স্টাফ রিপোর্টার, বাঁকুড়া: ‘জয়পুরের জয় হোক’ এই বার্তা দিয়েই পর্যটন শিল্পের বিকাশে তৃতীয় বর্ষ জয়পুর পর্যটন উৎসবে দামামা বেজে গেল। আগামী ১৫ ডিসেম্বর জয়পুর পর্যটন উৎসবের সূচনা করবেন রাজ্যের শ্রম, আইন, বিচার বিভাগ ও জনস্বাস্থ্য কারিগরী দপ্তরের মন্ত্রী মলয় ঘটক।

উপস্থিত থাকবেন জেলাশাসক ডাঃ উমাশঙ্কর এস, পুলিশ সুপার কোটেশ্বর রাও, বিষ্ণুপুরের মহকুমাশাসক মানস মণ্ডল, সভাধিপতি মৃত্যুঞ্জয় মুর্ম্মু, সাংসদ সৌমিত্র খাঁ, বিশিষ্ট চিত্র পরিচালক শতরুপা সান্যাল সহ জেলার বিধায়করা সহ প্রশাসনের শীর্ষ পদাধিকারীরা।

২০১৬ সালে বাঁকুড়ার জয়পুর এলাকার পর্যটন শিল্পের বিকাশে মূলত এলাকার বিধায়ক ও মন্ত্রী শ্যামল সাঁতরার উদ্যোগে ‘জয়পুর পর্যটন উৎসব’ শুরু হয়। এবার সেই উৎসব তৃতীয় বছরে পড়লো। আগামী ১৫ ডিসেম্বর শুরু হয়ে ১৯ ডিসেম্বর শেষ হবে। বিভিন্ন দিনে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার পাশাপাশি, স্থানীয় ও কলকাতার শিল্পীরা উপস্থিত হয়ে অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন।

এছাড়াও বাঁকুড়ার জেলার বিভিন্ন অংশের লোক সংস্কৃতির অনুষ্ঠানের পাশাপাশি বিষ্ণুপুর ঘরাণা ও জয়পুরের নিজস্ব সংষ্কৃতি এই অনুষ্ঠান মঞ্চে তুলে ধরা হবে। এছাড়াও সরকারী পরিষেবার বিভিন্ন প্রচারের স্টল ও পর্যটন সংক্রান্ত নানান স্টল থাকবে বলে জানা গেছে। জয়পুর বিডিও অফিস সংলগ্ন মাঠ, গোকুলচাঁদ মন্দির ও ভাস্করানন্দ মঞ্চে পাঁচ দিনের এই পর্যটন উৎসব চলবে বলে জানা গেছে।

রবিবার জয়পুর ব্লক অফিসে এ বিষয়ে এক সাংবাদিক বৈঠকে উপস্থিত থেকে রাজ্যের মন্ত্রী ও উৎসব কমিটির সভাপতি শ্যামল সাঁতরা বলেন, “জয়পুরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা প্রাচীন স্থাপত্য ও ভাস্কর্য জনসমাজে তুলে ধরতে ও এলাকায় পর্যটন শিল্পের বিকাশে পর্যটন উৎসবের সূচনা হয়েছিল। প্রাচীন প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন, বিস্তীর্ণ বনভূমি ও বিশালাকার সমুদ্রবাঁধ রয়েছে জয়পুরে। সরকারি উদ্যোগে সমুদ্র বাঁধ সংস্কার করে পর্যটকদের রাত্রিবাসের জন্য কটেজ তৈরী হচ্ছে। বাঁকুড়া জেলার সবচেয়ে বড় মাকড়া পাথরে তৈরী গোকুল চাঁদ মন্দির এখানেই রয়েছে। এছাড়াও পর্যটকরা এখানকার দে পাড়া, কোলে পাড়ার প্রাচীন মন্দির সহ রাজগ্রামের রাজবাড়ি দেখার সুযোগ পাবেন। এই সবই সব শ্রেণীর পর্যটকদের কাছে তুলে ধরতেই এই পর্যটন উৎসবের সূচনা”৷

একই সঙ্গে তিনি বলেন, বিষ্ণুপুরের মল্ল রাজাদের প্রাচীন রাজধানী ছিল এই জয়পুরের প্রদ্যুম্ন গড়। যদিও পরবর্তীকালে তাঁরা বিষ্ণুপুরে রাজধানী স্থানান্তরিত করেন। তাই মল্লরাজাদের আদি রাজধানী প্রদ্যুম্নগড়ের পাশাপাশি সমগ্র জয়পুরে অসংখ্য দর্শনীয় স্থানগুলিতে পরিযায়ী পর্যটকদের প্রাচীন ইতিহাসের সাক্ষী থাকতে আসার অনুরোধ তিনি জানিয়েছেন। মন্ত্রী শ্যামল সাঁতরা আশাবাদী একদিন বিশ্ব পর্যটন মানচিত্রে বাঁকুড়ার জয়পুর একদিন জায়গা করে নেবে।

বিডিও বিট্টু ভৌমিক বলেন, আগামী ১৪ ডিসেম্বর জয়পুর পর্যটন উৎসব উপলক্ষে ‘রান ফর হেরিটেজ’ স্লোগানকে সামনে রেখে পুরুষ ও মহিলাদের ম্যারাথন দৌড় অনুষ্ঠিত হবে। একই সঙ্গে ঐ দিন দিবা রাত্রি ভলিবল প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। জয়পুরের সংস্কৃতি, পর্যটন ক্ষেত্রগুলি সকলের সামনে তুলে ধরতে এই উৎসবে সকলকে আসার অনুরোধও তিনি জানান।

এছাড়াও এদিন জয়পুর পর্যটন উৎসব উপলক্ষ্যে প্রয়াত শক্তিপদ সাঁতরা ও গীতা সাঁতরার স্মরণে ৬৬২ জন প্রতিযোগীকে নিয়ে ছোটোদের বসে আঁকো প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হলো। প্রতিযোগীদের উৎসাহ দিতে সারাক্ষণ উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রী শ্যামল সাঁতরা নিজে। অভিনব এই উদ্যোগকে সকলে স্বাগত জানিয়েছেন।