স্টাফ রিপোর্টার, বর্ধমান: বর্ধমানের পর্যটন উৎসবে জায়গা পেল না সেই জেলার পর্যটন ক্ষেত্রগুলিই৷ ফলে রীতিমতো ক্ষুব্ধ সাধারণ মানুষ৷ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে রাজ্যের সমস্ত জেলার পর্যটনকেন্দ্রগুলিকে পর্যটন মানচিত্রে ঠাঁই দেবার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

পূর্ব বর্ধমান জেলাতেও একটানা ১৫দিন ধরে ১০০ দিনের প্রকল্পে শুরু হয়েছে পর্যটন কেন্দ্রগুলিকে সাজিয়ে তোলার কাজ। তবুও পূর্ব বর্ধমান জেলায় অনুষ্ঠিত এই তিনদিনের পর্যটন উত্সবে ঠাঁই পেল না বর্ধমানের দ্রষ্টব্য স্থানের তালিকা।

খোদ পর্যটন উত্সবের উদ্বোধক রাজ্যের প্রাণী সম্পদ বিকাশ দফতরের মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ রীতিমত অস্বস্তিতে পড়েছেন এই ঘটনায়। তিনিও জানিয়েছেন, বর্ধমানের মানুষ বর্ধমানের কোথায় কোথায় কি কি দেখার জিনিস রয়েছে তা জানেন না। এগুলিকে তুলে ধরা প্রয়োজন। একইসঙ্গে পর্যটন উত্সবে কেন বর্ধমানের দ্রষ্টব্য স্থানগুলির তালিকা নেই সে ব্যাপারেও ব্যবস্থা নেবার নির্দেশ দিয়ে যান।

যদিও উত্সবের দায়িত্বে থাকা রাজ্য পর্যটন দপ্তরের আধিকারিক সঞ্জয় সামন্ত জানিয়েছেন, বর্ধমানে অনুষ্ঠিত হচ্ছে বলেই হয়ত দফতর থেকে বর্ধমানের দ্রষ্টব্য স্থানগুলির তালিকার বদলে অন্য জেলাগুলিকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।

তবে উত্সবের শেষ দিনেও কোনও তালিকা হাতে পেলেন না সাধারণ মানুষ। বুধবার উত্সবের শেষ দিনে সঞ্জয় সামন্ত জানিয়েছেন, এদিন বিকাল পর্যন্ত রাজ্য পর্যটন দফতরের স্টল থেকে সাকুল্যে ৯জন বেড়াতে যাবার বিষয়ে বুকিং করেছেন।

উল্লেখ‌্য, এই পর্যটন উত্সবেই সরকারিভাবে কোথাও যাবার জন্য বুকিং করলে মোট খরচের ৩০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দেবার ঘোষণা করা হয়। খোদ পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের অধ্যক্ষ দেবাশীষ নাগ নিজে প্রথম বুকিং করেন। কিন্তু তারপরেও প্রত্যাশিতভাবেই বুকিং হয়নি।

এব্যাপারে সাধারণ মানুষের বক্তব্য, তেমন প্রচারই পায়নি এই উত্সব। যাঁরা ভ্রমণ পিপাসু তাঁদের কাছে এই উত্সবের বার্তাই পৌঁছায়নি। অনেকেই বলেছেন, যে সময়ে এই উত্সব করা হয়েছে তা কোনো ছুটির দিন করলে অনেকেই উত্সবে আসতে পারতেন।