বিশেষ প্রতিবেদন: অনেকেই লাভায় বেড়াতে গিয়েছে। কিন্তু জানেন কি, লাভা থেকে মাত্র আট কিলোমিটার দূরেই রয়েছে এক অবাক পৃথিবী কোলাখাম। মাত্র ৬০টি ঘর নিয়ে নেপালি ‘রাই’ সম্প্রদায়ের মানুষের বসতি গড়ে উঠেছে এই জনপদে। তারই ফাঁকে ফাঁকে কয়েকটি রিসর্ট রয়েছে নেওড়া ভ্যালি ফরেস্টের ঠিক গায়েই। যদি কোনও পথভ্রান্ত ভালুক বা বুনো শুয়োর এখানে এসে পড়ে– তাহলে কপাল ভালো।

বনের ভেতরে ঢোকার ব্যাপারে বনবিভাগের বারণ আছে। তবু অল্পবিস্তর হাঁটাহাঁটি চলতে পারে। কাছেই আছে ছাঙ্গে ফলস এবং চেল নদী। অপার নীল আকাশে উন্মুক্ত কাঞ্চনজঙ্ঘা, কাবরু, পান্ডিম, সিনিয়লচু ইত্যাদি। সময় এখানে থমকে আছে। ব্যস্ত পৃথিবী থেকে কয়েকটা দিন ছুটি নিয়ে এখানে ঢুকে পড়া যায়, এক অনন্ত সৌন্দর্যখনির ভেতরে।

কোলাখাম তার অপূর্ব নিসর্গ নিয়ে পর্যটকদের স্বাগত জানাতে তৈরি। চোখ মেললে সামনে দেখবেন ছাঙ্গে জলপ্রপাত আর তুষারধবল কাঞ্চনজঙ্ঘা। কোলাখাম থেকে যে রাস্তাটি চলে যাচ্ছে লাভার দিকে, তার প্রায় সবটাই গিয়েছে নেওড়া ভ্যালি জঙ্গলের ভিতর দিয়ে। এই রাস্তা ধরে এগোলে চোখে পড়ে অজস্র পাখি। ডার্ক সাইডেড ফ্লাই ক্যাচার, রুফাস সিবিয়া, গ্রিন-ব্যাকড টিট ইত্যাদি।

সন্ধেবেলা কোলাখাম থেকে দেখা যায় আলো ঝলমলে রিশপ। মনে হয় অন্ধকার পাহাড়ের গায়ে অজস্র উজ্জ্বল হীরকখণ্ড। ছাঙ্গে জলপ্রপাতের উদ্দেশে যেতে হবে ঘন জঙ্গল চিরে। কানে আসবে জলপ্রপাতে প্রবল শব্দ। ৩০০ ফুট উঁচু থেকে ঝাঁপ দিয়েছে জলধারা। যদি বাংলোর চৌহদ্দিতেও গা এলিয়ে বসে থাকেন, তবুও ঝকঝকে নীল আকাশের গায়ে চকচকে কাঞ্চনজঙ্ঘাকে দেখে মন জুড়িয়ে যাবে।

কীভাবে যাবেন: শিয়ালদহ থেকে রাত্রি ৮টা ৩০য়ে ১৩১৪৯ কাঞ্চনকন্যা এক্সপ্রেসে চেপে পরদিন সকাল ১০টায় নামুন নিউ মাল জংশনে। সেখান থেকে গাড়িতে লাভা। লাভা থেকে আট কিলোমিটার দূরে কোলাখাম। নিউ মাল থেকে লাভার দূরত্ব ৫২ কিলোমিটার। কোথায় থাকবেন: কোলাখামে থাকার জন্য রয়েছে নেওড়া ভ্যালি ইকো হাট, ফোন ৯৬৭৪৯০০১০১। ভাড়া ১৬০০-২৩০০ ভাড়া টাকা। সঙ্গে ব্রেকফাস্টের খরচ ধরা আছে। এ ছাড়াও রয়েছে কোলাখাম রিট্রিট, ফোন ৯৮৩০১৪৭৭১৮।