নয়াদিল্লি : আজকের যুগের মায়েদের কাছে ডায়াপার এর জনপ্রিয়তা এবং এটির চাহিদা ব্যাপক। আর এর কারণ ডায়াপার হাতের কাছে পেলেই যেন মায়েরা হাঁফ ছেড়ে বাঁচেন।

কিন্তু আপনি কি জানেন, ডায়াপার বাচ্চাদের জন্য কি পরিমাণ ক্ষতির কারণ? নিজের অজান্তেই আপনি আপনার সন্তানের জীবনে কি পরিমাণ ক্ষতি ডেকে আনছেন!

একটি সহজলভ্য ডায়াপার যেমন আপনাকে সারারাত নিশ্চিন্ত রাখে। উল্টো দিকে নিয়মিত এবং ঘন ঘন শিশুদের ডায়াপার পড়িয়ে রাখার অভ্যাস বাচ্চার শরীর-স্বাস্থ্যের উপর ব্যাপক কুপ্রভাব ফেলতে পারে। হ্যাঁ ঠিকই শুনছেন।

ডায়াপারে থাকা রাসায়নিক পদার্থ এবং সুগন্ধি বস্তু আপনার শিশুর ঢাকা অংশকে প্রভাবিত করে। যার ফলে র্যাস,ত্বকের সমস্যা সহ অ্যালার্জি,চুলকানির মতো নানারকম রোগ বাসা বাঁধে শিশুর শরীরে। এমনটাই জানাচ্ছেন টক্সিক লিংক নামের দিল্লির একটি গবেষণা সংস্থার বিজ্ঞানীরা।

ওই সংস্থার বিজ্ঞানীদের দাবি, ভারতের বাজারে শিশুদের জন্য যে সমস্ত ডিসপোজেবল ডায়াপার বিক্রি হয় সেগুলির মধ্যে ফ্যালেট জাতীয় একধরনের রাসায়নিক থাকে। এই রাসায়নিক এনডোক্রিন নিঃসরণকে প্রভাবিত করে। যা শিশুর স্বাস্থ্যের উপরে মারাত্মক প্রভাব ফেলে।

এদিকে যুগ যত আধুনিক হচ্ছে ততই শিশুকে প্যান্টের ভিতরে ডায়াপার পরিয়ে রাখার প্রবণতা বাড়ছে অভিভাবকদের মধ্যে। কিন্তু এর ফলে শিশুর শরীরে ধীরে ধীরে নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে। এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এনেছেন বিজ্ঞানীদের এই সাম্প্রতিক সমীক্ষা।

জানা গিয়েছে, টক্সিক লিংক (Toxics Link) নামের দিল্লি ভিত্তিক সংস্থার সমীক্ষা অনুসারে, ভারতে বাজার শিশুদের জন্য ব্যবহৃত ডায়াপারগুলিতে ২.৩৬ পিএমএম থেকে ৩০২.২৫ পিপিএম ফ্যালেট নামক রাসায়নিক পদার্থের উপস্থিতির প্রমাণ মিলেছে। পরীক্ষার জন্য স্থানীয় বাজার এবং ই-কমার্স সাইটগুলি থেকে এই সমস্ত ডায়াপারের নমুনা সংগ্রহ করেছিল ওই সংস্থাটি।

মোট ১৯টি ব্র্যান্ডের ২০টি ডায়াপারের নমুনা এনএবিএল স্বীকৃত ল্যাবে পরীক্ষা করানো হয়। পরীক্ষা রিপোর্টে ডায়াপারের প্রত্যেকটি নমুনায় ফ্যালেটের উপস্থিতির বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

আর এই প্রসঙ্গে টক্সিক লিংক এর প্রোগ্রাম কো-অডিনেটর অলোকা দুবে বলেছেন, ‘বিভিন্ন শিশুপণ্যে সর্বাধিক বিষাক্ত ফ্যালেট ডিইএইচপি’র ব্যবহার হয় নিয়ন্ত্রিত অথবা নিষিদ্ধ। কিন্তু ভারতে যে সমস্ত ডায়াপার বিক্রি হয় তাতে ২.৩৬ পিপিএম ২৬৪.৯৪ পিপিএম এই বিষাক্ত রাসায়নিকের উপস্থিতির সন্ধান পাওয়া গিয়েছে।’

ওই স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার অ্যাসোসিয়েট ডিরেক্টর সতীশ সিনহা বলেছেন, ফ্যালেট খুবই ক্ষতিকারক। যে পণ্যে এই রাসায়নিক ব্যবহার করা হয় পরে সেখান থেকে সহজেই ছড়িয়ে পড়ে। শিশুরা দিনের পর দিন ডায়াপার পরে থাকে, যা তাদের গোপনাঙ্গকে স্পর্শ করে।

এর থেকে রোমকুপের মাধ্যমে এই রাসায়নিক শিশুর শরীরে প্রবেশ করে। যা শিশুর স্বাস্থ্যের উপরে ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব ফেলে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। সুতরাং কেন্দ্রীয় সরকারের উচিত অবিলম্বে শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার কথা ভেবে ডায়াপার তৈরির ব্যাপারে সরকারি বিধিনিষেধ লাগু করা। এছাড়াও ডায়াপার তৈরির সময় যাতে খুব বেশি রাসায়নিক পদার্থের ব্যবহার করা না হয় সেদিকেও খেয়াল রাখা।

শুধু তাই নয়, শিশুদের ডায়াপারের ব্যবহার নিয়ে সারা দেশের মধ্যে টক্সিন লিংক-ই প্রথম সমীক্ষা করে দেখেছেন এবং ভারতের বাজারে বিক্রি হয় বিভিন্ন শিশু পণ্যগুলিতে পাঁচটি সাধারণ ফ্যাটলেটগুলির জন্য মানও নির্ধারণ করেছে এই সংস্থা।

আর এই গবেষণাতেই দেখা গিয়েছে, বিভিন্ন পণ্য তৈরি এবং তা বিক্রির ক্ষেত্রে নানা সরকারি নিষেধাজ্ঞা থাকলেও বাচ্চাদের ডায়াপার তৈরি এবং এর ব্যবহার বিধি নিয়ে সারাদেশের কোথাও কোনও গাইডলাইন নেই।

যারফলে এই ডিসপোজাল ডায়াপার প্রস্তুতকারক সংস্থা গুলির উপর কোনও নিয়ন্ত্রণ নেই সরকারের। তবে অবশ্যই মায়েদের এই ব্যাপারে সবার আগে সাবধান হতে হবে। কারণ, হিতে বিপরীত হতে কতক্ষন!

জেলবন্দি তথাকথিত অপরাধীদের আলোর জগতে ফিরিয়ে এনে নজির স্থাপন করেছেন। মুখোমুখি নৃত্যশিল্পী অলোকানন্দা রায়।