স্টাফ রিপোর্টার, জলপাইগুড়ি: জাঁকিয়ে শীত পড়তেই শতাব্দী প্রাচীন জলপাইগুড়ির বৈকুন্ঠপুর রাজবাড়ির দিঘিতে আশ্রয় নিয়েছে, কয়েক হাজার পরিযায়ী পাখি। দিনভর তাদের কিচিরমিচির শব্দে মুখরিত হচ্ছে গোটা এলাকা। পাখির দলকে দেখার জন্য দূর দুরান্ত থেকে রাজবাড়ির দিঘির পার্কে ভিড় জমাচ্ছে পর্যটকেরা। শুধু তাই নয়, দিঘির জলে বোটিং করতে করতে পাখিদের ভিড়ে মিশে যাচ্ছেন অনেকেই।

বেশ কয়েক বছর ধরেই এই সময় জলপাইগুড়ির বৈকুন্ঠপুর রাজবাড়ির শতাব্দী প্রাচীন দিঘিতে দেখা মিলছে, পাহাড়ি হিমালয়ান এলাকা থেকে আসা ঝাঁকে ঝাঁকে পরিযায়ী পাখির।

বড় দিঘির পাশাপাশি রাজবাড়ির পাশে থাকা পুকুরেও কয়েকশো পর্যটক পাখি আস্তানা গড়েছে। রাজবাড়ির দিঘিতে বোটিং করতে এসে পরিযায়ী পাখিদের দেখে মোহিত হচ্ছেন শহরের অসংখ্য মানুষ। এমনকি বাইরে থেকে আসা পর্যটকরাও জলপাইগুড়ির রাজবাড়িতে বেড়াতে এসে পরিযায়ী পাখিদের প্রেমে মজছেন।

জলপাইগুড়িতে বেড়াতে আসা কলকাতার মডেল দিশা মল্লিক ও তাঁর ভাই জিৎ মল্লিক বলেন, জলপাইগুড়ির রাজবাড়ি পার্কের সৌন্দর্যে মুগ্ধ তাঁরা। এত সুন্দর মনোরম পরিবেশ কলকাতা‌র মত শহরে এখন আর সেভাবে দেখা যায় না। বিশেষ করে এখানকার পরিযায়ী পাখি‌দের দল তাঁদের সবচেয়ে বেশি মোহিত করেছে বলে জানান তিনি। এছাড়াও বৈকুন্ঠপুর রাজবাড়ি দিঘির আশেপাশে রয়েছে অসংখ্য প্রাচীন গাছ। যা এই দিঘির সৌন্দর্য অনেকটাই বাড়িয়ে দিয়েছে।

কলকাতার সন্তোষপুর থেকে বেড়াতে আসা সৌমি সাহা বলেন, ”বৈকুন্ঠপুর রাজবাড়ির পরিবেশ সত্যিই খুব মনোরম। শীতের শুরুতেই এখানে এত পাখি এসে ঘাঁটি গেড়েছে দেখে খুব ভাল লাগছে।”

এই বিষয়ে জলপাইগুড়ির সায়েন্স অ্যান্ড নেচার ক্লাবের সম্পাদক রাজা রাউত বলেন, ‘এই পাখি‌দের মূল বাসস্থান হিমালয়ের বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকায়। ফলে এই পাখিদের বিষয়ে সাধারণ মানুষকে আরও বেশি সচেতন করা উচিত। যাতে তাদের খাবার ও উপযুক্ত পরিবেশের ভারসাম্য ঠিকমত বজায় থাকে।’

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে যেভাবে পুকুর এবং জলাশয় গুলি ভরাট করে দেওয়া হচ্ছে তাতে বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। এই অবস্থায় এখানকার পাখিদের পাশাপাশি পরিযায়ী পাখিরাও যাতে বেঁচে থাকতে পারে, সেই বিষয়ে মানুষকে আরও বেশি করে সচেতন হতে হবে।