বিশেষ প্রতিবেদন: উৎসবের অবকাশে অনেকেই বেড়াতে যেতে ভালবাসেন। ভ্রমণপ্রিয় বাঙালির সারা বছরই বেড়ানো নিয়ে নানা পরিকল্পনা থাকে। কেউ কনডাকটেড ট্যুরে যান। কেউ কেউ আবার একান্তে ডানা মেলেন অচেনা দিগন্তের ক্যানভাসে। যদিও সাহিত্যিক বুদ্ধদেব গুহ মনে করেন, ‘ভ্রমণ গন্তব্যে নেই, ভ্রমণ আছে রাস্তায়। রাস্তার দু’ধারের জনপদে’।

উৎসবের অবকাশে কোথায় বেড়াতে যাবেন– এই নিয়ে সারা বছর ধরেই বিশেষ পরিকল্পনা থাকে বাঙালির। কেউ পছন্দ করেন পাহাড়। কেউ আবার সমুদ্র ভালবাসেন। অনেকের পছন্দ মরুভূমি। এছাড়াও রয়েছে মন্দির পরিভ্রমণ। আবহাওয়া পালটাতে কে না ভালবাসেন! রবি ঠাকুর লিখেছিলেন– ‘হেথা নয়, অন্য কোথা, অন্য কোনোখানে’।

এবার আপনার বেড়ানোর ঠিকানা হতেই পারে পশ্চিম সিকিমের ছোট্ট সুন্দর গ্রাম ওখড়ে। এই গ্রামের কাছেই রয়েছে দার্জিলিং। দার্জিলিঙে বেড়াতে যাননি এমন ভ্রমণরসিক বোধ হয় খুঁজে পাওয়া দায়! কিন্তু, অনেকেই জানেন না, দার্জিলিঙের কাছেই রয়েছে সুন্দরের মনোরম ঠিকানা ওখড়ে। গ্রামটি দেখতে ছবির মতো সুন্দর। যারা অফবিট ভ্রমণ ভালবাসেন তাদের কাছে দ্রুতই প্রিয় হয়ে উঠবে ওখড়ে।

এই শৈল জায়গাটি নির্জানতাপ্রিয়দের কাছে আদর্শ গ্রামের সমান। রয়েছে রডোডেনড্রনের, ফার, ওক ও হেমলক ঘেরা জঙ্গল। জেনে রাখুন, এখানে বিদ্যুতের ব্যবস্থা নেই। রাতের অন্ধকারে অজস্র জোনাকি ঘুরে বেড়ায়। এ দৃশ্য দেখতে লাগে দারুণ। এই পাহাড়ে দাঁড়িয়ে অপরূপ কাঞ্চনজঙ্ঘার রূপ উপভোগ করা যায়।

শিয়ালদহ থেকে রাত ৮ টা বেজে ৩০ মিনিটের ১৩১৪৯ কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেস ধরুন। পরদিন সকালে নিউ জলপাইগুড়ি নামুন। সেখান থেকে ভাড়া গাড়িতে সরাসরি ওখড়ে পৌঁছনো যায়। স্টেশনের বাইরে ভাড়া গাড়ি মেলে। খরচ ৪০০০ থেকে ৫০০০-এর মধ্যে। দূরত্ব প্রায় ১২৫ কিলোমিটার। এখন এখানে নানা মানের হোটেল গড়ে উঠেছে। সাধ্য মতো থাকার জায়গা বেছে নিন। তবে আগে থেকে বুকিং থাকলে ভাল। তাহলে আর দেরি কেন? আজই আপনার ট্যুর প্ল্যান করে ফেলুন।