সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা: দ্বিতীয় দিনের ট্রেড ইউনিয়নের ধর্মঘট কলকাতায় কি প্রভাব ফেলতে পারল? মহানগরের সার্বিক যে চিত্র তা স্পষ্ট বলে দেবে ডাহা ফ্লপ। কিন্তু বাম নেতা রবিন দেব জানালেন, এর মূলে রয়েছে অঘোষিত ১৪৪ ধারা। যা কোনও নোটিশ ছাড়াই ঘোষিত হয়েছে কলকাতার বুকে।

দ্বিতীয় দিনের ধর্মঘটের শুরুটা যেন ৮ জানুয়ারির রিপিট টেলিকাস্ট। সকালে সবার প্রথমে ধরমঘটিরা ব্যহত করে দেয় শিয়ালদহ শাখার রেল চলাচল। তারপরে যাদবপুরে পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি সহ আবারও বাম নেতা সুজন চক্রবর্তীর গ্রেফতার। রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় বামেদের ধর্মঘট চিত্র স্পষ্ট হলেও বিক্ষিপ্ত কয়েকটি ঘটনা বাদে বুধাবারের বনধ চিত্র ছিল সম্পূর্ণ আলাদা।

সকাল ৯টার সময় হাওড়া ষ্টেশনে যথারীতি বাসে বাদুর ঝোলা ভিড় সঙ্গে কর্মব্যস্ত দিনে মহানগরের রাস্তার চেনা যানজট। অর্থাৎ সচল কলকাতা, অচল বনধ। বর্ষীয়ান বাম নেতা রবিন দেব প্রথম দিন থেকেই যথেষ্ট সক্রিয় ছিলেন এই ধর্মঘটে। তিনি মনে করছেন, “রাস্তাঘাটে যে চিত্র দেখা গিয়েছে সেটা স্পষ্ট কিন্তু আদতে তা জোর করে করা হয়েছে। আমাদের প্রতিবাদকে থামিয়ে রাখবার প্রচেষ্টা চালানো হয়েছে। আমি বলছি শহরে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। তাও বিনা নোটিশে।”

একইসঙ্গে তিনি বলেন , “আমাদের ছেলেরা গতকাল বড় রাস্তায় বেরোতেই প্রচুর বাধা দেওয়া হয়েছে। তাই আমরা গলির মধ্যে দিয়ে আমাদের কার্যক্রম চালাচ্ছিলাম। সেখানেও বাধা দেওয়া হয়েছে।”

 

তাঁর দাবি, সকালে টালিগঞ্জ অঞ্চলে তাদের মিছিল বেরিয়েছিল গলির ভিতরে। সেখানে তাদের আটকে দেওয়া হয়। আটক করা হয় ধর্মঘটিদের। একই ঘটনার সম্মুখীন হতে হয় মৌলালিতেও। বাম নেতার কথায়, “এরপরের ঘটনা সন্তোষপুরে। ওখানে আমাদের মিছিলকে আটকে দিল। কেন কথা থেকে এসব কোনও কথা নেই। মিছিল করতে না দেওয়া অনেকটা জোর জুলুমের মতো।”

তিনি বলেন, “আর্মহার্সট ষ্ট্রীট সংগ্রাম চট্টোপাধ্যায় থেকে শুরু করে ইন্দ্রজিতের মতো নবীন নেতাদের গ্রেফতার করে নিয়ে গিয়েছে। ওরা ওদের কাজ করে পার্টি অফিসে রেস্ট নিচ্ছিল। হঠাৎ পুলিশ ঢুকে ওদেরকে বলেছে ১৪৪ ধারা আছে একসঙ্গে এতজন বসা যাবে নয়া। বুঝলাম নয়া ঘরের ভিতরে কিভাবে ১৪৪ ধারা জারি হয়!।” ওই বাম নেতাদের জামিন অযোগ্য ধারায় গ্রেফতার করা হয়েছে বলে অভিযোগ রবিন দেবের।

রবিনবাবু আরও জানিয়েছেন, “কোনও ব্যাঙ্ক খোলা নেই এবং আমরা আমাদের কার্যক্রম এবং আমাদের যে দাবি তা পৌঁছে দিতে সক্ষম হয়েছি বলে আমি মনে করি। তাই আমি মনে করি রাস্তায় গাড়ি চললেও আমাদের কাজে আমরা সফল। তাই আজকেও ধর্মঘট সফল।”

বর্ষীয়ান নেতা মনে করেন সরকারি চাকুরেদের ভয় দেখিয়ে অফিসে আনা হয়েছে নয়া হলে তাঁদের এই বনধকে সমর্থন জানিয়ে কেউ অফিসে আসতেন নয়। রবিন দেব বলেন, “আমরা তৃণমূলকে ডেকেছিলাম। উদ্দেশ্য ছিল কেন্দ্রের বিরুদ্ধে লড়াই করা। ওরা বলছে কেন্দ্র থেকে বিজেপিকে সরাতে হলে এক হতে হবে। তাই যখন তাহলে আমাদের কাজ করতে বাধা দিল কেন? প্রমানিত হয়ে গেল ওইসব কথা আসলে লোকদেখানি আসলে তৃণমূল বিজেপি একসঙ্গে হাতে হাত মিলিয়ে কাজ করছে।”