নয়াদিল্লি: এবার দেশজুড়ে ‘চিন ভারত ছাড়ো’ ডাক দিল ব্যবসায়ী সংগঠন। কনফেডারেশন অফ অল ইন্ডিয়া ট্রেড (সি এ আই টি)এই সংগঠনের ছাতার তলায় ব্যবসায়ীরা এই বছরের ৯ আগস্ট বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করবে। চিনের পণ্য বয়কট করার ক্ষেত্রে এই ব্যবসায়ী সংগঠনের স্লোগান হল ‘ভারতীয় সামান- হামারা অভিমান’।এই সিএআইটি-র অধীনে রয়েছে ৪০,০০০ ব্যবসায়ী সংগঠন এবং তার সাত কোটি সদস্য।

এই আন্দোলনের কর্মসূচি হিসেবে ‌গোটা দেশে ৬০০টি শহরে চিন ভারত ছাড়ো কর্মসূচি পালন করা হবে বলে
এই ব্যবসায়ী সংগঠনের জাতীয় সভাপতি বি সি ভারতিয়া জানিয়েছেন।

সিএআইটির সাধারণ সম্পাদক প্রবীণ খান্ডেলকার জানিয়েছেন, গত ২০ বছর ধরে চিনা পণ্যে ভরে রয়েছে‌ খুচরা বাজার আর এখন সময় এসেছে এই বাজারকে চিনের পণ্যের থেকে মুক্ত করার এবং স্বনির্ভর ভারতীয় বাজার গড়ে তুলতে হবে যাতে চিনের উপর নির্ভরশীলতা কমানো যায়।

এই প্রসঙ্গে তারা জানিয়েছেন, এদেশের মানুষ ইতিমধ্যেই রাখি বন্ধনের দিন ‌ সিএআইটি-র প্রচার এর সমর্থনে সাড়া দিয়েছে। সম্প্রতি চিনের আচরনে ক্ষুব্ধ হয়ে এই ব্যবসায়ী সংগঠনটি জুন মাসে হিন্দুস্তানি রাখি পালনের ডাক দেয়। এজন্য দেশের ভিতরে রাখি তৈরির দিকে নজর দেওয়া হয়।

তার জন্য অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী ও ব্যবসায়িক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত মহিলাদের দিয়ে এই সংগঠনটি নিজেরাই এক কোটি রাখি তৈরি করেছে। এছাড়া বহু মহিলা নিজেরাই ঘরে বসে রাখি তৈরি করে থাকেন। তাদের তৈরি রাখিও বিভিন্ন রং এবং ডিজাইনের তৈরি হয়েছে। এর ফলে চিন থেকে একটিও সেদিন রাখি আমদানি করতে হয়নি বলে দাবি করেছে সিএআইটি।

গত কয়েক বছর ধরেই এদেশের হোলি কিম্বা দিওয়ালি যেকোনও উৎসবের সময় চিনা পণ্যে বাজার ছেয়ে যেতে দেখা যায়। বিশেষত চিন থেকে আসা ওইসব পণ্য খুবই সস্তা হওয়ায় ক্রেতাদের ভীষণভাবে আকৃষ্ট করে। ফলে ইদানিং উৎসবের মরসুমে এদেশের পণ্যকে পিছনে ঠেলে দিতে দেখা যায় চিনা পণ্যকে।

ব্যবসায়ীদের সংগঠন সিএআইটি-র দেওয়া তথ্য অনুসারে, প্রায় ৫০ কোটি রাখি বিক্রি হয়ে থাকে যার বাজার মূল্য ৬০০০ কোটি টাকা। এরমধ্যে গত কয়েক বছর ধরে চিনা রাখি বিক্রি হয় ৪০০০ কোটি টাকা এবং বাজারের বাকি ২০০০ কোটি টাকা এদেশের রাখি প্রস্তুতকারীদের দখলে ছিল।

এবছর দেশিয় রাখির দাপটে চিনের ক্ষতি হচ্ছে ৪০০০ কোটি টাকা। এমনটাই জানাচ্ছে দেশের ব্যবসায়ীদের সংগঠন কনফেডারেশন অফ অল ইন্ডিয়া ট্রেডার্স ।

এই সংগঠন ঘোষণা করেছে, দেশে পরবর্তী উৎসবগুলিতেও চিনের পণ্য বয়কট করে ভারতীয় পণ্য ব্যবহার করা হবে । সামনেই রয়েছে বেশ কয়েকটি উৎসব যেমন-জন্মাষ্টমী, গণেশ চতুর্থী, নবরাত্রি দশেরা ধনতেরাস দিওয়ালি ভাইফোঁটা ছট পুজো ইত্যাদি। বিশেষত হিন্দুস্তানি রাখির মতো হিন্দুস্তানি দেওয়ালির পালনের কথা বলেছে এই সংগঠনটি।

পপ্রশ্ন অনেক: নবম পর্ব

Tree-bute: আমফানের তাণ্ডবের পর কলকাতা শহরে শতাধিক গাছ বাঁচাল যারা