসর প্রাপ্ত শিক্ষকদের

বনেদিয়ানা বজায় রেখে দক্ষিণ ২৪ পরগণার এই জমিদার পরিবার ধুমধাম করে পুজো করেন৷ তবে সেই জৌলুস আজ আর নেই৷ এক সময় জেলার বাবুদের বাড়ির পুজো বলতে এই পুজোটিকেই চিনতো সকলে।

তবে প্রশ্ন অন্য জায়গায়৷ সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কীভাবে এই পরিবার শুধুমাত্র ঐতিহ্য বজায় রাখার জন্য নীলকণ্ঠ পাখি ওড়ান? এই প্রশ্ন প্রতি বছরই সামনে আসে৷

আরও পড়ুন: সুজিতের ‘বায়না’ মেটাতেই পিতৃপক্ষে পুজোর উদ্বোধনে মমতা

তবে এই পুজোর কিছু বিশেষত্ব রয়েছে৷ মহালয়ার পরদিন অর্থাৎ প্রতিপদ থেকেই শুরু হয়ে যায় দেবীর আরাধনা। এখনো সপ্তমী ও অষ্টমীতে পাঁঠাবলি হয় এখানে৷ নবমীতে হয় আখ ও চাল কুমড়ো বলি। ১৯৫৪ সালে সরকার জমিদারী নিয়ে নিলেও এখনও এই দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার বারুইপুর এলাকায় জমিদার বাড়ির পুজো বলতে এই বাড়ির পুজোকেই জানে সকলে। পুজোর কটাদিন বাইরে থেকে আসেন পরিবারে সব আত্মীয়রা৷

আরও পড়ুন: শহরে বাড়াতে হবে মহিলা নিরাপত্তা, দাবি যুব কংগ্রেসের

তাছাড়া জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এখনো বহু মানুষ আসেন এই বাড়ির পুজো দেখতে। প্রতিবছর দশমীতেই প্রতিমা বিসর্জনের রেওয়াজ রয়েছে। তবে এলাকার মধ্যে এই রায়চৌধুরীদের বাড়ির ঠাকুর প্রথম বিসর্জন দেওয়া হলে, তারপর একের পর এক বাকী পুজোগুলির প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়। বহুদিন ধরে এই রীতিই চলে আসছে।

পুজো শুরুর দিন থেকেই নিজেদের বনেদিয়ানা মতোই সমস্ত নিয়ম নীতি ও নির্ঘণ্ট মেনে চলে এই পুজো। শুধু দুর্গা পুজো নয় বাঙালীর বারো মাসে তের পার্বণের সবকটিই পালিত হয় রায়চৌধুরী বাড়িতে।

আরও পড়ুন: কলকাতার পুজোয় ‘প্রযোজক’ ট্রাম্প